৫ দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। আজ রবিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন দুপুরে চট্টগ্রাম এসে পৌঁছায়। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয় যাত্রীবাহী ট্রেনটি। বিকেলে এই ট্রেন পর্যটন শহর কক্সবাজার পৌঁছেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের মাস্টার আবু জাফর। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, রেললাইনে পানি থাকার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পানি নামার পর ট্রেন চলাচলের উপযোগী হলে আজ রবিবার থেকে আবার এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ওই রুটে অন্য ট্রেনগুলো চলাচল করছে। তবে দুয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। পরবর্তীতে শিডিউল অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করবে।
তিনি জানান, ঢাকা থেকে আসা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেসে ১৯টি বগি ছিল। ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পানির কারণে সাতকানিয়ায় আটকে থাকা ট্রেনটিও চট্টগ্রামে এসেছে।
এদিকে রবিবার ট্রেন চলাচল শুরুর আগে এদিন সকাল সোয়া ১১টার দিকে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে আজও বৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজব্যবস্থা সংস্কারের পরও গত মঙ্গলবার রেললাইনে পানি উঠেছে। এরপর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে তদারকি করা হয়। গত বুধবার রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রেললাইন পরিদর্শন করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রেলপথের বিভিন্ন অংশ পাথর দিয়ে প্রায় এক ফুট উঁচু করা হয়েছে। গতকাল শনিবার কাজ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
এর আগে গত ৭ জুলাই টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রেললাইন পানিতে তলিয়ে গেলে ওই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন ও জানালিহাটের মাঝামাঝি এলাকায় আটকা পড়ে। পরে ট্রেনটি আবার চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ওই দিন দুপুর থেকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে ইতোমধ্যে ওই রুটে যাত্রা বাতিল হওয়া বিভিন্ন ট্রেনের আগাম টিকিট সংগ্রহ করা যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন ৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ২ জোড়া ও ঢাকা থেকে ২ জোড়া চলাচল করে। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে।




