• ই-পেপার

তুরস্কের পর এবার মিশরে ‘সমকামী’ যাত্রীসহ জাহাজ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

থাইল্যান্ডে নতুন প্রজাতির ডাইনোসর শনাক্ত, ঘাড়ের দৈর্ঘ্য ক্রিকেট মাঠের সমান

অনলাইন ডেস্ক
থাইল্যান্ডে নতুন প্রজাতির ডাইনোসর শনাক্ত, ঘাড়ের দৈর্ঘ্য ক্রিকেট মাঠের সমান
ছবি: রয়টার্স

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কালাসিন প্রদেশে পাওয়া জীবাশ্ম থেকে নতুন এক প্রজাতির ডাইনোসর শনাক্ত করেছেন দেশটির জীবাশ্মবিজ্ঞানীরা। উদ্ভিদখেকো এই ডাইনোসরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘উরাগাসরাস কালাসিনেনসিস’।

গবেষকদের ধারণা, এই ডাইনোসর প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করত। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল অস্বাভাবিক লম্বা ঘাড়। প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ মিটার বা ৬৬ ফুট পর্যন্ত হতে পারত। যা প্রায় একটি ক্রিকেট মাঠের দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি। গবেষণাটির প্রধান লেখক থাইল্যান্ডের মহাসারাখাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আপিরাত নিলফানাফান বিবিসি থাইকে বলেন, পাওয়া জীবাশ্মটি বড় একটি সংগ্রহের অংশ। ২০০৮ সালে প্রথম এই জীবাশ্মের স্থানটি শনাক্ত করা হয়। তিনি জানান, ওই সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি সাপের আঁশের মতো দেখতে কিছু জীবাশ্মের অংশ খুঁজে পান। পরে গবেষকরা ওই এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করেন।

যে এলাকায় এই আবিষ্কার হয়েছে, সেই 'ফু নই' অঞ্চলটি শেষ জুরাসিক যুগের বিভিন্ন জীবাশ্মের জন্য পরিচিত। ওই স্থান থেকে পাওয়া জীবাশ্মের ৯০ শতাংশের বেশি ছিল ডাইনোসরের বিভিন্ন অংশ। গবেষক দল সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে ডাইনোসরের দাঁত, হাড় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের জীবাশ্ম সংগ্রহ করে। তবে নতুন প্রজাতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে একটি বিশেষ পৃষ্ঠদেশের কশেরুকা বা মেরুদণ্ডের হাড়। গবেষকদের মতে, ওই কশেরুকায় থাকা বিশেষ বৈশিষ্ট্যই প্রমাণ করে যে এটি আগে শনাক্ত হওয়া কোনো ডাইনোসরের নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি। 

সিটি স্ক্যান পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, উরাগাসরাস কালাসিনেনসিস ছিল ‘সৌরোপড’ দলের ডাইনোসর। এটি ‘মামেনচিসাউরিডি’ পরিবারের সদস্য। মামেনচিসাউরিডি পরিবারের ডাইনোসরগুলো তাদের অত্যন্ত লম্বা ঘাড়ের জন্য পরিচিত ছিল। গবেষকদের ধারণা, এই লম্বা ঘাড়ের কারণে তারা গাছের উঁচু অংশের পাতাও সহজে খেতে পারত। এই পরিবারের বেশির ভাগ ডাইনোসরের জীবাশ্ম চীনে পাওয়া গেছে। তবে থাইল্যান্ডে এ ধরনের ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার এটিই প্রথম। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ডাইনোসরটির হাড়ের ভেতরের গঠনেও বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। এর মধ্যে ছিল লামিনা নামের সহায়ক হাড়ের ওয়াই-আকৃতির বিন্যাস। 

ড. নিলফানাফান বলেন, ডাইনোসরটির হাড়ের ভেতরের বায়ুকুঠুরির গঠন অন্য কোনো পরিচিত ডাইনোসরের মতো নয়। এই বৈশিষ্ট্যই এটিকে আলাদা করেছে। তিনি জানান, নতুন একটি প্রজাতি শনাক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের কিবোর্ড ভেঙে ফেলেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি তখন প্রচণ্ড আনন্দ ও স্বস্তি অনুভব করেছিলেন। গবেষণাটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে থাইল্যান্ডে পাওয়া জীবাশ্ম থেকে আরেকটি লম্বা ঘাড়ের উদ্ভিদখেকো ডাইনোসরের সন্ধান পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ওই ডাইনোসরের নাম ‘নাগাটাইটান’। নাগাটাইটানকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ডাইনোসরগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন, যা নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির ওজনের সমান। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার বা ৮৮ ফুট।

