• ই-পেপার

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল বোর্ড

৫ জেলা বাদে ৫৯ জেলার এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নির্দেশনা দিল আন্ত শিক্ষা বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জেলা বাদে ৫৯ জেলার এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নির্দেশনা দিল আন্ত শিক্ষা বোর্ড
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামসহ ৫ জেলার ছাড়া দেশের বাকি ৫৯ জেলার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং ওই বোর্ডের আওতাধীন মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে।

চট্টগ্রাম ছাড়া বাকি জেলাগুলো হলো রাঙামাটি, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।

রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা যশোর, সিলেট, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যতীত) আওতাধীন সকল জেলার পরীক্ষাসমূহ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নির্ধারিত তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাসমূহ পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩, ১৫ এবং ১৬ জুলাইয়ের এইচএসসি/আলিম/ এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত থাকবে।
 
এর আগে এদিন দুপুরে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি দেখে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা নেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 
 
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ‎ঢাকার বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন। গতকাল থেকে ৬৪ জেলার প্রশাসক (ডিসি) ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কোথায় কী পরিস্থিতি রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হবে। কোনো এলাকার পরীক্ষা স্থগিত করতে হলে তা পরবর্তী সময়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জবিতে বাসের ওপর উপড়ে পড়ল শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া

জবি প্রতিনিধি
জবিতে বাসের ওপর উপড়ে পড়ল শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীতে টানা ভারি বর্ষণের প্রভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে একটি শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছ উপড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের ওপর পড়েছে। এতে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় এবং আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন রফিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গাছটির গোড়ার মাটি নরম হয়ে শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ে। বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার মধ্যে একপর্যায়ে বিশাল কৃষ্ণচূড়াগাছটি হঠাৎ উপড়ে পাশেই পার্কিং করে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের ওপর আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে গাছটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গাছটির ভারী কাণ্ড ও ডালপালার আঘাতে বাসটির ছাদ, জানালা ও বিভিন্ন অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলটি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চলাচলের পথ হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও সে সময় বাসে কিংবা গাছের নিচে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত রাত থেকে টানা ভারি বৃষ্টির কারণে গাছটির গোড়ার মাটি সরে যায়। হঠাৎ বিকট শব্দে গাছটি উপড়ে পাশে রাখা বাসের ওপর পড়ে। তখন আশপাশ দিয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচল করছিলেন। ভাগ্য ভালো, বাসে বা গাছটির নিচে কেউ ছিলেন না। না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

ঘটনার পরপরই উপড়ে পড়া গাছ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাস দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসিরুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গাছটি ভেঙে পড়ার সময় বাসের ভেতরে বা আশপাশে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। গাছের আঘাতে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় মুহূর্তের জন্য ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা সতর্ক রয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কত টাকা পাবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কত টাকা পাবে?
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন। পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। মোট ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন ছাত্রী (৫৪.৭১ শতাংশ) এবং ৩৫ হাজার ৮৯২ জন ছাত্র (৪৫.২৯ শতাংশ) বৃত্তি অর্জন করেছে।

মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) এবং ৪৬ হাজার ২৮১ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। বিদ্যালয়ভিত্তিক হিসাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৯৬২ জন এবং কিন্ডারগার্টেন থেকে ৯ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৮২টি বৃত্তি পেয়েছে ঢাকা জেলার শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ১৮৮টি বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলার শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি ৮ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে দিনাজপুর জেলায়।

বর্তমানে ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা ও বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে পাচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুমোদিত হলে বৃত্তির অর্থ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক ভাতা ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকায় উন্নীত হবে।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
প্রতীকী ছবি

রাজধানীতে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রবিবার (১২ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্ষা মৌসুম ও টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকার বেশ কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সকালের দিকে প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা আগে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় তৎপর রয়েছেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে রাস্তায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তা নেওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বছর ঢাকা মহানগরের অসংখ্য কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব এড়াতে গণপরিবহন বা নিজস্ব যানবাহনে যাতায়াতকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।