• ই-পেপার

স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার সন্দেহে দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তিকর’ নকশা বদলাতে মেটাকে ইইউর সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তিকর’ নকশা বদলাতে মেটাকে ইইউর সতর্কবার্তা
ছবি: রয়টার্স

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু ফিচার বা নকশা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে বলে অভিযোগ তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এসব ‘আসক্তিকর’ নকশা পরিবর্তনের জন্য মেটাকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। তা না হলে কোম্পানিটিকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশন প্রাথমিক তদন্তে বলেছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কয়েকটি ফিচার ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো বেশি হতে পারে। কমিশনের মতে, শেষ না হওয়া স্ক্রল (ইনফিনিট স্ক্রল), নিজে থেকেই চালু হওয়া ভিডিও (অটোপ্লে) এবং ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় থাকতে উৎসাহ দেয়। এর ফলে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইইউ জানিয়েছে, মেটা যদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আনে, তাহলে কোম্পানিটিকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। কমিশনের ভাষ্য, এসব ফিচারের কারণে মানুষের মস্তিষ্ক এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবহারের অভ্যাসে চলে যায়। এতে ব্যবহারকারীরা বুঝতে না পেরেই দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান। ইউরোপীয় কমিশন বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বর্তমান নকশা কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ওপর কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, তা মেটা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। কমিশনের অভিযোগ, বিশেষ করে রাতে শিশুরা কত সময় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কাটাচ্ছে, সে বিষয়েও মেটার নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়।

রিলস ও স্টোরিজের মতো জনপ্রিয় ফিচার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে কমিশন। তাদের মতে, এসব ফিচার ব্যবহারকারীদের আরো বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে থাকতে উৎসাহিত করে। কিন্তু এসব ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে মেটার বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে সময় নিয়ন্ত্রণের জন্য যে টুল রয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাদের মতে, কিশোরদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকা কিছু নিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই বন্ধ করে দেওয়া যায়। ফলে এগুলো ব্যবহার কমাতে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। অভিভাবকদের জন্য থাকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থারও সমালোচনা করেছে কমিশন। তাদের মতে, এসব ফিচার তখনই কাজে আসে, যখন অভিভাবকদের এগুলো বুঝে ব্যবহার করার মতো পর্যাপ্ত সময় ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেন্না ভির্কুনেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা। তবে মেটা এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। বিবিসিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেন, তদন্তে কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। মেটা জানায়, তারা ইতোমধ্যে ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় কিশোরদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা সেটিংস চালু থাকে এবং অভিভাবকেরা তাদের সন্তানের অ্যাকাউন্টের ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। কোম্পানির দাবি, অভিভাবকেরা চাইলে রাতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার সীমিত করতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন পর্দার সামনে কাটানোর সময় ১৫ মিনিট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। 

তবে ইউরোপীয় কমিশনের এই তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এখন মেটা তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বক্তব্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। মেটার মুখপাত্র বলেন, কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করে। এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে কোম্পানিটি। সাম্প্রতিক সময়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট থেকে শিশুদের সুরক্ষার উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের সুপারিশ প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগেই মেটার বিরুদ্ধে এই তদন্তের প্রাথমিক ফল প্রকাশ করা হলো। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ চালুর পর ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ম চালুর দাবি জানিয়েছে।


 

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট অবতরণে প্রথম সাফল্য চীনের

অনলাইন ডেস্ক
পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট অবতরণে প্রথম সাফল্য চীনের
সংগৃহীত ছবি

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি রকেট উদ্ধার করার পরীক্ষা চালায় দেশটি। এ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয় 'লং মার্চ ১০এ' রকেট।

