• ই-পেপার

তাপপ্রবাহ ও দাবানলের দ্বিমুখী সংকটে স্পেন-ফ্রান্স

বৈশ্বিক যোগাযোগ বাড়াতে ৪৪ বিমানবন্দর তৈরি করবে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক যোগাযোগ বাড়াতে ৪৪ বিমানবন্দর তৈরি করবে ভারত
ছবি: রয়টার্স

ভারত সরকার দেশজুড়ে নতুন করে ৪৪টি বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৪টি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের 'হাব বিমানবন্দর' হিসেবে তৈরি করা হবে। এসব হাবের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শহরকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার অমৃতসর বিমানবন্দর থেকে 'হাব অ্যান্ড স্পোক মডেল'- এ ফ্লাইট চালু করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। এর আগে বারাণসী থেকে এই ধরনের সেবা শুরু হয়েছিল। অমৃতসর হলো দ্বিতীয় বিমানবন্দর, যেখান থেকে এই মডেলের ফ্লাইট চালু হলো। বর্তমানে ভারতে একটি হাব বিমানবন্দর রয়েছে, সেটি দিল্লি। আর দুটি স্পোক বিমানবন্দর হলো বারাণসী ও অমৃতসর। পরবর্তী স্পোক বিমানবন্দর হিসেবে আহমেদাবাদকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাব অ্যান্ড স্পোক মডেলে বড় একটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ছোট শহর বা আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রীরা প্রথমে ওই হাব বিমানবন্দরে আসেন। এরপর সেখান থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ফ্লাইটে যেতে পারেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলোর বিমানবন্দরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহজে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

অমৃতসর বিমানবন্দরে এই সেবা চালুর অনুষ্ঠানে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব সমীর কুমার সিনহা বলেন, সরকার ৪টি হাব বিমানবন্দর এবং ৪০টি বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের বিমান যোগাযোগ আরো শক্তিশালী হবে এবং দেশটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, হাব অ্যান্ড স্পোক মডেল ভারতের বিমান চলাচলের জন্য একটি ‘সার্বভৌমত্বের মডেল’ এবং একই সঙ্গে ‘সুযোগের মডেল’। তিনি জানান, আগামী ১০ বছরে সরকার ১০০টি বিমানবন্দর এবং ২০০টি হেলিপোর্ট তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে।

হাব অ্যান্ড স্পোক মডেলের আওতায় এয়ার ইন্ডিয়া অমৃতসর থেকে দিল্লির মাধ্যমে ২৭টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যবস্থায় অমৃতসর থেকে যাত্রীরা দিল্লি হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন শহরে যেতে পারবেন। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, অমৃতসর থেকে দিল্লি পৌঁছানোর চার ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীরা ‘ইজি কানেক্ট’ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ফ্লাইট ধরতে পারবেন।

হাব অ্যান্ড স্পোক মডেলের অংশ হিসেবে এয়ার ইন্ডিয়া চালু করেছে ‘ইজি কানেক্ট’ সেবা। এই ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যাত্রীরা যাত্রা শুরুর বিমানবন্দরেই পুরো যাত্রার জন্য একবার চেক-ইন করতে পারবেন। একই সঙ্গে অমৃতসর বিমানবন্দরেই শেষ করতে পারবেন অভিবাসন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। এরপর দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়ে তাদের আবার লাগেজ জমা দিতে হবে না বা টার্মিনাল পরিবর্তনের ঝামেলায় পড়তে হবে না। এয়ার ইন্ডিয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই ব্যবস্থায় যাত্রীরা সহজে ও কম সময়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠতে পারবেন।

মঙ্গলবার থেকে অমৃতসর থেকে প্রতিদিন দুটি ‘ইজি কানেক্ট’ ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আহমেদাবাদ, গোয়া, কোচি এবং ভারতের আরো কয়েকটি শহর থেকেও এই ধরনের ফ্লাইট চালু করা হবে। এর আগে গত ২৫ জুন বারাণসী থেকে প্রথমবারের মতো ‘ইজি কানেক্ট’ সেবা চালু করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া। সরকারের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ছোট শহরের যাত্রীরাও সহজে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন এবং ভারত বৈশ্বিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে।


 

মোদির ভিডিও সরানোর ঘটনায় ভারতের কাছে ক্ষমা চাইল মেটা

অনলাইন ডেস্ক
মোদির ভিডিও সরানোর ঘটনায় ভারতের কাছে ক্ষমা চাইল মেটা
সংগৃহীত ছবি

ভারতে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সরকারের কাছে ক্ষমা চেয়েছে মেটা। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ভুল করে ভিডিওটি ব্লক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
 
