• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে ‘এক্সপ্লোসিভ ডায়রিয়া’ পরজীবীর প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত হাজারো মানুষ

বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগ, ওপেনএআই বিরুদ্ধে মামলা অ্যাপেলের

অনলাইন ডেস্ক
বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগ, ওপেনএআই বিরুদ্ধে মামলা অ্যাপেলের
ছবি : রয়টার্স

ওপেনএআই এবং অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপল। অ্যাপলের অভিযোগ, তারা প্রতিষ্ঠানের গোপন বাণিজ্যিক তথ্য ব্যবহার করে ওপেনএআইয়ের কনজিউমার হার্ডওয়্যার ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

মামলায় অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সিনিয়র সিস্টেমস ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চ্যাং লিউ এবং আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রোডাক্ট ডিজাইন) ট্যাং ইউ ট্যান।

মামলায় আরো বলা হয়েছে, ওপেনএআই পরিকল্পিতভাবে অ্যাপলের সাবেক কর্মী নিয়োগ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্যান্য উপায়ে অ্যাপলের গোপন তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করেছে। অ্যাপলের দাবি, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে ওপেনএআই তাদের নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য উন্নয়নের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

ওপেনএআই এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের গোপন বাণিজ্যিক তথ্য ব্যবহারে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। আমরা এমন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তৈরিতেই মনোযোগী, যেগুলো বিশ্বের মানুষের উপকারে আসে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু গোপন তথ্য নিয়ে নয়, ভবিষ্যতের এআই ডিভাইসের বাজার দখলের লড়াইও। ধারণা করা হচ্ছে, ওপেনএআই নিজস্ব ফোন বা নতুন ধরনের স্মার্ট ডিভাইস তৈরির কাজ করছে। এসব ডিভাইস জনপ্রিয় হলে অনেক ব্যবহারকারী আইফোনের বদলে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) পণ্য তৈরির প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় দক্ষ কর্মী ও নিজস্ব প্রযুক্তি নিয়ে অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এর ফলে দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

পিপি ফোরসাইটের বিশ্লেষক পাওলো পেসকাতোরে বলেন, ‘অ্যাপল এখন ওপেনএআইকে শুধু অংশীদার নয়, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখছে। অন্যদিকে, ওপেনএআই আইফোনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ভোক্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত না হলেও, এই মামলা ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিলম্ব ঘটাতে পারে এবং দুই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যেই নাজুক হয়ে ওঠা অংশীদারিত্বকে আরো দুর্বল করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে অ্যাপল এই মামলা করেছে। এর কিছুদিন আগেই ইলন মাস্কের এক্সএআই দায়ের করা একটি আইনি চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে ওপেনএআই।

মামলায় অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সিনিয়র সিস্টেমস ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চ্যাং লিউ এবং আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রোডাক্ট ডিজাইন) ট্যাং ইউ ট্যান। তবে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

অ্যাপলের অভিযোগ, চ্যাং লিউ চাকরি ছাড়ার সময় প্রতিষ্ঠানের দেওয়া একটি ল্যাপটপ ফেরত দেননি। পরে একটি নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে তিনি অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেন এবং হার্ডওয়্যার-সংক্রান্ত অ্যাপলের গোপনীয় অসংখ্য নথি ডাউনলোড করেন।

অ্যাপলের আরো দাবি, ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান ট্যাং ইউ ট্যান চাকরি ছাড়ার আগে পরিকল্পিতভাবে অ্যাপলের গোপন তথ্য ওপেনএআইয়ের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ শিল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন সারসংক্ষেপ নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইলে পাঠিয়েছিলেন। লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, ২৪ বছর অ্যাপলে কর্মরত থাকার বেশিরভাগ সময়ই তিনি আইফোন-সংক্রান্ত পণ্যের উন্নয়নে কাজ করেছেন।

এ ছাড়া অ্যাপলের অভিযোগ, ট্যান ওপেনএআইয়ের চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া অ্যাপলের কর্মীদের ‘শো অ্যান্ড টেল’ সেশনের জন্য অ্যাপলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সঙ্গে আনতে উৎসাহিত করেছিলেন। মামলায় এমন একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ওপেনএআইয়ের একজন চাকরিপ্রার্থী নাকি বলেছিলেন, ‘অফিস থেকে এসব জিনিস নেওয়া যায়, সেটাই আমি জানতাম না।’

মামলায় আসামি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই, এর বাণিজ্যিক শাখা ওপেনএআই গ্রুপ পিবিসি এবং সম্প্রতি ওপেনএআই অধিগ্রহণ করা আইও প্রোডাক্টসের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গোপন তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ

মামলায় অ্যাপল দাবি করেছে, তাদের গোপন তথ্য ওপেনএআইয়ের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, এমন উদ্বেগ জানিয়ে তারা গত ফেব্রুয়ারিতে ওপেনএআইকে চিঠি পাঠিয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। তবে কম্পানিটি কোনো জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে অ্যাপল।