পরীক্ষার সময় রকেটটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিচে নামানো হয়। পরে এটি একটি বিশেষ উদ্ধার প্ল্যাটফর্মের পাশের সমুদ্রে অবতরণ করে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি আরো উন্নত করার লক্ষ্য নিয়েছে চীন। এদিকে, চীনের 'লং মার্চ ১০বি' রকেটকে দেশটির নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী উৎক্ষেপণযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রকেট পৃথিবীর নিচু কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট) অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজনের পণ্য বহন করতে পারে। এই সক্ষমতার কারণে অনেকেই এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্সের বহুল ব্যবহৃত 'ফ্যালকন ৯' রকেটের তুলনা করছেন। তবে রকেট উদ্ধারের ক্ষেত্রে চীনের পদ্ধতি স্পেসএক্সের প্রযুক্তি থেকে আলাদা। স্পেসএক্সের 'ফ্যালকন ৯' রকেট নিজে থেকেই নির্দিষ্ট অবতরণস্থল বা সমুদ্রে অবস্থান করা ড্রোন জাহাজে নেমে আসে। 

অন্যদিকে, 'লং মার্চ ১০বি' রকেট সরাসরি মাটিতে বা জাহাজে অবতরণ করবে না। এর পরিবর্তে রকেটে থাকা বিশেষ 'অবতরণ হুক' ভাসমান একটি উদ্ধার প্ল্যাটফর্মে লাগানো জাল ধরে ফেলবে। এর মাধ্যমে রকেটটি নিরাপদে থামানো এবং পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই নতুন প্রযুক্তির খবর প্রকাশের পর চীনের মহাকাশ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। 'চায়না স্পেসস্যাট' এবং 'চায়না স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন্স'- দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামই এক দিনে ১০ শতাংশ করে বেড়ে যায়। এটি চীনের শেয়ারবাজারে এক দিনে অনুমোদিত সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির সীমা।

তুরস্কের পর এবার মিশরে ‘সমকামী’ যাত্রীসহ জাহাজ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
তুরস্কের পর এবার মিশরে ‘সমকামী’ যাত্রীসহ জাহাজ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
সংগৃহীত ছবি

তুরস্কের বন্দরগুলোতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার মাত্র কয়েকদিন পরই প্রায় ২০০০ সমকামী পুরুষ যাত্রী বহনকারী একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীকে বন্দরে ভিড়তে দেয়নি মিশর। এলজিবিটিকিউ প্লাস ভ্রমণ সংস্থা ‘অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস’ এর ভাড়া করা এবং ভার্জিন ভয়েজেস পরিচালিত ‘স্কারলেট লেডি’ নামের এই জাহাজটিকে আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ দেখায়নি কায়রো।

১০ দিনের এই প্রমোদ ভ্রমণটি গ্রিসের এথেন্স থেকে ইতালির ভেনিস পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। প্রমোদতরীটির যাত্রীরা বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকালে ঘুম থেকে উঠে তাদের কেবিনের দরজার নিচে একটি জরুরি চিঠি পান। চিঠিতে জানানো হয়, জাহাজটিকে মিশরীয় জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এটি আর আলেকজান্দ্রিয়ায় থামবে না। এই ঘোষণার পর জাহাজের ক্রু সদস্যরা অবিলম্বে একটি বিকল্প বন্দরের সন্ধান শুরু করেছেন।

মার্কিন সমকামী অধিকার বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'অ্যাডভোকেট'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস-এর সিইও রিচ ক্যাম্পবেল বলেন, মিশরের এই সিদ্ধান্তে কম্পানিটি পুরোপুরি বিস্মিত। কারণ, গত বছরও তারা কোনো সমস্যা ছাড়াই একই ধরণের একটি ক্রুজ ভ্রমণসূচী সফলভাবে পরিচালনা করেছিলেন। এবারের সফরটি সফল করতে অ্যাটলান্টিস ও ভার্জিন ভয়েজেস কঠোর পরিশ্রম করলেও শেষ মুহূর্তে মিশরের এই নিষেধাজ্ঞা তাদের কাছে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও হতাশাজনক ছিল।