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের জানালা ভেঙে বের হয়ে গেল যাত্রীর মাথা

অনলাইন ডেস্ক
মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের জানালা ভেঙে বের হয়ে গেল যাত্রীর মাথা
ছবি : রয়টার্স

গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিঙ্গেনগামী রায়ানএয়ারের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান শুক্রবার উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিপদের মুখে পড়ে। বিমানটির একটি জানালা খুলে গেলে এক যাত্রী আংশিকভাবে জানালার বাইরে চলে যান বলে বিমানবন্দরের দুটি সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার পর বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে এসে নিরাপদে অবতরণ করে।

সার্বিয়ান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানের অন্য যাত্রীরা দ্রুত তাকে ধরে ভেতরে টেনে আনেন। একজন যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে উদ্ধার করার আগে তার মাথা ও কাঁধ বিমানের বাইরে চলে গিয়েছিল।

রায়ানএয়ার জানিয়েছে, আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যাত্রীর আসনের পাশের একটি জানালা খুলে যাওয়ার কারণে বিমানটি ফিরে আসতে বাধ্য হয়। তবে জানালাটি কিভাবে খুলে গেল, তা এখনো জানা যায়নি।

জানালা দিয়ে আংশিকভাবে মাথা বাইরে বেরিয়ে যাওয়া সার্বিয়ার  ওই যাত্রীকে থেসালোনিকির এহেপা ইউনিভার্সিটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সার্বিয়ান কনস্যুলেট জানিয়েছে, তিনি আহত হলেও তার জীবন ঝুঁকিতে নেই। চিকিৎসকেরা তার আঘাতের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখছেন।

মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৩৭ এনজি মডেলের, যা বর্তমান ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের আগের সংস্করণ।

এদিকে বোয়িং জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির তদন্তে সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি আরো বলেছে, তারা রায়ানএয়ারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এবং বিমান ও ইঞ্জিনের নির্মাতা সম্পর্কে জানতে চেয়ে পাঠানো ইমেইলের জবাবে রায়ানএয়ার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে এক বিবৃতিতে রায়ানএয়ার জানায়, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সব যাত্রীকে টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গ্রিসের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের পরপরই ইঞ্জিনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি জানালায় আঘাত করে। এতে জানালাটি ভেঙে যায় এবং কেবিনের ভেতরের চাপ কমে যায়। ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত বিমানবন্দরের দুটি সূত্রও রয়টার্সকে একই তথ্য দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ইঞ্জিনে গুরুতর ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি ফ্যান ব্লেড অনুপস্থিত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত ইঞ্জিনের ভেতরের কোনো অংশ ভেঙে বাইরের আবরণ ভেদ করে বেরিয়ে এলে ঘটে, যা আশপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে দিতে পারে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে মেমিঙ্গেনগামী বোয়িং ৭৩৭ এনজি বিমানটিকে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসতে দেখা গেছে।

ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য ও একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, একই বিমানটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সারায়েভোগামী একটি ফ্লাইটেও উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর থেসালোনিকিতে ফিরে এসেছিল। তবে সে সময় কেন বিমানটি ফিরে এসেছিল, তা স্পষ্ট নয়।

মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) নিশ্চিত করেছে, শুক্রবারের ফ্লাইটে একটি জানালা ভেঙে গিয়েছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এ ঘটনার তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

এদিকে সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে বিমানের ভেতরের অংশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জানালাটি দেখা গেছে। রায়ানএয়ারের সব বোয়িং ৭৩৭ এনজি বিমানে সিএফএম ইন্টারন্যাশনালের তৈরি সিএফএম৫৬ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। তবে ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।


 

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তিকর’ নকশা বদলাতে মেটাকে ইইউর সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তিকর’ নকশা বদলাতে মেটাকে ইইউর সতর্কবার্তা
ছবি: রয়টার্স

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু ফিচার বা নকশা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে বলে অভিযোগ তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এসব ‘আসক্তিকর’ নকশা পরিবর্তনের জন্য মেটাকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। তা না হলে কোম্পানিটিকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশন প্রাথমিক তদন্তে বলেছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কয়েকটি ফিচার ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো বেশি হতে পারে। কমিশনের মতে, শেষ না হওয়া স্ক্রল (ইনফিনিট স্ক্রল), নিজে থেকেই চালু হওয়া ভিডিও (অটোপ্লে) এবং ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় থাকতে উৎসাহ দেয়। এর ফলে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইইউ জানিয়েছে, মেটা যদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আনে, তাহলে কোম্পানিটিকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। কমিশনের ভাষ্য, এসব ফিচারের কারণে মানুষের মস্তিষ্ক এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবহারের অভ্যাসে চলে যায়। এতে ব্যবহারকারীরা বুঝতে না পেরেই দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান। ইউরোপীয় কমিশন বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বর্তমান নকশা কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ওপর কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, তা মেটা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। কমিশনের অভিযোগ, বিশেষ করে রাতে শিশুরা কত সময় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কাটাচ্ছে, সে বিষয়েও মেটার নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়।

