• ই-পেপার

সুপার এল নিনোর প্রভাব

বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম

ভারতের কর্ণাটক

ভাঙতি না থাকায় পরিবহনমন্ত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর

অনলাইন ডেস্ক
ভাঙতি না থাকায় পরিবহনমন্ত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কর্ণাটকের পরিবহনমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ ছদ্মবেশে গণপরিবহন পরিদর্শনে গিয়ে যাত্রীদের নিত্যদিনের ভোগান্তির বাস্তব চিত্রের মুখোমুখি হয়েছেন। ১০০ রুপির নোটের ভাঙতি না থাকায় এক বাস কন্ডাক্টর তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বেঙ্গালুরুর বাসসেবা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মুখে মাস্ক পরে সাধারণ যাত্রীর বেশে হেব্বাল থেকে নাগাশেট্টিহাল্লিগামী একটি বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিএমটিসি) বাসে ওঠেন সুরেশ। তিনি কন্ডাক্টরকে একটি ১০০ রুপির নোট দিয়ে দুটি টিকিট চান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, কন্ডাক্টর তার কাছে ভাঙতি চাইলে মন্ত্রী জানান, তার কাছে খুচরা রুপি নেই। তখন কন্ডাক্টর নিজের রুপির ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, তার কাছেও পর্যাপ্ত ভাঙতি নেই। এরপর ভাঙতি দিতে না পারলে মন্ত্রীকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন ওই কন্ডাক্টর। মুখে মাস্ক থাকায় কন্ডাক্টর বুঝতে পারেননি যে যাত্রীটি রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী। কন্ডাক্টরকে কোনো উত্তর না দিয়েই মন্ত্রী বাস থেকে নেমে যান।

সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত তিনি জয়মহল, টিভি টাওয়ার, আরটি নগর, সিবিআই রোড, হেব্বাল, মান্যতা টেক পার্ক, নাগাওয়ারা, হেন্নুর, হেন্নুর বান্দে, বায়রাথি বান্দে ও গেদ্দালাহাল্লি রুটে গণপরিবহন সেবা পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় রাজ্যটির পরিবহনমন্ত্রী অল্প দূরত্বের জন্য একটি অটোরিকশাতেও ভ্রমণ করেন। নাগাশেট্টিহাল্লি এলাকায় যাত্রা শেষে মিটারে ভাড়া ৩০ রুপি দেখালেও চালক তার কাছে ৩৬ রুপি দাবি করেন। কারণ জানতে চাইলে চালক বলেন, মিটারটি পুনরায় ক্যালিব্রেট করা হবে। শেষ পর্যন্ত পরিবহনমন্ত্রী চালককে ৪০ রুপি পরিশোধ করে অটোরিকশা থেকে থেকে নেমে যান।

৩৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বন্ধুর নামে লিখে দিলেন চীনা তরুণ

অনলাইন ডেস্ক
৩৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বন্ধুর নামে লিখে দিলেন চীনা তরুণ
সংগৃহীত ছবি

চীনের সাংহাইয়ে ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী প্রায় দুই কোটি ইউয়ানের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ) সম্পদ নিজের পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে শৈশবের এক বন্ধুর নামে  লিখে উইল করে দিয়েছেন। উইলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। শুধু তার পদবি ‘লি’ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি তার করা উইলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সত্যায়িত হয়েছে। ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ জানিয়েছে, লির সম্পদের মধ্যে একটি ফ্ল্যাট এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয় রয়েছে। লি জানান, তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর দুজনই নতুন করে বিয়ে করেন। এরপর তারা তাকে এই সম্পদগুলো দেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণের পাশাপাশি বাস্তব চিন্তা থেকেও তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলায় অংশ নেন। তাই ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার সম্পত্তি যেন তার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বণ্টন হয়, সে জন্য আগেই উইল করে রেখেছেন। লি আরো জানান, তার বাবা ও মায়ের বর্তমান জীবনসঙ্গীদের তিনি নিজের পরিবারের সদস্য বলে মনে করেন না। তাই তারা ভবিষ্যতে যেন তার সম্পত্তির কোনো অংশ না পান, সেটিও তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। এ কারণেই তিনি তার শৈশবের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নামে সব সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। তার ভাষায়, বহু বছর ধরে ওই বন্ধুকে তিনি চেনেন এবং তার ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

