• ই-পেপার

উগ্রবাদী সংগ্রহে সম্পৃক্তার অভিযোগে সাত আসামি  ৩ দিনের রিমান্ডে

হামে মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত

হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলাটির আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।  

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি গ্রহণের উপাদান না থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় খারিজের আদেশ দেওয়া হয়। 

এর আগে গত ৫ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলাটির আবেদন জমা দেন সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। এরপর বিকেলে ওই আবেদনের ওপর আদেশের জন্য আজ রবিবার দিন নির্ধারণ করেন। আজ বিকেলে মামলাটি খারিজের আদেশ এলো।

মামলায় আবেদনে অপর আসামিরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

বাদী সিরাজুল ইসলাম মামলার আবেদনে উল্লেখ করেন, বাদীর ৯ মাসের শিশুকন্যা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে শয্যাসংকট, অক্সিজেনের অভাব, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অবস্থার অবনতি ঘটে। সঠিক সময়ে হামের টিকা সরবরাহ না থাকায় শিশুটি টিকা নিতে পারেনি এবং এ কারণেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

মামলায় অভিযোগে আরো বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। তারা হামের টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই অবহেলার ফলে দেশব্যাপী শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন। 

বিবাদীদের এসব কর্মকাণ্ড সংবিধান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবহেলা এবং আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিচার শুরু
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ এ এস এম শাহাদাৎ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এ মামলার আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. সজীব বেপারী, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম ও সাগর।

জামিনে রয়েছেন মো. রুমান বেপারী, মো. আবির হোসেন ও মো. পারভেজ। এ ছাড়া পলাতক রয়েছেন মো. জহিরুল ওরফে জলিল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজিব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন ও অপু দাস।

এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। শুনানিকালে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) এলোপাতাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে  কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী এ কর্মকর্তা। 

পরবর্তীতে আবারও ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১০ মে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ।

নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ মিটফোর্ড এলাকার রজনি ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।

জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম অর্ধবেলা বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম অর্ধবেলা বন্ধ

সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম অর্ধবেলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কোর্টসমূহের কার্যক্রম অর্ধবেলা (দিনের দ্বিতীয় ভাগ) বন্ধ থাকবে। একই সাথে আজ চেম্বার কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি তার নিজের, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিবৃন্দের এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় জমির উদ্দিন সরকার গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পরে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জমির উদ্দিন সরকার।

কারামুক্ত হলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
কারামুক্ত হলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম

হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিনের পর কারামুক্ত হয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরী।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হন তিনি। তার আইনজীবী মো. রবিউল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী বলেন, মোহাম্মদপুর থানার দুটি, গুলশান থানার একটি এবং রমনা থানার এক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান আর এস ফাহিম। জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর শনিবার সন্ধ্যায় কারামুক্ত হন তিনি। সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

২৯ মার্চ বিকালে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে ফাহিমকে আটক করে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী। এরপর রাজধানীর শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মো. ইমরান নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় ৩০ মার্চ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তাকে মোহাম্মদপুর থানার তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। দুই মামলায় আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। একটি নামঞ্জুর হয়।

তিন মামলায় জামিনের আদেশের পর তাকে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। সর্বশেষ এ মামলায় জামিন নিয়ে কারামুক্ত হলেন ফাহিম।