এর আগে তুর্কি কর্তৃপক্ষ ‘নৈতিক মূল্যবোধ’ ও ‘জনসাধারণের উদ্বেগ’-এর কারণ দেখিয়ে জাহাজটিকে ইস্তাম্বুল ও কুসাদাসি বন্দরে ভিড়তে দেয়নি। যার ফলে প্রমোদতরীটির ভ্রমণসূচী ইতিমধ্যেই একবার পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছিল— এই ক্রুজটি এমন কিছু গোষ্ঠী ভাড়া করেছে যাদের আচরণ দেশটির সমাজের কাঠামো ও নৈতিক মূল্যবোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কে সমকামিতা আইনিভাবে বৈধ হলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকারের অধীনে এলজিবিটিকিউ প্লাস অধিকারের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চলছে। গত কয়েক বছর ধরে সেখানে কোনো প্রাইড মার্চের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নিতে চাওয়া অনেককে পুলিশ আটকও করেছে।

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী, প্রমোদতরীটির বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় থাকার কথা ছিল। তবে এই নিষেধাজ্ঞার পর, নতুন সূচী অনুযায়ী প্রমোদতরীটি শনিবার (১১ জুলাই) গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগ, ওপেনএআই বিরুদ্ধে মামলা অ্যাপেলের

অনলাইন ডেস্ক
বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগ, ওপেনএআই বিরুদ্ধে মামলা অ্যাপেলের
ছবি : রয়টার্স

ওপেনএআই এবং অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপল। অ্যাপলের অভিযোগ, তারা প্রতিষ্ঠানের গোপন বাণিজ্যিক তথ্য ব্যবহার করে ওপেনএআইয়ের কনজিউমার হার্ডওয়্যার ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

মামলায় অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সিনিয়র সিস্টেমস ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চ্যাং লিউ এবং আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রোডাক্ট ডিজাইন) ট্যাং ইউ ট্যান।

মামলায় আরো বলা হয়েছে, ওপেনএআই পরিকল্পিতভাবে অ্যাপলের সাবেক কর্মী নিয়োগ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্যান্য উপায়ে অ্যাপলের গোপন তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করেছে। অ্যাপলের দাবি, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে ওপেনএআই তাদের নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য উন্নয়নের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

ওপেনএআই এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের গোপন বাণিজ্যিক তথ্য ব্যবহারে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। আমরা এমন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তৈরিতেই মনোযোগী, যেগুলো বিশ্বের মানুষের উপকারে আসে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু গোপন তথ্য নিয়ে নয়, ভবিষ্যতের এআই ডিভাইসের বাজার দখলের লড়াইও। ধারণা করা হচ্ছে, ওপেনএআই নিজস্ব ফোন বা নতুন ধরনের স্মার্ট ডিভাইস তৈরির কাজ করছে। এসব ডিভাইস জনপ্রিয় হলে অনেক ব্যবহারকারী আইফোনের বদলে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) পণ্য তৈরির প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় দক্ষ কর্মী ও নিজস্ব প্রযুক্তি নিয়ে অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এর ফলে দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

পিপি ফোরসাইটের বিশ্লেষক পাওলো পেসকাতোরে বলেন, ‘অ্যাপল এখন ওপেনএআইকে শুধু অংশীদার নয়, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখছে। অন্যদিকে, ওপেনএআই আইফোনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ভোক্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত না হলেও, এই মামলা ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিলম্ব ঘটাতে পারে এবং দুই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যেই নাজুক হয়ে ওঠা অংশীদারিত্বকে আরো দুর্বল করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে অ্যাপল এই মামলা করেছে। এর কিছুদিন আগেই ইলন মাস্কের এক্সএআই দায়ের করা একটি আইনি চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে ওপেনএআই।

মামলায় অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সিনিয়র সিস্টেমস ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চ্যাং লিউ এবং আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রোডাক্ট ডিজাইন) ট্যাং ইউ ট্যান। তবে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

অ্যাপলের অভিযোগ, চ্যাং লিউ চাকরি ছাড়ার সময় প্রতিষ্ঠানের দেওয়া একটি ল্যাপটপ ফেরত দেননি। পরে একটি নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে তিনি অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেন এবং হার্ডওয়্যার-সংক্রান্ত অ্যাপলের গোপনীয় অসংখ্য নথি ডাউনলোড করেন।

