• ই-পেপার

বালোগানের শাস্তি বদলেছিল একক সিদ্ধান্তে

২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ?

ক্রীড়া ডেস্ক
২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ?
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর টুর্নামেন্টটি ৬৪ দলে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও মূল্যায়ন করা হবে। ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বকাপ এমন একটি আসর হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি দেশের অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকবে।

সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় আমাদের শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার কথা ভাবলে চলবে না। এটি পুরো বিশ্বের জন্য। প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা (২০২৬) বিশ্বকাপের পর খতিয়ে দেখব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দলের মান অনেক বেড়েছে এবং তারা আরো উন্নতি করছে। ছোট দেশগুলোকে যদি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের উন্নতির অনুপ্রেরণাও কমে যাবে।’

ইনফান্তিনো মনে করেন, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ দারুণ সফল হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, এবার আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টিই নকআউট পর্বে উঠেছে। অথচ আগের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মাত্র ৫টি দল।

ফিফা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনমেবল) ২০৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে প্রতিযোগিতার শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল উরুগুয়ে।

যদিও সবাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে নন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (উয়েফা) সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘বাজে ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফার মতে, আরো দল বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতায় ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার (কনকাকাফ) সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি মনে করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর জন্য ‘ক্ষতিকর’ হতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে বিড করতে পারে এবং টুর্নামেন্ট ৬৪ দলের হলেও তা সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।’

ফিফার বর্তমান অবস্থান হলো, সদস্যদের যেকোনো প্রস্তাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে এখনই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা কাউন্সিল।

যে ইতিহাস আগে দেখেনি বিশ্বকাপ

ক্রীড়া ডেস্ক
যে ইতিহাস আগে দেখেনি বিশ্বকাপ
প্রতীকী ছবি

এবারের বিশ্বকাপ অনেক প্রথমের সাক্ষী হয়েছে। শুরুটা হয় ৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপ দিয়ে। এ ছাড়া দল ও খেলোয়াড় মিলিয়ে আরো অনেক প্রথমের দেখা মিলেছে। সেমিফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হওয়ার পর এবার আরেকটি প্রথমের দেখা পাওয়া গেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৪ দল সেমিফাইনালে সুযোগ পেয়েছে। ১৯৯২ সালে র‌্যাংকিং চালু হওয়ার পর এমন ইতিহাস কখনো দেখা যায়নি। ইতিহাস গড়া চার দল হচ্ছে—আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।

রেকর্ডের সাক্ষী হওয়া চার দলেরই আবার নামের পাশে রয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি। বিশ্বকাপ জিতেছে এমন ৪ দল তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে ঘটেছিল।

১৯৭০ বিশ্বকাপের সেমিতে সুযোগ পাওয়া ৪ বিশ্বকাপজয়ী দল হচ্ছে ব্রাজিল, ইতালি, উরুগুয়ে ও পশ্চিম জার্মানি। বিপরীতে ১৯৯০ বিশ্বকাপের ৪ দল ছিল পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ইতালি ও ইংল্যান্ড।

ইতিহাস বলছে আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলবে

ক্রীড়া ডেস্ক
ইতিহাস বলছে আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলবে
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জেতার পর মেসিকে শূন্যে ছুঁড়েন সতীর্থরা। ছবি : রয়টার্স

কথায় আছে, অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকলে জীবন সুন্দর মতো চলবে না। তবে এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলতে নামার আগে আর্জেন্টিনা চাইলে অতীতকেই আঁকড়ে ধরতে পারে। কেননা অতীতেই লুকিয়ে আছে তাদের মঙ্গল।

সেটা কিভাবে? চলুন জেনে নেই। ইতিহাস জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত ৬ বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। যার কোনোটিতেই হারেনি তারা। এবার সপ্তমবারের মতো শেষ চারে খেলবে তারা। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে নামার আগে অতীতই লিওনেল মেসিদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ইতিহাস তাই জানাচ্ছে এবারও ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা।

তবে ইতিহাস পক্ষে থাকলেই হবে না, কাজটা করতে হবে মেসি-হুলিয়ান আলভারেজদেরকেই। ঠিক যেমন আগের সেমিফাইনালে তাদের পূর্বসূরি কিংবা নিজেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করেছেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক আর্জেন্টিনার খেলা সেমিফাইনালগুলোর ফলাফল।

আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল খেলার শুরুটা হয় ১৯৩০ বিশ্বকাপে। উরুগুয়ে বিশ্বকাপে সেবার যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারায় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়বার সেমিফাইনাল খেলার জন্য ৫৬ বছর অপেক্ষা করতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেবার দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। ফল ছিল ২-০। মাঝে অবশ্য ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হলেও সেবার সেমিফাইনালের ফরম্যাট ছিল না।

১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এবার ইতালিকে টাইব্রেকারে হারায় আলবিসেলেস্তারা। মূল ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হলে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে খেলে আর্জেন্টিনা। 

২৪ বছর পর আবারও সেমিফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকারে হারিয়ে মারাকানায় ফাইনাল খেলেন মেসিরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে সেবার ম্যাচের ফল ছিল ০-০।

মারাকানায় বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার খুব কাছে গিয়ে পারেননি মেসি। তবে সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেই স্বাদ পান তিনি। ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অমরত্বের স্বাদ পাওয়ার আগে তার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায়। সেমিফাইনালের ফল ছিল ৩-০।

এবার ইতিহাসের বইয়ে আরেকটি পৃষ্ঠা যোগ হবে নাকি ওখানেই দাঁড়ি পড়বে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। ফল দেখতে আগামী ১৫ জুন রাতে আটলান্টায় রেফারির শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ইংল্যান্ড নাকি আর্জেন্টিনা জয়ের হাসি হাসবে।

সুপারকম্পিউটারের হিসাবে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা কেমন

ক্রীড়া ডেস্ক
সুপারকম্পিউটারের হিসাবে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা কেমন
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হুলিয়ান আলভারেজের (মাঝে) গোলের পর আর্জেন্টিনার উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের ট্রফি কার হাতে উঠবে তা দেখার অপেক্ষা আর দুই ম্যাচের। ৪৮ দলের মধ্যে এখন টিকে রয়েছে ৪ দল। সেই চার দল হচ্ছে—ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা।

চার দলের মধ্যে কার হাতে শিরোপা উঠতে পারে সেটাই তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বিশ্লেষণ করেছে অপটার সুপারকম্পিউটার। ২৫ হাজারবার সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করে সুপারকম্পিউটার জানিয়েছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ফ্রান্স। ফরাসিদের পরের তালিকায় যথাক্রমে স্পেন, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা।

প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। আগামীকাল রাতে ডালাসে হওয়া সেমিফাইনালে ফ্রান্সের জয়ের পাল্লা ভারী বলে জানিয়েছে সুপারকম্পিউটার। ৫৭.৭ ভাগ জয়ের সম্ভাবনা কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলেদের। আর ফাইনালে উঠলে তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ। বিপরীতে স্পেনের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ। আর ট্রফি ঘরে তোলার সম্ভাবনা ২৩.৪ ভাগ।

 

অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা। নিজেদের ইতিহাসে একবারই ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার সম্ভবনা ৫০.৯ ভাগ। বাকি ৪৯.১ শতাংশ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। ফাইনালে উঠলে আর্জেন্টিনার ২০.৬ শতাংশের বিপরীতে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ।

অর্থাৎ সুপারকম্পিউটারের হিসেবে সবচেয়ে কম বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার। সবার শীর্ষে ফ্রান্স। অন্যদিকে দুইয়ে থাকা স্পেনের বিপরীতে ৩ নম্বরে ইংল্যান্ড।