চীনের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, লি অবিবাহিত এবং তার কোনো সন্তান নেই। ফলে সাধারণ নিয়মে তার মৃত্যুর পর বাবা-মাই তার বৈধ উত্তরাধিকারী হতেন। তবে দেশটির আইনে বৈধভাবে উইল করলে নিকট আত্মীয়দের বাইরে অন্য যেকোনো ব্যক্তির নামেও সম্পত্তি রেখে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। লি তার উইল সাংহাইয়ের ‘চায়না উইল রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে’ নিবন্ধন করেছেন। কেন্দ্রটির নিয়ম অনুযায়ী, যাকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে, তাকে উইলকারীর মৃত্যুর ৬০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সম্পত্তি গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না করলে তিনি ওই সম্পত্তির ওপর আইনগত দাবি হারাতে পারেন।

এই ঘটনায় চীনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতাও সামনে এসেছে। চায়না উইল রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের তথ্য বলছে, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি তরুণ-তরুণী অল্প বয়সেই উইল করছেন। তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে উইল নিবন্ধনকারীদের গড় বয়স ৭৭ বছর থেকে কমে ৬৭ বছরে নেমে এসেছে। কর্মকর্তাদের মতে, আশির দশক, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০ সালের পর জন্ম নেওয়া মানুষের মধ্যে আগেভাগেই সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার নিয়ে পরিকল্পনা করার প্রবণতা বাড়ছে। এটি আর্থিক পরিকল্পনা এবং উত্তরাধিকার বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে, লির সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই নিজের আইনি অধিকার ব্যবহার করে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করার কারণে তার প্রশংসা করেছেন। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে কেন তিনি একজন বন্ধুকে তার সব সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

৩৫ বছর পর ঋণ শোধ, প্রতিশ্রুতি আর বন্ধুত্বের নিদর্শন

অনলাইন ডেস্ক
৩৫ বছর পর ঋণ শোধ, প্রতিশ্রুতি আর বন্ধুত্বের নিদর্শন
সংগৃহীত ছবি

সততা, প্রতিশ্রুতি আর বন্ধুত্বের চমৎকার এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন ইসমাইল নামে ভারতের কেরালার এক ব্যক্তি। ৩৫ বছর পর খুঁজে বের করেছেন হারিয়ে যাওয়া এক বন্ধুকে এবং শোধ করেছেন তার কাছ থেকে নেওয়া ঋণ।

’৯১ সালে এক হাজার রুপির সমপরিমাণ ঋণ নিয়েছিলেন তিনি, শোধ করেছেন ২৫ হাজার রুপি। তবে টাকার অঙ্ক নয়, ঋণ শোধে তার চেষ্টা এবং বন্ধুত্বের প্রতি তার প্রগাঢ় নিষ্ঠা সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

১৯৯১ সালে কেরালার ইসমাইল আর তেলেঙ্গানার এদলা লাচান্না  সৌদি আরবের আবকাইকে কাজ করতেন। অন্য তিন প্রবাসী শ্রমিকের সঙ্গে তারা একই বাসায় থাকতেন এবং প্রায় পাঁচ বছর তারা একসঙ্গে কাটান। সেই সময়ে ইসমাইল লাচান্নার কাছ থেকে ১২০ সৌদি রিয়াল ধার নিয়েছিলেন। তৎকালীন ভারতীয় মূদ্রায় তার মূল্যমান ছিল এক হাজার রুপি। কথা দিয়েছিলেন, সামর্থ্য হলেই তিনি ধার শোধ করে দেবেন। কিন্তু কিছু দিন পরই লাচান্না ভারতে ফিরে আসেন। সে সময় মোবাইল ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায়, দুই বন্ধু এক সময় একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

