• ই-পেপার

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের জানালা ভেঙে বের হয়ে গেল যাত্রীর মাথা

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই: বাঘের গালিবফ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই: বাঘের গালিবফ
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। ছবি : রয়টার্স

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ভঙ্গ করলে তেহরান নিজেদের রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে জবাব দেবে।

শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার গণ পরামর্শক পরিষদের স্পিকার আহমদ মুজানির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় গালিবফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই। তিনি আরো দাবি করেন, সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা চলাকালে তিনি এই অবস্থানের কথা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকেও জানিয়েছিলেন।

গালিবফ বলেন, ‘আলোচনার সময় আমি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে বলেছি, আমরা আপনাদের ওপর কোনো আস্থা রাখি না। আমার মতে, শুধু সেই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে, যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। আমরা কখনোই আমাদের দেশের প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি বন্ধ করিনি। যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা ভঙ্গ করে, তাহলে আমরা পূর্ণমাত্রার প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত। আমরা দৃঢ়ভাবে তাদের মোকাবিলা করব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেব।’

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের মতে, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি এখন শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা এতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি শেষ।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানে পৌঁছেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আবার শুরু করার পথ তৈরি করা।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের বৈঠকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দুই দেশের সম্ভাব্য নতুন আলোচনা শুরুর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
 

আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত : ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই। 

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা এতে রাজি হয়েছি। তবে আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’

এক সপ্তাহের সংঘাতের পর শুক্রবার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। এর আগে কাতার ও সৌদি আরবের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা করে। শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে দাবি জানিয়েছে, তারা যেন প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর আর কোনো হামলা করবে না এবং সব নৌপথ বাধাহীনভাবে উন্মুক্ত থাকবে।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ করেনি। বরং কাতারের একজন মধ্যস্থতাকারীকে তেহরানে স্বাগত জানাতে সম্মত হয়েছে।

রয়টার্সের একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার কাতারের প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে আলোচনা করতে ওমান সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির ছয়টি শহরে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে সংঘাতের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও সতর্ক করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে তেহরান তার জবাব দেবে। পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলবাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

থাইল্যান্ডে নতুন প্রজাতির ডাইনোসর শনাক্ত, ঘাড়ের দৈর্ঘ্য ক্রিকেট মাঠের সমান

অনলাইন ডেস্ক
থাইল্যান্ডে নতুন প্রজাতির ডাইনোসর শনাক্ত, ঘাড়ের দৈর্ঘ্য ক্রিকেট মাঠের সমান
ছবি: রয়টার্স

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কালাসিন প্রদেশে পাওয়া জীবাশ্ম থেকে নতুন এক প্রজাতির ডাইনোসর শনাক্ত করেছেন দেশটির জীবাশ্মবিজ্ঞানীরা। উদ্ভিদখেকো এই ডাইনোসরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘উরাগাসরাস কালাসিনেনসিস’।

গবেষকদের ধারণা, এই ডাইনোসর প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করত। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল অস্বাভাবিক লম্বা ঘাড়। প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ মিটার বা ৬৬ ফুট পর্যন্ত হতে পারত। যা প্রায় একটি ক্রিকেট মাঠের দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি। গবেষণাটির প্রধান লেখক থাইল্যান্ডের মহাসারাখাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আপিরাত নিলফানাফান বিবিসি থাইকে বলেন, পাওয়া জীবাশ্মটি বড় একটি সংগ্রহের অংশ। ২০০৮ সালে প্রথম এই জীবাশ্মের স্থানটি শনাক্ত করা হয়। তিনি জানান, ওই সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি সাপের আঁশের মতো দেখতে কিছু জীবাশ্মের অংশ খুঁজে পান। পরে গবেষকরা ওই এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করেন।

যে এলাকায় এই আবিষ্কার হয়েছে, সেই 'ফু নই' অঞ্চলটি শেষ জুরাসিক যুগের বিভিন্ন জীবাশ্মের জন্য পরিচিত। ওই স্থান থেকে পাওয়া জীবাশ্মের ৯০ শতাংশের বেশি ছিল ডাইনোসরের বিভিন্ন অংশ। গবেষক দল সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে ডাইনোসরের দাঁত, হাড় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের জীবাশ্ম সংগ্রহ করে। তবে নতুন প্রজাতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে একটি বিশেষ পৃষ্ঠদেশের কশেরুকা বা মেরুদণ্ডের হাড়। গবেষকদের মতে, ওই কশেরুকায় থাকা বিশেষ বৈশিষ্ট্যই প্রমাণ করে যে এটি আগে শনাক্ত হওয়া কোনো ডাইনোসরের নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি। 

