• ই-পেপার

শতবর্ষী বাড়ির রঙের কৌটায় বান্ডিল বান্ডিল টাকা

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ট্রাম্পের সহায়তা চান জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ট্রাম্পের সহায়তা চান জেলেনস্কি
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে দেশটিতে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখন আরো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা আরো বাড়ানো। তিনি বলেন, 'আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা। শান্তিকে আরো কাছে নিয়ে আসতে হবে।' হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ইউক্রেনের এই সিনেটর দীর্ঘদিন ধরে কিয়েভের অন্যতম সমর্থক ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি মারা যান।

দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার মধ্যে থাকা ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অস্ত্র সরবরাহের নীতি থেকে কিছুটা সরে আসেন। এর পরিবর্তে তিনি ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কিনে ইউক্রেনে পাঠানোর সুযোগ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে রয়েছে। ওয়াশিংটন কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সামনের সারির সেনারা যোগাযোগের জন্য যে স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, সেটির সুবিধাও চালু রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক উন্নতির আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় চলতি মাসের শুরুতে।  তুরস্কে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করবেন। তিনি বলেন, কিয়েভ খুব দ্রুত এই ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরেই প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আসছে ইউক্রেন। ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। রাশিয়া মঙ্গলবার জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের ৩৯০টির বেশি ড্রোন মস্কো অঞ্চলে হামলার চেষ্টা করেছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কিছু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রুশ বাহিনী দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি কৃষ্ণ সাগরে থাকা জাহাজ। মস্কোর দাবি, ওই জাহাজে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল। যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


 

‘তোমরা পার্টি করছো, ওরা না খেয়ে আছে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘তোমরা পার্টি করছো, ওরা না খেয়ে আছে’

টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করানোর মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে ধামাকা অভিষেক হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির। তবে আন্দোলনের আগে পরে তাদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক ঘটনায় সিজেপিকে সমালোচনা সইতে হচ্ছে। সিজেপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের আচরণ, কথাবার্তাকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে সমালোচনা করছেন অনেকেই।

২০ জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে প্রকাশ্যে বার্গার খেয়ে পদ হারিয়েছেন সিজেপির সাবেক মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়া। তাদের স্লোগানের ভাষা ও সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টকে ‘বমি আমার মত’ বলে সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। এবার সিজেপির নেতাদের সাফল্য উদযাপন ও নাচানাচির ভিডিও ক্ষুব্ধ করেছে তাদের নেতা ও শুভাকাঙ্খীদেরও।

আন্দোলনের মুখে গত শনিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেদিন রাতেই দিল্লির একটি হোটেলে নেচে গেয়ে, কেক কেটে সাফল্য উদযাপনের পার্টি করেন সিজেপি। পার্টিতে সিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পার্টির ভিডিও সামসাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সিজেপির আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে টানা ২৬ দিন অনশন করা অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুকও উদযাপনের স্টাইল পছন্দ করেনেনি।

তিনি বলেন, ‘বিজয়ের সাথে নম্রতাও থাকা উচিত।’ ‘মর্যাদা, সংযম এবং দায়িত্বশীলতার সাথে’ সাফল্য উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাফল্য অর্জনের মতোই সম্মান ও নম্রতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

সিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ইউটিউবার মেঘনাদও নিজ দলের নেতাদের নাচের ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ।

তিনি বলেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর যখন ডজন ডজন আন্দোলনকারী রাস্তায় গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, তখন দলের নেতারা পার্টি করছিলেন। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মেঘনাদ জানান যে, তিনি এবং আরো কয়েকজন মিলে সেইসব ডজন ডজন আন্দোলনকারীদের খাবার ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন, যারা সিজেপি নেতাদের সাথে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যন্তর মন্তরে ক্যাম্প করছিলেন।

পার্টির ভিডিওটি নিয়ে মেঘনাদ লেখেন, ‘আমি ভোর ৪টার সময় এটি দেখছি। আমি এবং আরো কয়েকজন গত দুই দিন ধরে নিজেদের টাকা দিয়ে সিজেপি-র ফেলে যাওয়া এবং ক্ষুধার্ত স্বেচ্ছাসেবক ও আন্দোলনকারীদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আমি কিছুই বলতাম না, কিন্তু এই ভিডিওটা দেখার পর আমার প্রচণ্ড মাথা গরম হয়ে গেছে।’

সিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে মেঘনাদ বলেন, ‘যখন আপনারা পার্টি করছিলেন, তখনও দিল্লির রাস্তায় ৭০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থী ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কারণ আপনারা তাদের তোয়াক্কা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অভিনন্দন সিজেপি, শেষ পর্যন্ত আপনারাও অন্য আর দশটা সাধারণ রাজনৈতিক দলের মতোই হয়ে গেলেন।’