টাকার অঙ্কটা খুব বড় না হলেও, ইসমাইল কখনো তা ভুলে যাননি। সম্প্রতি তিনি তার পুরনো বন্ধুকে খুঁজে বের করার এবং টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। আবছা কিছু স্মৃতি ছাড়া তার কাছে লাচান্নার কোনো ফোন নম্বর, ঠিকানা বা অন্য কোনো যোগাযোগের তথ্য ছিল না।

ইসমাইলের শুধু একটি কথাই মনে ছিল, লাচান্নার বাড়ি ধর্মপুরীতে। এই একটিমাত্র তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইসমাইল খোঁজা শুরু করেন। ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে খুঁজতে খুঁজতে গত ৯ জুলাই ইসমাইল তেলেঙ্গানার জাগতিয়াল জেলার ধর্মপুরীতে পৌছান। স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে তিনি অবশেষে তার প্রাক্তন সহকর্মীর বাড়ি খুঁজে পান। তবে লাচান্নাকে পাননি।

লাচান্না এখন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে কাজ করেন। ১২০ সৌদি রিয়াল বা এক হাজার রুপি ঋণের বিপরীতে ইসমাইল লাচান্নার পরিবারের হাতে ২৫ হাজার রুপি তুলে দেন। ৩৫ বছর পর দুই বন্ধু হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলেন।

ঋণ শোধের খবরটি লাচান্নাকে অবাক করে দেয়। ইসমাইলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লাচান্না বলেন, ‘এই উদ্যোগটি আমাদের বন্ধুত্বের গভীরতাই প্রকাশ করে।’

লাচান্না বলেন, ‘আমরা দুজনেই সৌদি আরবের আবকাইকে থাকতাম। সন্ধ্যায় আমরা তার রুমে যেতাম, রান্না করতাম এবং একসঙ্গে খেতাম। এভাবেই আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে আমি তাকে সৌদি আরবের মুদ্রা ১২০ রিয়াল ধার দিই। এই টাকা ধার দেওয়ার পর প্রায় ৩৫ বছর কেটে গেছে। আমি জানি না তিনি কিভাবে ১২০ রিয়ালের হিসাব করে ২৫ হাজার রুপি দিলেন। তিনি অত্যন্ত সৎ এবং ভালো একজন মানুষ। সেই কারণেই তিনি আমাকে বেশি টাকা দিয়েছেন। এটি মূলত আমাদের বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।’

লাচান্না আরো বলেন, ‘তিনি এই অঙ্কের সঙ্গে সুদ যোগ করেছেন কি না তা আমি জানি না। যেহেতু অনেক বছর পার হয়ে গেছে, আমার মনে হয় তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার আগে হয়তো সুদ যোগ করেছেন, তবে আমি নিশ্চিত নই।’

ভারতে করোনাভাইরাসে দুজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে করোনাভাইরাসে দুজনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ভারতে আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপা জেলায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আরো ৮ জন সক্রিয় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, কাদাপার রাজামপেট এলাকার ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার পর করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হন। পরে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া কাদাপার ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতা নিয়ে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে হাসপাতালের করোনা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এদিকে কাদাপা মেডিক্যাল কলেজের ২৫ বছর বয়সী এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এনডিটিভি বলছে, নতুন সংক্রমণের পর স্বাস্থ্য বিভাগ রাজ্যটির ওই জেলায় বিশেষ টিম মোতায়েন করেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি নমুনার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাকি পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

জেলা পরিষদের এক বৈঠকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে জেলায় আটজন সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছে। ভাইরাসের ধরন শনাক্ত এবং সংক্রমণের ধরন বোঝার জন্য নমুনা পুনের একটি পরীক্ষাগারে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।