রিলস ও স্টোরিজের মতো জনপ্রিয় ফিচার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে কমিশন। তাদের মতে, এসব ফিচার ব্যবহারকারীদের আরো বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে থাকতে উৎসাহিত করে। কিন্তু এসব ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে মেটার বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে সময় নিয়ন্ত্রণের জন্য যে টুল রয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাদের মতে, কিশোরদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকা কিছু নিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই বন্ধ করে দেওয়া যায়। ফলে এগুলো ব্যবহার কমাতে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। অভিভাবকদের জন্য থাকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থারও সমালোচনা করেছে কমিশন। তাদের মতে, এসব ফিচার তখনই কাজে আসে, যখন অভিভাবকদের এগুলো বুঝে ব্যবহার করার মতো পর্যাপ্ত সময় ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেন্না ভির্কুনেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা। তবে মেটা এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। বিবিসিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেন, তদন্তে কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। মেটা জানায়, তারা ইতোমধ্যে ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় কিশোরদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা সেটিংস চালু থাকে এবং অভিভাবকেরা তাদের সন্তানের অ্যাকাউন্টের ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। কোম্পানির দাবি, অভিভাবকেরা চাইলে রাতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার সীমিত করতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন পর্দার সামনে কাটানোর সময় ১৫ মিনিট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। 

তবে ইউরোপীয় কমিশনের এই তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এখন মেটা তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বক্তব্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। মেটার মুখপাত্র বলেন, কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করে। এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে কোম্পানিটি। সাম্প্রতিক সময়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট থেকে শিশুদের সুরক্ষার উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের সুপারিশ প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগেই মেটার বিরুদ্ধে এই তদন্তের প্রাথমিক ফল প্রকাশ করা হলো। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ চালুর পর ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ম চালুর দাবি জানিয়েছে।


 

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট অবতরণে প্রথম সাফল্য চীনের

অনলাইন ডেস্ক
পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট অবতরণে প্রথম সাফল্য চীনের
সংগৃহীত ছবি

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি রকেট উদ্ধার করার পরীক্ষা চালায় দেশটি। এ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয় 'লং মার্চ ১০এ' রকেট।

পরীক্ষার সময় রকেটটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিচে নামানো হয়। পরে এটি একটি বিশেষ উদ্ধার প্ল্যাটফর্মের পাশের সমুদ্রে অবতরণ করে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি আরো উন্নত করার লক্ষ্য নিয়েছে চীন। এদিকে, চীনের 'লং মার্চ ১০বি' রকেটকে দেশটির নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী উৎক্ষেপণযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রকেট পৃথিবীর নিচু কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট) অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজনের পণ্য বহন করতে পারে। এই সক্ষমতার কারণে অনেকেই এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্সের বহুল ব্যবহৃত 'ফ্যালকন ৯' রকেটের তুলনা করছেন। তবে রকেট উদ্ধারের ক্ষেত্রে চীনের পদ্ধতি স্পেসএক্সের প্রযুক্তি থেকে আলাদা। স্পেসএক্সের 'ফ্যালকন ৯' রকেট নিজে থেকেই নির্দিষ্ট অবতরণস্থল বা সমুদ্রে অবস্থান করা ড্রোন জাহাজে নেমে আসে। 

অন্যদিকে, 'লং মার্চ ১০বি' রকেট সরাসরি মাটিতে বা জাহাজে অবতরণ করবে না। এর পরিবর্তে রকেটে থাকা বিশেষ 'অবতরণ হুক' ভাসমান একটি উদ্ধার প্ল্যাটফর্মে লাগানো জাল ধরে ফেলবে। এর মাধ্যমে রকেটটি নিরাপদে থামানো এবং পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই নতুন প্রযুক্তির খবর প্রকাশের পর চীনের মহাকাশ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। 'চায়না স্পেসস্যাট' এবং 'চায়না স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন্স'- দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামই এক দিনে ১০ শতাংশ করে বেড়ে যায়। এটি চীনের শেয়ারবাজারে এক দিনে অনুমোদিত সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির সীমা।