সিটি স্ক্যান পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, উরাগাসরাস কালাসিনেনসিস ছিল ‘সৌরোপড’ দলের ডাইনোসর। এটি ‘মামেনচিসাউরিডি’ পরিবারের সদস্য। মামেনচিসাউরিডি পরিবারের ডাইনোসরগুলো তাদের অত্যন্ত লম্বা ঘাড়ের জন্য পরিচিত ছিল। গবেষকদের ধারণা, এই লম্বা ঘাড়ের কারণে তারা গাছের উঁচু অংশের পাতাও সহজে খেতে পারত। এই পরিবারের বেশির ভাগ ডাইনোসরের জীবাশ্ম চীনে পাওয়া গেছে। তবে থাইল্যান্ডে এ ধরনের ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার এটিই প্রথম। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ডাইনোসরটির হাড়ের ভেতরের গঠনেও বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। এর মধ্যে ছিল লামিনা নামের সহায়ক হাড়ের ওয়াই-আকৃতির বিন্যাস। 

ড. নিলফানাফান বলেন, ডাইনোসরটির হাড়ের ভেতরের বায়ুকুঠুরির গঠন অন্য কোনো পরিচিত ডাইনোসরের মতো নয়। এই বৈশিষ্ট্যই এটিকে আলাদা করেছে। তিনি জানান, নতুন একটি প্রজাতি শনাক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের কিবোর্ড ভেঙে ফেলেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি তখন প্রচণ্ড আনন্দ ও স্বস্তি অনুভব করেছিলেন। গবেষণাটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে থাইল্যান্ডে পাওয়া জীবাশ্ম থেকে আরেকটি লম্বা ঘাড়ের উদ্ভিদখেকো ডাইনোসরের সন্ধান পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ওই ডাইনোসরের নাম ‘নাগাটাইটান’। নাগাটাইটানকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ডাইনোসরগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন, যা নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির ওজনের সমান। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার বা ৮৮ ফুট।

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তিকর’ নকশা বদলাতে মেটাকে ইইউর সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তিকর’ নকশা বদলাতে মেটাকে ইইউর সতর্কবার্তা
ছবি: রয়টার্স

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু ফিচার বা নকশা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে বলে অভিযোগ তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এসব ‘আসক্তিকর’ নকশা পরিবর্তনের জন্য মেটাকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। তা না হলে কোম্পানিটিকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশন প্রাথমিক তদন্তে বলেছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কয়েকটি ফিচার ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো বেশি হতে পারে। কমিশনের মতে, শেষ না হওয়া স্ক্রল (ইনফিনিট স্ক্রল), নিজে থেকেই চালু হওয়া ভিডিও (অটোপ্লে) এবং ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় থাকতে উৎসাহ দেয়। এর ফলে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইইউ জানিয়েছে, মেটা যদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আনে, তাহলে কোম্পানিটিকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। কমিশনের ভাষ্য, এসব ফিচারের কারণে মানুষের মস্তিষ্ক এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবহারের অভ্যাসে চলে যায়। এতে ব্যবহারকারীরা বুঝতে না পেরেই দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান। ইউরোপীয় কমিশন বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বর্তমান নকশা কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ওপর কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, তা মেটা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। কমিশনের অভিযোগ, বিশেষ করে রাতে শিশুরা কত সময় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কাটাচ্ছে, সে বিষয়েও মেটার নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়।

রিলস ও স্টোরিজের মতো জনপ্রিয় ফিচার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে কমিশন। তাদের মতে, এসব ফিচার ব্যবহারকারীদের আরো বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে থাকতে উৎসাহিত করে। কিন্তু এসব ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে মেটার বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে সময় নিয়ন্ত্রণের জন্য যে টুল রয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাদের মতে, কিশোরদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকা কিছু নিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই বন্ধ করে দেওয়া যায়। ফলে এগুলো ব্যবহার কমাতে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। অভিভাবকদের জন্য থাকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থারও সমালোচনা করেছে কমিশন। তাদের মতে, এসব ফিচার তখনই কাজে আসে, যখন অভিভাবকদের এগুলো বুঝে ব্যবহার করার মতো পর্যাপ্ত সময় ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেন্না ভির্কুনেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা। তবে মেটা এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। বিবিসিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেন, তদন্তে কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। মেটা জানায়, তারা ইতোমধ্যে ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় কিশোরদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা সেটিংস চালু থাকে এবং অভিভাবকেরা তাদের সন্তানের অ্যাকাউন্টের ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। কোম্পানির দাবি, অভিভাবকেরা চাইলে রাতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার সীমিত করতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন পর্দার সামনে কাটানোর সময় ১৫ মিনিট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। 

তবে ইউরোপীয় কমিশনের এই তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এখন মেটা তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বক্তব্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। মেটার মুখপাত্র বলেন, কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করে। এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে কোম্পানিটি। সাম্প্রতিক সময়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট থেকে শিশুদের সুরক্ষার উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের সুপারিশ প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগেই মেটার বিরুদ্ধে এই তদন্তের প্রাথমিক ফল প্রকাশ করা হলো। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ চালুর পর ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ম চালুর দাবি জানিয়েছে।