তবে সাফল্য উদযাপনের স্টাইলের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। বলেন, ‘আমরা যত দিন প্রয়োজন রাস্তায় বসে থাকতে পারি। আমরা নাচতে নাচতে প্রতিবাদ করতে পারি। আবার কোল্ড কফিতে চুমুক দিতে দিতেও দল গোছাতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রজন্মটা ঠিক এমনই। আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, স্থিতিস্থাপক এবং এদের কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা অসম্ভব।’

তিনি আরো যোগ করেন যে, সরকার এবং কিছু টেলিভিশন সঞ্চালক আসলে জেন জি এবং তরুণ প্রজন্মের ভাষাই বোঝেন না।

সৌরভ বলেন, ‘আঙ্কেল আর আন্টিরা অভিযোগ করতেই পারেন। তাদের আমাদের সহ্য করেই চলতে হবে!’ তিনি দাবি করেন, সে রাতের পার্টিটি আসলে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে একটি মিলনমেলা ছিল, যাদের আন্দোলনের নেতারা সম্মান জানাতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের নাচের দৃশ্যগুলো সামনে চলে এসেছে। কিন্তু তার আগে প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে আমাদের মনখোলা কথাবার্তা হয়েছিল। আমরা মেঝেতে বসে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলছিলাম, এবং এটি করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।’

বৈশ্বিক যোগাযোগ বাড়াতে ৪৪ বিমানবন্দর তৈরি করবে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক যোগাযোগ বাড়াতে ৪৪ বিমানবন্দর তৈরি করবে ভারত
ছবি: রয়টার্স

ভারত সরকার দেশজুড়ে নতুন করে ৪৪টি বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৪টি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের 'হাব বিমানবন্দর' হিসেবে তৈরি করা হবে। এসব হাবের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শহরকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার অমৃতসর বিমানবন্দর থেকে 'হাব অ্যান্ড স্পোক মডেল'- এ ফ্লাইট চালু করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। এর আগে বারাণসী থেকে এই ধরনের সেবা শুরু হয়েছিল। অমৃতসর হলো দ্বিতীয় বিমানবন্দর, যেখান থেকে এই মডেলের ফ্লাইট চালু হলো। বর্তমানে ভারতে একটি হাব বিমানবন্দর রয়েছে, সেটি দিল্লি। আর দুটি স্পোক বিমানবন্দর হলো বারাণসী ও অমৃতসর। পরবর্তী স্পোক বিমানবন্দর হিসেবে আহমেদাবাদকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাব অ্যান্ড স্পোক মডেলে বড় একটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ছোট শহর বা আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রীরা প্রথমে ওই হাব বিমানবন্দরে আসেন। এরপর সেখান থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ফ্লাইটে যেতে পারেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলোর বিমানবন্দরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহজে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

অমৃতসর বিমানবন্দরে এই সেবা চালুর অনুষ্ঠানে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব সমীর কুমার সিনহা বলেন, সরকার ৪টি হাব বিমানবন্দর এবং ৪০টি বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের বিমান যোগাযোগ আরো শক্তিশালী হবে এবং দেশটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, হাব অ্যান্ড স্পোক মডেল ভারতের বিমান চলাচলের জন্য একটি ‘সার্বভৌমত্বের মডেল’ এবং একই সঙ্গে ‘সুযোগের মডেল’। তিনি জানান, আগামী ১০ বছরে সরকার ১০০টি বিমানবন্দর এবং ২০০টি হেলিপোর্ট তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে।

হাব অ্যান্ড স্পোক মডেলের আওতায় এয়ার ইন্ডিয়া অমৃতসর থেকে দিল্লির মাধ্যমে ২৭টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যবস্থায় অমৃতসর থেকে যাত্রীরা দিল্লি হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন শহরে যেতে পারবেন। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, অমৃতসর থেকে দিল্লি পৌঁছানোর চার ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীরা ‘ইজি কানেক্ট’ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ফ্লাইট ধরতে পারবেন।

হাব অ্যান্ড স্পোক মডেলের অংশ হিসেবে এয়ার ইন্ডিয়া চালু করেছে ‘ইজি কানেক্ট’ সেবা। এই ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যাত্রীরা যাত্রা শুরুর বিমানবন্দরেই পুরো যাত্রার জন্য একবার চেক-ইন করতে পারবেন। একই সঙ্গে অমৃতসর বিমানবন্দরেই শেষ করতে পারবেন অভিবাসন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। এরপর দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়ে তাদের আবার লাগেজ জমা দিতে হবে না বা টার্মিনাল পরিবর্তনের ঝামেলায় পড়তে হবে না। এয়ার ইন্ডিয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই ব্যবস্থায় যাত্রীরা সহজে ও কম সময়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠতে পারবেন।

