মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা এতে রাজি হয়েছি। তবে আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’
এক সপ্তাহের সংঘাতের পর শুক্রবার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। এর আগে কাতার ও সৌদি আরবের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা করে। শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে দাবি জানিয়েছে, তারা যেন প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর আর কোনো হামলা করবে না এবং সব নৌপথ বাধাহীনভাবে উন্মুক্ত থাকবে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ করেনি। বরং কাতারের একজন মধ্যস্থতাকারীকে তেহরানে স্বাগত জানাতে সম্মত হয়েছে।
রয়টার্সের একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার কাতারের প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে আলোচনা করতে ওমান সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির ছয়টি শহরে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে সংঘাতের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও সতর্ক করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে তেহরান তার জবাব দেবে। পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলবাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।





