• ই-পেপার

বসুন্ধরা শুভসংঘ আনন্দ মোহন কলেজ শাখার উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতাবিষয়ক সেমিনার

বগুড়ার গাবতলীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সড়কে ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ

আব্দুস সালাম বাবু, বগুড়া
বগুড়ার গাবতলীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সড়কে ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ

প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে গাবতলীতে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও গাবতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম।

এ সময় গাবতলী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, পৌর জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হামিদুল হক শিলু, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিসার রহমান, জেলা যুবদলের সদস্য সাব্বির এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের সজল শেখ, দৌলত জামান দীপু, আব্দুল গনি, ছনি, নিপুল ও বাবুসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম বলেন, বগুড়ার কৃতি সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সারাদেশে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃক্ষ বিতরণ ও রোপণ করছে এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মানবিক কর্মকাণ্ড অসহায় দরিদ্রদের  স্বনির্ভর করছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় তারা ব্যাপক কাজ করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় কর্মসূচির আওতায় সোন্দাবাড়ী এলাকার সড়কের দুই পাশে ১০০টি ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকদের আশা, এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নীলফামারী সরকারি কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ‘ফল উৎসব’

মো. ইমরান শাহ, নীলফামারী
নীলফামারী সরকারি কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ‘ফল উৎসব’
সংগৃহীত ছবি

দেশীয় ফলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি, পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নীলফামারী সরকারি কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ‘ফল উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রঙিন আয়োজনে মুখরিত এ উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভসংঘের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

রবিবার (২৬ জুলাই) বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী সরকারি কলেজ শাখার আয়োজনে কলেজ প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম. সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মো. সামসুল আলম, সহযোগী অধ্যাপক সোহানা জামান, সহযোগী অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান, বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী সরকারি কলেজ শাখার প্রধান উপদেষ্টা শায়লা পারভীন এবং উপদেষ্টা উৎপল চন্দ্র রায়, মো. আবু বকর সিদ্দিক ও রোমানা আক্তারসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের সার্বিক নেতৃত্ব দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. ইমরান শাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও আমাদের লোকজ সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমানে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি তরুণদের ঝোঁক বাড়ছে। এ অবস্থায় বিষমুক্ত, স্বাস্থ্যকর ও দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।’


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু একটি সামাজিক সংগঠন নয়, এটি তরুণদের মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের চর্চার একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। শুভসংঘের সদস্যরা যেভাবে ইতিবাচক, সৃজনশীল ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা আমাদের কলেজের জন্য গর্বের বিষয়।’

আমন্ত্রিত অতিথি প্রফেসর মো. সামসুল আলম তার বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও গঠনমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রধান উপদেষ্টা শায়লা পারভীন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের মানবিক, সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কলেজ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ থাকলে ভবিষ্যতেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও ব্যতিক্রমধর্মী ও সময়োপযোগী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।’

তিনি আয়োজনটি সফল করতে সংগঠনের সকল সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সংগঠনের উপদেষ্টা মো. আবু বকর সিদ্দিক তার বক্তব্যে দেশীয় বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ, ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং মানবদেহে এসব ফলের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত দেশীয় মৌসুমি ফল খাদ্যতালিকায় রাখার আহ্বান জানান।

সভাপতি মো. ইমরান শাহ বলেন, ‘দেশীয় ফল আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুষ্টির অন্যতম উৎস। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেকেই দেশীয় ফল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব ফলের পরিচিতি ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি সফল হয়েছে।’

উৎসবে আপেল, কমলা, আম, আনারস, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, কলা, খেজুর, আঙুর, লটকন, জামরুলসহ নানা ধরনের দেশীয় ও মৌসুমি ফলের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী করা হয়। অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ফল দিয়ে আপ্যায়নের পাশাপাশি ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং দেশীয় ফল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা আগ্রহভরে বিভিন্ন ফল সম্পর্কে জানার পাশাপাশি দেশীয় ফল খাওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করেন।

'শুভ কাজে সবার পাশে'—এই স্লোগানকে ধারণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের নিরলস পরিশ্রমে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

জাকারিয়া জামান, পলাশবাড়ী থেকে
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
ছবি: কালের কণ্ঠ

অভাব কখনো মানুষের স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারে না, যদি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে কেউ পাশে দাঁড়ায়। সে লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় পলাশবাড়ীর দরিদ্র নারীদের কল্যাণে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