মঙ্গলবার থেকে অমৃতসর থেকে প্রতিদিন দুটি ‘ইজি কানেক্ট’ ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আহমেদাবাদ, গোয়া, কোচি এবং ভারতের আরো কয়েকটি শহর থেকেও এই ধরনের ফ্লাইট চালু করা হবে। এর আগে গত ২৫ জুন বারাণসী থেকে প্রথমবারের মতো ‘ইজি কানেক্ট’ সেবা চালু করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া। সরকারের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ছোট শহরের যাত্রীরাও সহজে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন এবং ভারত বৈশ্বিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে।


 

তাপপ্রবাহ ও দাবানলের দ্বিমুখী সংকটে স্পেন-ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক
তাপপ্রবাহ ও দাবানলের দ্বিমুখী সংকটে স্পেন-ফ্রান্স
ছবি : রয়টার্স

স্পেন ও ফ্রান্সে আবারও তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে।

স্পেনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ অন্তত রবিবার পর্যন্ত চলতে পারে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চরম দাবানলের ঝুঁকির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে দমকলকর্মীরা দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোন্দ ও লঁদ এলাকায় তাপপ্রবাহের কারণে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। বুধবার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে জিরোন্দের বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বোর্দো শহরের মেয়র টমাস ক্যাজেনভ বলেন, শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি বড় দাবানল জ্বলছে। তাই সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরো মানুষকে সরিয়ে নিয়ে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দাবানলের কারণে ফ্রান্সে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার এবং স্পেনে ১ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে একটি বড় আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

দাবানলকবলিত জিরোন্দ অঞ্চল পরিদর্শনের সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, দেশটি একেবারে নজিরবিহীন দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে। তার মতে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল।

ম্যাখোঁ জানান, লঁদ অঞ্চলের একটি ছোট দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও পাশের জিরোন্দ অঞ্চলে আগুন নেভানোর চেষ্টা এখনও চলছে। ফ্রান্সে দাবানল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন তাপপ্রবাহের কারণে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দাবানলকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা কিছু অগ্রগতি করেছেন। তবে তাপমাত্রা আবার বাড়বে এবং প্রবল বাতাস বইতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বলেন, দাবানল এমনভাবে ছড়াচ্ছে যেনো এর নিজেরই একটি জীবন রয়েছে।

বোর্দোর দক্ষিণে সেস্তাস শহরের মেয়র জেরোম স্টেফি বিবিসিকে বলেন, এটি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দাবানল হতে পারে। তিনি জানান, মাত্র দুই দিন আগে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রাতের মধ্যে তার শহর থেকে ১৭ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

স্টেফি বলেন, ‘আমাদের শহরের পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ।’

তার মতে, আগুনের বিস্তার আগের তুলনায় ধীর হলেও বিপদ এখনও কাটেনি। বাতাসে উড়ে যাওয়া জ্বলন্ত অঙ্গার বা বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণে যে কোনো সময় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি জানান, আগুন ঠেকাতে প্রতিরক্ষামূলক ফায়ারব্রেক তৈরিতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।

এদিকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু বলেছেন, দেশটি নজিরবিহীন দাবানলের মৌসুম পার করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে এবং ১৩ হাজার ৫৬৬টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রতি ১০টি দাবানলের মধ্যে ৯টিই মানুষের কারণে ঘটেছে। এর বেশিরভাগই অসাবধানতার ফল। যেমন, জ্বলন্ত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলে দেওয়া, বারবিকিউ ব্যবহার বা যথাযথ সতর্কতা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাজ করা।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু বলেছেন, সব দাবানল দুর্ঘটনাবশত ঘটেনি। কিছু আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, ৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত দাবানল-সংক্রান্ত ঘটনায় ১৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্সের ভার, ল্যান্ডেস এবং কর্সিকা দ্বীপের ওত-কর্সসহ আরো কয়েকটি এলাকায় দাবানল জ্বলছে।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের কারণে টানা পঞ্চম দিনের মতো জাতীয় জরুরি অবস্থা বহাল রয়েছে।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলের দাবানলে ইতোমধ্যে ২৭ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। ২৪ ও ২৬ জুলাই তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, আলমরক্স, ভিলা দেল প্রাডো এবং সান মার্টিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস এলাকায় শুরু হওয়া কয়েকটি ছোট আগুন একত্রিত হয়ে মাত্র দুই দিনের মধ্যে একটি বড় দাবানলে পরিণত হয়েছে। এতে পোড়া এলাকার পরিধিও দ্রুত বেড়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে। এদিকে ইউরোপের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ, যেখানে উষ্ণতার হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি পানির ওপর চাপ বাড়ছে এবং দাবানলের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ছে।