অ্যাপলের আরো দাবি, ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান ট্যাং ইউ ট্যান চাকরি ছাড়ার আগে পরিকল্পিতভাবে অ্যাপলের গোপন তথ্য ওপেনএআইয়ের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ শিল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন সারসংক্ষেপ নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইলে পাঠিয়েছিলেন। লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, ২৪ বছর অ্যাপলে কর্মরত থাকার বেশিরভাগ সময়ই তিনি আইফোন-সংক্রান্ত পণ্যের উন্নয়নে কাজ করেছেন।

এ ছাড়া অ্যাপলের অভিযোগ, ট্যান ওপেনএআইয়ের চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া অ্যাপলের কর্মীদের ‘শো অ্যান্ড টেল’ সেশনের জন্য অ্যাপলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সঙ্গে আনতে উৎসাহিত করেছিলেন। মামলায় এমন একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ওপেনএআইয়ের একজন চাকরিপ্রার্থী নাকি বলেছিলেন, ‘অফিস থেকে এসব জিনিস নেওয়া যায়, সেটাই আমি জানতাম না।’

মামলায় আসামি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই, এর বাণিজ্যিক শাখা ওপেনএআই গ্রুপ পিবিসি এবং সম্প্রতি ওপেনএআই অধিগ্রহণ করা আইও প্রোডাক্টসের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গোপন তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ

মামলায় অ্যাপল দাবি করেছে, তাদের গোপন তথ্য ওপেনএআইয়ের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, এমন উদ্বেগ জানিয়ে তারা গত ফেব্রুয়ারিতে ওপেনএআইকে চিঠি পাঠিয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। তবে কম্পানিটি কোনো জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে অ্যাপল।

অ্যাপলের অভিযোগ, বর্তমানে ওপেনএআইয়ে ৪০০-এর বেশি সাবেক অ্যাপল কর্মী কাজ করছেন। তাদের মধ্যে কিছুজন কম্পানির গোপন তথ্য সম্পর্কে জানতেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অ্যাপল বলেছে, ‘ওপেনএআই এখন এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছে যারা একসময় অ্যাপলের বাণিজ্যিক গোপন তথ্যের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তাই বলে ওপেনএআই সেই তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের হার্ডওয়্যার প্রকল্প এগিয়ে নিতে পারে না।’

এ ছাড়া অ্যাপলের দাবি, ওপেনএআইয়ের কর্মীরা অ্যাপলের সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন। 

অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের মধ্যে বাড়ছিল টানাপোড়েন

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি মে মাসে রয়টার্সকে জানান, ওপেনএআই অ্যাপলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছিল। এর মধ্যে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানো হতে পারে, যদিও পূর্ণাঙ্গ মামলা দায়ের নাও করা হতে পারে।

২০২৪ সালে অ্যাপল তাদের বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবায় ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক ডিভাইসে ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুবিধাও চালু করে।

এই অংশীদারত্বের ফলে ব্যবহারকারীরা সিরির মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির উত্তর পেতে পারেন। এ ছাড়া আইফোন ব্যবহারকারীরা আইওএসের সেটিংস মেনু থেকেই সরাসরি চ্যাটজিপিটির সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারেন। গত মাসে অ্যাপল দীর্ঘদিন ‘সিরি’র বড় ধরনের সংস্কার উন্মোচন করে। দুই বছর আগে প্রতিশ্রুত এই উন্নয়ন একাধিকবার পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে তা চালু করা হয়।

এদিকে ওপেনএআই গত বছর সাবেক অ্যাপল ডিজাইনার জনি আইভ প্রতিষ্ঠিত হার্ডওয়্যার স্টার্টআপ ‘আইও প্রোডাক্টস’ ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করে। সফটওয়্যারনির্ভর ব্যবসার বাইরে ভোক্তাদের জন্য হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।