ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট অভিনেতা সালমান খানের অভিযোগের পর ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ চলচ্চিত্রের টিজার ও অন্যান্য প্রচারসামগ্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি জ্যোতি সিং নির্মাতাদের টিজারটি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ না মানলে এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইউটিউবসহ সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কনটেন্টটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে।
আদালতে দায়ের করা আবেদনে সালমান খান দাবি করেন, ছবিটির টিজার ও প্রচারসামগ্রীতে তার নাম উল্লেখ না থাকলেও তাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তার অভিযোগ, এতে তার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং এটি মানহানিকর।
আদালতে টিজারটি দেখার পর বিচারপতি জ্যোতি সিং বলেন, এটি যতক্ষণ জনসমক্ষে থাকবে, ততক্ষণ সালমান খানের সুনামের ক্ষতি হবে। তিনি মন্তব্য করেন, এভাবে একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গেও আচরণ করা যায় না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, একজন মানুষের সুনাম গড়ে তুলতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু তা নষ্ট হতে বেশি সময় লাগে না।
‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ ছবিটি ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার (ব্ল্যাকবাক) শিকার মামলার সঙ্গে সালমান খানের কথিত সংশ্লিষ্টতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টিজারে সালমান খানের মতো দেখতে একটি চরিত্র এবং তার পরিচিত নীল ব্রেসলেটের মতো একটি ব্রেসলেট দেখানো হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সালমান খান আরো দাবি করেন, মামলাটি এখনও বিচারাধীন থাকায় এ ধরনের চলচ্চিত্র তার ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে ছবিটির অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ছবির প্রকৃত কাহিনি সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। ট্রেলার দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, তাকে যে গল্প জানানো হয়েছিল, নির্মিত ছবির বিষয়বস্তু তার থেকে ভিন্ন। তার দাবি, সালমান খানের মতো দেখতে একটি চরিত্র তৈরি করা হবে—এ বিষয়েও তাকে আগে কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে কৃষ্ণসার শিকারের অভিযোগে সালমান খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।





