• ই-পেপার

দামেস্কে প্রথমবারের মতো বসল নতুন সিরীয় সংসদ

টান পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
টান পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে!
ছবি : রয়টার্স

যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুত সঙ্কট আরো তীব্র হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবেলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

থিংক ট্যাংক 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ'-সিএসআইএস’এর প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ’গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুত এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’ ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্র নীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুত যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্র ভান্ডারে যুক্ত হয়নি। সিএসআইএস‘এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; ততদিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে।

পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর।

সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি।

পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন। মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবসহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।

যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ইরানে ১৪০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ৫ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা তেহরানের

ক্রীড়া ডেস্ক
ইরানে ১৪০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ৫ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা তেহরানের
বাঁয়ে ইরানের অজ্ঞাত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দৃশ্য, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার পর ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে ছবি : রয়টার্স

ইরানে ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতসহ ৫ উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। 

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ইরান কর্তৃক আন্তর্জাতিক নৌ রুটটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। 

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার প্রেক্ষিতে ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সেন্টকম আরো জানিয়েছে, হামলায় জাহাজের একজন বেসামরিক ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। জাহাজে আগুন লাগায় ইঞ্জিন রুমের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। এত চলার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে।

এর চার ঘন্টা পর মার্কিন হামলা সম্পন্ন হয়েছে বলে সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ অভিযানে প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি, গোলাবারুদের গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র। যা আগের দুই দফার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জন্য ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র ও জ্বালানি ভরার স্থাপনায় তারা ‘ভারী ও আকস্মিক’ হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে। 

আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ দাবি করেছে, হামলায় এসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আরো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এটি তাদের পাল্টা অভিযানের তৃতীয় ধাপ।

আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং ঘাঁটির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।

তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

তাদের দাবি, কুয়েতে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদের গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায়ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

ভারতের কর্ণাটক

ভাঙতি না থাকায় পরিবহনমন্ত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর

অনলাইন ডেস্ক
ভাঙতি না থাকায় পরিবহনমন্ত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কর্ণাটকের পরিবহনমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ ছদ্মবেশে গণপরিবহন পরিদর্শনে গিয়ে যাত্রীদের নিত্যদিনের ভোগান্তির বাস্তব চিত্রের মুখোমুখি হয়েছেন। ১০০ রুপির নোটের ভাঙতি না থাকায় এক বাস কন্ডাক্টর তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বেঙ্গালুরুর বাসসেবা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মুখে মাস্ক পরে সাধারণ যাত্রীর বেশে হেব্বাল থেকে নাগাশেট্টিহাল্লিগামী একটি বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিএমটিসি) বাসে ওঠেন সুরেশ। তিনি কন্ডাক্টরকে একটি ১০০ রুপির নোট দিয়ে দুটি টিকিট চান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, কন্ডাক্টর তার কাছে ভাঙতি চাইলে মন্ত্রী জানান, তার কাছে খুচরা রুপি নেই। তখন কন্ডাক্টর নিজের রুপির ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, তার কাছেও পর্যাপ্ত ভাঙতি নেই। এরপর ভাঙতি দিতে না পারলে মন্ত্রীকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন ওই কন্ডাক্টর। মুখে মাস্ক থাকায় কন্ডাক্টর বুঝতে পারেননি যে যাত্রীটি রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী। কন্ডাক্টরকে কোনো উত্তর না দিয়েই মন্ত্রী বাস থেকে নেমে যান।

সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত তিনি জয়মহল, টিভি টাওয়ার, আরটি নগর, সিবিআই রোড, হেব্বাল, মান্যতা টেক পার্ক, নাগাওয়ারা, হেন্নুর, হেন্নুর বান্দে, বায়রাথি বান্দে ও গেদ্দালাহাল্লি রুটে গণপরিবহন সেবা পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় রাজ্যটির পরিবহনমন্ত্রী অল্প দূরত্বের জন্য একটি অটোরিকশাতেও ভ্রমণ করেন। নাগাশেট্টিহাল্লি এলাকায় যাত্রা শেষে মিটারে ভাড়া ৩০ রুপি দেখালেও চালক তার কাছে ৩৬ রুপি দাবি করেন। কারণ জানতে চাইলে চালক বলেন, মিটারটি পুনরায় ক্যালিব্রেট করা হবে। শেষ পর্যন্ত পরিবহনমন্ত্রী চালককে ৪০ রুপি পরিশোধ করে অটোরিকশা থেকে থেকে নেমে যান।

সুপার এল নিনোর প্রভাব

বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম
সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি চলতি বছর বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও দামে দ্বিতীয় ধাক্কা দিতে পারে ‘সুপার’ এল নিনো। এর প্রভাব ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। সুপার এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির একটি চরম জলবায়ুগত পর্যায়। খবর গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) পূর্বাভাসের বরাতে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনোর চক্রটি বিশ্বজুড়ে বন্যা ও খরার ঝুঁকি বাড়িয়ে ফসল উৎপাদন এবং খাদ্য সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে এটিকে ‘সুপার’ বা ‘গডজিলা’ এল নিনো বলা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এল নিনো ইতোমধ্যে ফসলের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।  ভারতে বর্ষা মৌসুম শুষ্ক হয়ে উঠেছে। কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের কিছু অংশে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৫০ শতাংশ। যা গম, চাল ও আখের সরবরাহকে ব্যাহত করতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর একটি পরোক্ষ প্রভাব বিশ্বজুড়েই পড়বে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যয়ের এই সম্পর্ক দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে। চূড়ান্ত পরিস্থিতি প্রকাশ পেতে পারে ২০২৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে।

ইতালীয় ব্যাংক ইউনিক্রেডিটের মতে, ‘সুপার’ এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। এটি প্রায় ৩৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ উৎপাদন ক্ষতির সমান।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, প্রধান প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ফসল, যেমন- চাল, পাম অয়েল, চিনি ও কফির দাম ৫০ থেকে ১০০ শতাংবা বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি মূলত ‘ক্লাইমেটফ্লেশন’ বা জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতিকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে।

অতীত উদাহরণ থেকে দেখা গেছে, এল নিনো বারবারই ফসল উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের ভয়াবহ এক এল নিনোর কারণে চীন, আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল, ব্রাজিল, মিশর ও ভারতে খরা দেখা দিয়েছিল। ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় রূপ নেওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। কেবল ভারতে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের মধ্যে ৬০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়।