• ই-পেপার

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ট্রাম্পের সহায়তা চান জেলেনস্কি

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প
ছবি : রয়টার্স

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে মঙ্গলবার ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল কুমামতো প্রিফেকচারে। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য ১ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জাপান সরকার কিউশু দ্বীপের কুমামতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি প্রিফেকচারের জন্য জরুরি ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরাঘাত (আফটারশক) হতে পারে বলে সতর্ক থাকতে বলেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি দোকারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন দগ্ধ হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্সটাউনের ওই দোকানে আগুন লাগে। জানা গেছে, আগুন লাগার সময় তারা দোকানের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন।

ঘটনাটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় নিহত ছয় বাংলাদেশির নাম বা বিস্তারিত পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ শেষ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

পরিস্থিতি তদারকি ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং উদ্ধারকারীরা সার্বিক সহযোগিতা করছেন।  নিহত ৬ বাংলাদেশি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

 

‘তোমরা পার্টি করছো, ওরা না খেয়ে আছে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘তোমরা পার্টি করছো, ওরা না খেয়ে আছে’

টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করানোর মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে ধামাকা অভিষেক হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির। তবে আন্দোলনের আগে পরে তাদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক ঘটনায় সিজেপিকে সমালোচনা সইতে হচ্ছে। সিজেপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের আচরণ, কথাবার্তাকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে সমালোচনা করছেন অনেকেই।

২০ জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে প্রকাশ্যে বার্গার খেয়ে পদ হারিয়েছেন সিজেপির সাবেক মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়া। তাদের স্লোগানের ভাষা ও সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টকে ‘বমি আমার মত’ বলে সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। এবার সিজেপির নেতাদের সাফল্য উদযাপন ও নাচানাচির ভিডিও ক্ষুব্ধ করেছে তাদের নেতা ও শুভাকাঙ্খীদেরও।

আন্দোলনের মুখে গত শনিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেদিন রাতেই দিল্লির একটি হোটেলে নেচে গেয়ে, কেক কেটে সাফল্য উদযাপনের পার্টি করেন সিজেপি। পার্টিতে সিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পার্টির ভিডিও সামসাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সিজেপির আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে টানা ২৬ দিন অনশন করা অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুকও উদযাপনের স্টাইল পছন্দ করেনেনি।

তিনি বলেন, ‘বিজয়ের সাথে নম্রতাও থাকা উচিত।’ ‘মর্যাদা, সংযম এবং দায়িত্বশীলতার সাথে’ সাফল্য উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাফল্য অর্জনের মতোই সম্মান ও নম্রতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

সিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ইউটিউবার মেঘনাদও নিজ দলের নেতাদের নাচের ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ।

তিনি বলেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর যখন ডজন ডজন আন্দোলনকারী রাস্তায় গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, তখন দলের নেতারা পার্টি করছিলেন। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মেঘনাদ জানান যে, তিনি এবং আরো কয়েকজন মিলে সেইসব ডজন ডজন আন্দোলনকারীদের খাবার ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন, যারা সিজেপি নেতাদের সাথে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যন্তর মন্তরে ক্যাম্প করছিলেন।

পার্টির ভিডিওটি নিয়ে মেঘনাদ লেখেন, ‘আমি ভোর ৪টার সময় এটি দেখছি। আমি এবং আরো কয়েকজন গত দুই দিন ধরে নিজেদের টাকা দিয়ে সিজেপি-র ফেলে যাওয়া এবং ক্ষুধার্ত স্বেচ্ছাসেবক ও আন্দোলনকারীদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আমি কিছুই বলতাম না, কিন্তু এই ভিডিওটা দেখার পর আমার প্রচণ্ড মাথা গরম হয়ে গেছে।’

সিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে মেঘনাদ বলেন, ‘যখন আপনারা পার্টি করছিলেন, তখনও দিল্লির রাস্তায় ৭০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থী ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কারণ আপনারা তাদের তোয়াক্কা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অভিনন্দন সিজেপি, শেষ পর্যন্ত আপনারাও অন্য আর দশটা সাধারণ রাজনৈতিক দলের মতোই হয়ে গেলেন।’

তবে সাফল্য উদযাপনের স্টাইলের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। বলেন, ‘আমরা যত দিন প্রয়োজন রাস্তায় বসে থাকতে পারি। আমরা নাচতে নাচতে প্রতিবাদ করতে পারি। আবার কোল্ড কফিতে চুমুক দিতে দিতেও দল গোছাতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রজন্মটা ঠিক এমনই। আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, স্থিতিস্থাপক এবং এদের কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা অসম্ভব।’

তিনি আরো যোগ করেন যে, সরকার এবং কিছু টেলিভিশন সঞ্চালক আসলে জেন জি এবং তরুণ প্রজন্মের ভাষাই বোঝেন না।

সৌরভ বলেন, ‘আঙ্কেল আর আন্টিরা অভিযোগ করতেই পারেন। তাদের আমাদের সহ্য করেই চলতে হবে!’ তিনি দাবি করেন, সে রাতের পার্টিটি আসলে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে একটি মিলনমেলা ছিল, যাদের আন্দোলনের নেতারা সম্মান জানাতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের নাচের দৃশ্যগুলো সামনে চলে এসেছে। কিন্তু তার আগে প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে আমাদের মনখোলা কথাবার্তা হয়েছিল। আমরা মেঝেতে বসে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলছিলাম, এবং এটি করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।’