অ্যাপলের অভিযোগ, বর্তমানে ওপেনএআইয়ে ৪০০-এর বেশি সাবেক অ্যাপল কর্মী কাজ করছেন। তাদের মধ্যে কিছুজন কম্পানির গোপন তথ্য সম্পর্কে জানতেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অ্যাপল বলেছে, ‘ওপেনএআই এখন এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছে যারা একসময় অ্যাপলের বাণিজ্যিক গোপন তথ্যের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তাই বলে ওপেনএআই সেই তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের হার্ডওয়্যার প্রকল্প এগিয়ে নিতে পারে না।’

এ ছাড়া অ্যাপলের দাবি, ওপেনএআইয়ের কর্মীরা অ্যাপলের সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন। 

অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের মধ্যে বাড়ছিল টানাপোড়েন

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি মে মাসে রয়টার্সকে জানান, ওপেনএআই অ্যাপলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছিল। এর মধ্যে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানো হতে পারে, যদিও পূর্ণাঙ্গ মামলা দায়ের নাও করা হতে পারে।

২০২৪ সালে অ্যাপল তাদের বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবায় ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক ডিভাইসে ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুবিধাও চালু করে।

এই অংশীদারত্বের ফলে ব্যবহারকারীরা সিরির মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির উত্তর পেতে পারেন। এ ছাড়া আইফোন ব্যবহারকারীরা আইওএসের সেটিংস মেনু থেকেই সরাসরি চ্যাটজিপিটির সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারেন। গত মাসে অ্যাপল দীর্ঘদিন ‘সিরি’র বড় ধরনের সংস্কার উন্মোচন করে। দুই বছর আগে প্রতিশ্রুত এই উন্নয়ন একাধিকবার পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে তা চালু করা হয়।

এদিকে ওপেনএআই গত বছর সাবেক অ্যাপল ডিজাইনার জনি আইভ প্রতিষ্ঠিত হার্ডওয়্যার স্টার্টআপ ‘আইও প্রোডাক্টস’ ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করে। সফটওয়্যারনির্ভর ব্যবসার বাইরে ভোক্তাদের জন্য হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার সন্দেহে দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

অনলাইন ডেস্ক
স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার সন্দেহে দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি
সংগৃহীত ছবি

নিজের স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে আটক করা হয়। এখন তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার জোহানেসবার্গের কেনসিংটন এলাকা থেকে ৪৫ বছর বয়সী এনডোডানা মখানিয়িসি চশুমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জিম্বাবুয়ের নাগরিক। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের দুই দিন আগে তিনি একটি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাজ্য ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। এর আগে সোমবার বেডফোর্ডশায়ারের গ্রেট ডেনহাম এলাকায় পরিবারের বাড়ি থেকে ৪২ বছর বয়সী নোথাবো জানডিলে চশুমা, ১৫ বছর বয়সী নাটালি এবং পাঁচ বছর বয়সী নালার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই হত্যা মামলা তদন্ত শুরু হয়।

যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, এনডোডানা মখানিয়িসি চশুমার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশের মুখপাত্র আথলেন্দা মাথে বলেন, এই গ্রেপ্তার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনো অপরাধে সন্দেহভাজন ব্যক্তির জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা নিরাপদ আশ্রয় নয়। মাথে আরো জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সোমবার আদালতে হাজির করা হবে। এরপর যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের গোয়েন্দা পরিদর্শক লি মার্টিন বলেন, এটি খুব দ্রুত এগিয়ে যাওয়া একটি তদন্ত। এই তদন্তে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, ইন্টারপোল এবং জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করেছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। সিপিএসের প্রধান ক্রাউন প্রসিকিউটর এমা ডেভিস বলেন, বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের দেওয়া প্রমাণ সতর্কভাবে পর্যালোচনা করার পরই হত্যার অভিযোগ আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নিহত নোথাবো, নাটালি ও নালার পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাদের গভীর সমবেদনা রয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, কয়েক দিন ধরে পরিবারটির কাউকে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীরা সোমবার পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতর তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মানুষের প্রার্থনা, সমবেদনা এবং সহমর্মিতা তাদের এই কঠিন সময় পার করতে শক্তি জুগিয়েছে। নিহত পাঁচ বছর বয়সী নালার স্কুল পিলগ্রিমস প্রি-প্রেপ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জো ওয়েবস্টার তাকে 'রোদের আলোর মতো উজ্জ্বল একটি শিশু' হিসেবে স্মরণ করেছেন। অন্যদিকে, বেডফোর্ড গার্লস স্কুলের প্রধান জেমা গিবসন বলেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাটালি ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি নাটালিকে একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্মরণ করেন।

বাহামাসে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ আরোহীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
বাহামাসে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ আরোহীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বাহামাসে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির রাজধানী নাসাউয়ের পশ্চিমে অবস্থিত উত্তর অ্যানড্রয়ের জলভাগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশের ৫৩তম স্বাধীনতাবার্ষিকী উদযাপনের মধ্যেই এই বড় বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটল।

