• ই-পেপার

মাইক বাজিয়ে মহাসড়কে ‘খাস আদায়’, চরম অসন্তোষ

পানিবন্দি তিন শতাধিক পরিবারের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিলেন ইউএনও

অনলাইন ডেস্ক
পানিবন্দি তিন শতাধিক পরিবারের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিলেন ইউএনও
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে দুই মাস ধরে পানিবন্দি তিন শতাধিক পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সহায়তা পৌঁছে দেন।

এ সময় প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দীন খোকন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, বসুন্ধরা শুভসংঘ অভয়নগর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি এস জেড মাসুদ তাজ উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্য সহায়তার মধ্যে ছিল– ১০ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি পেঁয়াজ, এক কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি তেল, এক প্যাকেট বিস্কুট ও এক প্যাকেট মশার কয়েল।

প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দীন খোকন বলেন, ‘যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) নির্মাণের জন্য বিল ভরাট করা হয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে টানা বৃষ্টি ও তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পানি যুক্ত হয়ে চেঙ্গুটিয়া, উড়োতলা ও মহাজেরপাড়া গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই মাসে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। শুক্রবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু হাঁটু সমান পানিতে নেমে সেইসব পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছেন।’

চেঙ্গুটিয়া গ্রামের বৃদ্ধ রজব আলী, রমজান মোল্যা ও করিম শেখ বলেন, ‘দুই মাস ধরে রাস্তা, ঘর ও বারান্দায় হাঁটু সমান পানি জমে আছে। জলাবদ্ধতার কারণে কর্মস্থলে যেতে না পারায় পরিবারে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাতে ইউএনও সাহেব বাড়ি এসে এক বস্তা খাবার দিয়ে গেছেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, ‘রাতে পানিবন্দি পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া চেষ্টা করেছি। উপজেলা প্রশাসন ও নওয়াপাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও ইপিজেড কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।’  

কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইন মেরামতের সময় আগুন লেগে দগ্ধ ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইন মেরামতের সময় আগুন লেগে দগ্ধ ৩

ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বরইতলা এলাকার একটি ৭ তলা আবাসিক ভবনের গ্যাস লাইন মেরামতের সময় আগুন লেগে তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের একজনকে জাতীয় বার্ন ইনিস্টিউটে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

দগ্ধরা হলেন–মিস্ত্রি রাকিব (৩৪), তার সহকারী সুমন (২২) ও রাজন (২৩) । 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনিস্টিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান।

তিনি জানিয়েছেন, রাকিবের শরীরের ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বাকি দুজন সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

হাসপাতালে নিয়ে আসা রাকিবের ভাই সজিব জানিয়েছেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বরইতলা এলাকায় একটি আবাসিক ৭ তলা ভবনে রাত তিনটার দিকে গ্যাস লাইন পরিষ্কারের কাজ করার সময়, ওই ভবনের ওপর থেকে কে বা কারা সিগারেটের আগুন ফেলায় আগুন লেগে যায়। এতে আমার ভাই রাকিবের শরীরে আগুন লেগে যায়।  তাৎক্ষণিক দুই সহকারী গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেয়। ততক্ষণে রাকিবের শরীরের অনেক অংশ পুড়ে যায়। পরে তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিউটে নেওয়া হয়।

নারীকে হয়রানি ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
নারীকে হয়রানি ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে এক নারীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অশালীন ছবি, ভিডিও ও আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়ে কু-প্রস্তাব দেওয়া এবং শিশুকন্যাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আপন বাদশা (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৯টায় নওগাঁ শহরের ছোট যমুনা নদীর ওপর অবস্থিত লর্ড লিটন সেতু থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ শনিবার সকালে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ তাকে কোর্টে প্রেরণ করা করেছে। গ্রেপ্তার বাদশা উপজেলার সান্তাহার ইউপির উথরাইল জাহানাবাজ গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আপন বাদশা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে অশালীন ছবি, ভিডিও ও আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়ে মানসিকভাবে হয়রানি করছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অডিও কলে কু-প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি তার ১০ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে রাস্তাঘাটে যৌন নিপীড়ন করতেন। গত ২১ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই নারী স্কুটি বাইক নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সান্তাহার রেলগেট অতিক্রম করার সময় অভিযুক্ত বাদশার সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় তিনি অশালীন ছবি, ভিডিও ও বার্তা পাঠানো এবং তার শিশুকন্যাকে রাস্তাঘাটে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। এতেই বাদশা ক্ষিপ্ত হয়ে পেছন দিক থেকে তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং একপর্যায়ে হাতে থাকা লোহাজাতীয় একটি অস্ত্র দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তার মাথার বাঁ পাশে ফেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় বাদশা ওই নারীর গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের সোনার একটি চেইন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

এরপর গত ২৭ জুন রাতে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারায় সান্তাহার রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতে নওগাঁ শহরের লর্ড লিটন সেতু থেকে আপন বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দীন বলেন, ‘গ্রেপ্তার আপন বাদশাকে শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

 

ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আটক ৮ মায়ানমার নাগরিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আটক ৮ মায়ানমার নাগরিক
সংগৃহীত ছবি

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত বান্দরবানের সীমান্তাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে মায়ানমারের আট নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে পিলারসংলগ্ন গাছবুনিয়া এলাকা থেকে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির আওতাধীন রেজুপাড়া বিওপির একটি টহল দল তাদের আটক করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মংবা তংচংগা (৩৪), মংম (২০), কিংলা থুয়াইং (২১), রুপার (১৯), থাইংসা মং (৪০), তুলি (২০), তানতানাইং (২০) এবং মংতা নাইং (২০)। তাদের সবার বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ডেকিবুনিয়া থানার বিভিন্ন গ্রামে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

বিজিবির তথ্যমতে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মংবা তংচংগা নামে একজন নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের কপি উপস্থাপন করেন। তবে প্রাথমিক যাচাইয়ে ওই নথিপত্রের তথ্যের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার দুপুরে আট ব্যক্তি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দিক থেকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে গাছবুনিয়া এলাকায় আশ্রয় নেন। তারা রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল বলেন, ‘কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি আটজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। সীমান্ত অনুপ্রবেশের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা মিয়ানমারের কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা সংগঠনের সদস্য কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিবিজিএম, পিএসসি) বলেন, ‘আটক ব্যক্তিরা মায়ানমারের নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তারা মায়ানমারের কোনো বাহিনীর সদস্য কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।