শতবর্ষী বাড়ির রঙের কৌটায় বান্ডিল বান্ডিল টাকা

অনলাইন ডেস্ক
শতবর্ষী বাড়ির রঙের কৌটায় বান্ডিল বান্ডিল টাকা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের এক দম্পতি তাদের পুরোনো বাড়িতে এমন এক জিনিস খুঁজে পেয়েছেন, যা তাদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বাড়ির একটি পুরোনো রঙের কৌটার ভেতর লুকানো ছিল একাধিক বান্ডিল কাগজের নোট। সব মিলিয়ে সেই টাকার মূল্য এক হাজার পাউন্ডেরও বেশি।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ছড়িয়ে পড়েছে। দম্পতির সেই ভিডিও এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ বার দেখা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যের লুইসা ও তার স্বামী ড্যানের বাড়িতে। উনিশ শতকের আগেই নির্মিত ওই বাড়ির নিচতলার একটি ঘরের সিঁড়ির নিচে ইট দিয়ে বন্ধ করে রাখা একটি অংশ দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা জানতে চেষ্টা করেন, ওই জায়গার ভেতরে এত বছর ধরে কী লুকিয়ে ছিল। সিঁড়ির নিচের জায়গাটি খোলার পর তারা প্রথমে কিছু কয়লার টুকরা এবং একটি পুরোনো নষ্ট রঙের কৌটা পান। কৌটাটি ছিল খুবই নোংরা। এর ভেতরে পোকামাকড় ছিল এবং সেখান থেকে অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র গন্ধ বের হচ্ছিল।

কৌটার ভেতরে কী থাকতে পারে, তা বুঝতে না পেরে দম্পতি কয়েক মাস সেটি না খুলেই রেখে দেন। পরে কৌটাটি খোলার সিদ্ধান্ত নেন তারা। সেই মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। কৌটার ঢাকনা খোলার পর তাঁরা দেখতে পান, ভেতরে রাখা আছে ১৯৭০-এর দশকের একাধিক বান্ডিল পুরোনো কাগুজে নোট। হিসাব করে দেখা যায়, সেগুলোর মোট মূল্য এক হাজার পাউন্ডের বেশি। লুইসা জানান, তাদের পরিবার কখনোই ভাবেনি যে ওই কৌটার ভেতরে টাকা থাকতে পারে। তিনি বলেন, এই ঘটনা তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। বিশেষ করে তাদের সন্তানদের জন্য এটি একটি বিশেষ স্মৃতি হয়ে গেছে। লুইসার ভাষায়, 'আমাদের কেউই ভাবিনি ভেতরে টাকা থাকবে। বাচ্চাদের জন্য এটি ছিল দারুণ একটি স্মৃতি। তারা সারা জীবন এই ঘটনা মনে রাখবে।'

অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া এই টাকা তাদের জন্য সঠিক সময়ে এসেছে বলেও জানান লুইসা। তিনি বলেন, তখন তিনি চাকরি করছিলেন না। তাই এই টাকা দিয়ে পরিবারের কিছু বকেয়া বিল পরিশোধ করতে পেরেছেন। পাশাপাশি সন্তানদের জন্যও কিছু করতে পেরেছেন। লুইসা বলেন, 'বাচ্চাদের জন্য কিছু করতে পেরে ভালো লেগেছে। বকেয়া বিলও পরিশোধ করতে পেরেছি। এতে কয়েক সপ্তাহের জন্য আমাদের অনেক দুশ্চিন্তা কমে গেছে।'

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী জানান, নোটগুলো যদি যুক্তরাজ্যের পুরোনো পাউন্ডের হয়, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে বদলানো সম্ভব হতে পারে। আবার অনেকে পরামর্শ দিয়েছেন, নোটগুলোর মধ্যে কোনোটি বিরল সংগ্রহযোগ্য কি না, তা যাচাই করে দেখতে। কারণ কিছু পুরোনো নোট সংগ্রাহকদের কাছে সাধারণ মূল্যমানের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে।

পুরোনো বাড়িতে লুকানো মূল্যবান বা স্মৃতিবাহী জিনিস পাওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এর আগে এক নারী তার বাগদত্তার সঙ্গে কেনা একটি বাড়ির গোপন চিলেকোঠায় খোঁজ করতে গিয়ে একটি বাক্স পান। বাক্সের ভেতরে ছিল সুন্দরভাবে রাখা একটি পুরোনো বিয়ের পোশাক। পরে তিনি পোশাকটির আসল মালিককে খুঁজে না পেয়ে সেটি নিজের বিয়ের আয়োজনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করার আশা প্রকাশ করেন। লুইসা ও ড্যানের ঘটনাও এখন সেই ধরনের বিরল আবিষ্কারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যেখানে একটি পুরোনো বাড়ির অজানা কোণ থেকে বেরিয়ে এসেছে বহু বছর ধরে লুকিয়ে থাকা সম্পদ।