• ই-পেপার

বন্যা মোকাবেলায় ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আটক ৮ মায়ানমার নাগরিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আটক ৮ মায়ানমার নাগরিক
সংগৃহীত ছবি

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত বান্দরবানের সীমান্তাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে মায়ানমারের আট নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে পিলারসংলগ্ন গাছবুনিয়া এলাকা থেকে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির আওতাধীন রেজুপাড়া বিওপির একটি টহল দল তাদের আটক করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মংবা তংচংগা (৩৪), মংম (২০), কিংলা থুয়াইং (২১), রুপার (১৯), থাইংসা মং (৪০), তুলি (২০), তানতানাইং (২০) এবং মংতা নাইং (২০)। তাদের সবার বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ডেকিবুনিয়া থানার বিভিন্ন গ্রামে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

বিজিবির তথ্যমতে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মংবা তংচংগা নামে একজন নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের কপি উপস্থাপন করেন। তবে প্রাথমিক যাচাইয়ে ওই নথিপত্রের তথ্যের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার দুপুরে আট ব্যক্তি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দিক থেকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে গাছবুনিয়া এলাকায় আশ্রয় নেন। তারা রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল বলেন, ‘কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি আটজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। সীমান্ত অনুপ্রবেশের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা মিয়ানমারের কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা সংগঠনের সদস্য কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিবিজিএম, পিএসসি) বলেন, ‘আটক ব্যক্তিরা মায়ানমারের নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তারা মায়ানমারের কোনো বাহিনীর সদস্য কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বগুড়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
নিহতের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: কালের কণ্ঠ

বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আরিফ শেখ (৩৩) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের লতিফপুর কলোনির প্রীতি প্রাইমারি স্কুলের পেছনের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আরিফ শেখ ওই এলাকার মো. আজিজ শেখের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে আরিফ শেখের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার গভীর রাতে কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট বোন রুমি আফরিন অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধান আসামি সেলিম, তার ভাগ্নে শুভ ও জীবন পরিকল্পনা করে আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। আমার অসুস্থ ভাইয়ের একটি হাতও ভাঙা ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে তার গলা, হাত-পায়ের রগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, পরিবারের সঙ্গে তার মামার আর্থিক বিরোধ ছিল। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে বিরোধ আরো তীব্র হয়। ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

রুমি আফরিন বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নিহতের বড় বোন রোজিনা খাতুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রশাসনের কাছে হাতজোড় করে আবেদন জানাচ্ছি, আমার ভাই হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন। আমরা পাঁচ বোন আমাদের একমাত্র ভাইকে হারিয়েছি। আমাদের বৃদ্ধ বাবা-মা আজ অসহায়। আমরা প্রতিশোধ চাই না, আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার চাই।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, সব ধরনের ছুটি বাতিল

বাসস
চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, সব ধরনের ছুটি বাতিল

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। সেখানকার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। 

জেলার চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে। 

জেলার ১৫ উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি আছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। মানুষের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

ভারি বর্ষণ ও বিরূপ আবহাওয়ায় বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারি বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ জুলাই জারি করা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এ সময়ে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্না, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। 

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকলকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।