বাহামিয়ান বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি বাহামাসে নিবন্ধিত একটি ‘সেসনা ৪০২’ মডেলের ছোট বিমান ছিল। এটি নাসাউয়ের লিন্ডেন পিন্ডলিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সান অ্যানড্রসের উদ্দেশে যাত্রা করার পরপরই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বাহামাসের প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ব্রেভ ডেভিস জানান, প্রথমে একজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ যখন স্বাধীনতাবার্ষিকী উদযাপন করছিল, তখন এটি একটি গভীর শোকের দিনে পরিণত হয়েছে। যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।’

এই মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণে এবং একই দিনে আরেকটি নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ‘ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ার’-এর বিমান পরিচালনা সনদ (লাইসেন্স) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার। দেশটির জ্বালানি, পরিষেবা ও বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের স্বার্থে সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিমান চলাচল মন্ত্রী জোবেথ কোলবি-ডেভিস জানান, শুক্রবার সকালে ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ারের আরেকটি বিমানেও বড় ধরনের নিরাপত্তা বিভ্রাট ঘটেছিল। মায়াগুয়ানাগামী ওই বিমানটির পাইলট মাঝ-আকাশে জরুরি সমস্যা টের পেয়ে নাসাউতে ফিরে আসেন। বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করার পর যাত্রীরা নিরাপদে নেমে যাওয়ার পরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়। পরপর ঘটে যাওয়া এই দুইটি ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এয়ারলাইনসটির সব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।

মরে গেলে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
মরে গেলে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার নিজেকে ইরানের হিটলিস্টে এক নাম্বারে আছেন বলে দাবি করছেন। চলতি সপ্তাহেই অন্তত তিনবার ট্রাম্প নিজের মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছেন। কখনো মজাও করেছেন। শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করতে সফল হয়, তবে তিনি দেশটিতে ব্যাপক মাত্রায় ’বোমা’ হামলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন।

ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে পারে, এমন আলোচনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতেও নানা কৌশল নেয়া হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসন অনেকদিন ধরেই ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল মার্কিন প্রশাসনকে জানায়, ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের সতর্কবার্তাটি একেবারেই নতুন এবং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইসরায়েলের পাঠানো এ নতুন সতর্কতা সম্পর্কেই শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টের সাথে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে তাদের তালিকায় আছি। আমি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি যে, যদি কোনো কিছু ঘটে, তবে তাদের ওপর যেন আক্ষরিক অর্থেই এমন মাত্রায় বোমা হামলা চালানো হয়, যা তারা এর আগে কখনো দেখেনি।’

তবে ইসরায়েলের সতর্কতাকে তেমন পাত্তা দেননি ট্রাম্প, ‘না, না। ইসরায়েল নতুন কিছুই পায়নি।’ তিনি বলেন, ’আমি দীর্ঘ সময় ধরে এক নাম্বারে আছি (ইরানের হত্যার তালিকায়) এবং আপনি তো জানেনই, জীবন এমনই।’ তবে এখানেও মজা করতে ছাড়েননি ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘আশা করি আপনারা আমাকে মিস করবেন।’

এর আগে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ’আমি মরলে আপনারাও মরবেন।’ তিনি সাংবাদিকদের পেশা বদলানোরও পরামর্ম দিয়েছিলেন।

বুধবার ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের এক আয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের (ইরান) নেতারা চলে গেছে। তারপর তাদের আরেক দল নেতা এসেছে। তারাও চলে গেছে। এখন তাদের আরেক দল নেতা রয়েছে। কে জানে, তাদেরও হয়তো চলে যেতে হতে পারে।’ ট্রাম্প আরো যোগ করেন, ’এবং আপনারা কি জানেন? আমিও চলে যেতে পারি। কারণ আমি তাদের এক নাম্বার লক্ষ্যবস্তু। এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আজ সকালে একটি বিষয় দেখেছি যে, আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় আছি। আর এখন পর্যন্ত, আমি মনে করি আমি কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম। তবে এটি হয়তো খুব বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে।’


ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করা হতে পারে, এমন আলোচনায় তার নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবকলম্বন করা হচ্ছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে  ফেরার পথে হুট করেই ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তন করা হয়। এারফোর্স ওয়ানের বহরে যুক্ত হওয়া নতুন রাজকীয় বিমানের পরিবর্তে তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানের পু্রোনো বিমানেই ওয়াশিংটন ফিরেছেন। হোয়াইট হাউস পরবর্তীতে স্বীকার করেছে যে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি একটি কৌশল ছিল।
মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, ২০২০ সালে ইরানের সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর থেকেই ট্রাম্প তাদের হিটলিস্টে এক নাম্বারে আছেন। যদিও ইরান কখনোই এমন কোনো দাবি করেনি। তবে গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর জানাযায় ইরানের ক্ষুব্ধ জনগণ ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেয়।