তিন মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলে ২৪ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে সংগঠনটি। আর সেই সেলাই মেশিন যেন শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং দরিদ্র নারীদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন প্রশিক্ষিত নারীরা।

সোমবার (২৭ জুলাই) পলাশবাড়ী উপজেলা অডিটরিয়ামে সুরুজ হক লিটনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় আয়োজিত সেলাই মেশিন ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম রুবেল, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোছা. সায়মুম মুসতারী।

উপকারভোগী নারীদের একজন উপজেলা পর্যায়ের পরিচিত নারী ফুটবলার হাবিবা। মাঠে দৌড়ে বেড়ানো এই স্বপ্নবাজ তরুণীর জীবনও ছিল অভাবের বেড়াজালে আটকে। কৃষক বাবার চার সন্তানের সংসারে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবার পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবারের আর্থিক সংকট তাকে বারবার থামিয়ে দিতে চাইলেও হার মানেননি তিনি। বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রশিক্ষণ শেষে হাতে পাওয়া সেলাই মেশিন এখন তার নতুন আশার আলো। ফুটবলের পাশাপাশি নিজের আয়ে পরিবারকে সহায়তা করার স্বপ্ন দেখছেন হাবিবা।

একই গল্প লিমা আক্তারেরও। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিমার বাবা একজন অটোরিকশাচালক। চার ভাই-বোনের সংসারে প্রতিদিনই অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাদের। বাবার সীমিত আয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় সেলাই প্রশিক্ষণ ও একটি সেলাই মেশিন পেয়েছে লিমা। তার বিশ্বাস, এই মেশিন একদিন তাকে পরিবারের শক্তিতে পরিণত করবে।

হাবিবা কিংবা লিমা—তাদের গল্প আলাদা হলেও বাস্তবতা একই। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এমন ২৪ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ আত্মনির্ভরতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘এটি কোনো সাহায্য নয়, বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার। আমরা চাই, এই সেলাই মেশিনকে কাজে লাগিয়ে নারীরা আত্মনির্ভরশীল হোক, নিজের পরিবারের পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখুক। একটি মেশিন থেকেই একদিন তারা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে আরো অনেক নারীর।’

নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরো বলেন, ‘যে সমাজে নারীরা এগিয়ে যায়, সেই সমাজকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারে না। তরুণরাই সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেয়। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।’

তিনি উপকারভোগীদের সেলাই মেশিনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না। সেই জায়গায় বসুন্ধরা শুভসংঘ এগিয়ে এসে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশা করি, যারা আজ সেলাই মেশিন পেয়েছেন তারা এর সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন। বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।’

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ ও বসুন্ধরা গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার এই মানবিক উদ্যোগের জন্য। পলাশবাড়ী উপজেলার ২৪ জন নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সেলাই মেশিন বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই সেলাই মেশিন শুধু একটি উপকরণ নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। আমি আশা করি, এই কার্যক্রম শুধু ২৪ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে আরো বেশি সংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত নারী এর আওতায় আসবেন। দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। কারণ এখানে অসচ্ছল নারীদের হাতে শুধু একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়নি, তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজেরা আয় করতে পারবেন, অন্যদেরও প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করবেন।’

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আজ যারা এই সেলাই মেশিন পেলেন, তারা এটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারবেন। তাদের সাফল্যই বসুন্ধরার এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।’

বগুড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালের চারা রোপণ

আব্দুস সালাম বাবু, বগুড়া
বগুড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালের চারা রোপণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার গাবতলীতে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী এলাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘের বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সোন্দাবাড়ী এলাকার সড়কের দুই পাশে মোট ১০০টি ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাবতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বগুড়া জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা ও সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বৃক্ষ বিতরণ ও রোপণের মতো কাজ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’

তিনি বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘ নিয়মিতভাবে দুস্থদের সহায়তা ও পরিবেশবান্ধব নানামুখী মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।’

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাবতলী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, পৌর জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হামিদুল হক শিলু, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিসার রহমান এবং জেলা যুবদলের সদস্য সাব্বির।

এ ছাড়া বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য সজল শেখ, দৌলত জামান দীপু, আব্দুল গনি, ছনি, নিপুল, বাবুসহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করে জানান, এই ধরনের চারা রোপণ কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়াতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।