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মেটা ভারত সরকারকে ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং পরে ভিডিওটি আবারও ফেসবুকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মেটার এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, 'ভুলবশত এই কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে সেটি আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।' সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত সরকার ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ভিডিওটি কেন সরানো হয়েছিল এবং মেটার দেওয়া ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মেটার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠানো হতে পারে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের সরকার বা মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ২৩ জুলাই ফেসবুকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত একটি শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া বক্তব্য ছিল। সেখানে তিনি তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জির উদ্দেশে কথা বলেন। নিজের বক্তব্যে মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে সরকার আরো কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

ভিডিওটি আবার চালু করার আগে ভারতের কিছু ব্যবহারকারী একটি নোটিশ দেখতে পান। সেখানে বলা হয়, আইনি অনুরোধের কারণে ওই অঞ্চলে ভিডিওটি সীমিত করা হয়েছে। তবে মেটা পরে জানায়, ভিডিও সরানোর পেছনে কোনো ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত ছিল না। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এটি ভুলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ভিডিওটি সরানোর আগে সেটি কয়েক মিলিয়ন বার দেখা হয়েছিল। পরে আবার ব্যবহারকারীদের জন্য ভিডিওটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।


 

ভারত

‘ককরোচ’ আন্দোলনের পর এবার ইন্সটাগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ই২০ জনতা পার্টি’

অনলাইন ডেস্ক
‘ককরোচ’ আন্দোলনের পর এবার ইন্সটাগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ই২০ জনতা পার্টি’
ছবি : রয়টার্স

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পর এবার ইথানল-মিশ্রিত ই২০ জ্বালানির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন একটি ডিজিটাল আন্দোলন শুরু হয়েছে। ‘ই২০ জনতা পার্টি’ নামে এই গোষ্ঠী দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ইন্সটাগ্রামে ‘ই২০ জনতা পার্টি’র অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি, যা দ্রুত বাড়ছে।

এই গোষ্ঠীর দাবি, সাধারণ মানুষকে ছাড়মূল্যে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ (অমিশ্রিত) পেট্রোল বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তারা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়করির পদত্যাগও দাবি করছে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ইথানলবিহীন পেট্রোলে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

বর্তমানে ভারতে বিক্রি হওয়া পেট্রোলের নাম ই২০। এতে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো থাকে। সরকারের দাবি, এই জ্বালানি পরিবেশবান্ধব এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত। অন্যদিকে, সমালোচকদের অভিযোগ, ই২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যায় এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।

তবে সরকার বলছে, পরীক্ষাগার ও বাস্তব ব্যবহারের তথ্য অনুযায়ী ই২০ জ্বালানি ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি করে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সরকার স্বীকার করেছে, ই১০ উপযোগী পুরোনো গাড়িতে ই২০ ব্যবহার করলে মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আলোচিত ডিজিটাল আন্দোলনের পর ‘ই২০ জনতা পার্টি’র উত্থান সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক জনমতের নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর গত সপ্তাহে সংগঠনটি তাদের প্রায় এক মাসের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
 

জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, বাড়ছে অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, বাড়ছে অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা
ছবি : রয়টার্স

জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় প্রথম মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টোকিও থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে কেউ মসজিদ নির্মাণকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আবার কেউ সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

প্রস্তাবিত মসজিদটি একটি খোলা মাঠে নির্মাণ করা হবে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নরিকা ইজুমিজাওয়া বলেন, নতুন এই পরিবর্তনের ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ কীভাবে বদলাবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে চলমান বিতর্কও তার উদ্বেগের একটি কারণ।

জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া, জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে দেশটিতে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফুজিসাওয়ার মসজিদ বিতর্ক আসলে জাপানে অভিবাসন, ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে চলা বৃহত্তর আলোচনারই প্রতিফলন।

চলতি বছরের শুরুতে প্রস্তাবিত মসজিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় রেলস্টেশনের সামনে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, কাছের একটি শিন্তো মন্দিরের তুলনায় বড় আকারের মসজিদ স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কয়েকটি মসজিদে আপত্তিকর ফোনকল ও ই-মেইলও পাঠানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিদ্বেষবিরোধী সংগঠনগুলো ‘বিদ্বেষ নয়’ স্লোগানে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে। তবে সবাই মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। প্রস্তাবিত মসজিদের বিপরীতে একটি কফি শপের মালিক হিরোকি সুজুকা বলেন, সমর্থন বা বিরোধিতার আগে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত।

তার ভাষায়, ‘আমি মসজিদের কট্টর সমর্থক বা বিরোধী নই। তবে ইসলাম, মুসলিমদের জীবনধারা ও তাদের মূল্যবোধ সম্পর্কে জানলে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে। খোলা মন নিয়ে একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।’

ওসাকায় প্রায় ৩৯ বছর ধরে বসবাস করছেন শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। ১৯৮৭ সালে তিনি অর্থনৈতিক সুযোগের খোঁজে জাপানে আসেন। প্রথমে রত্নপাথরের ব্যবসা এবং পরে ব্যবহৃত গাড়ি রপ্তানির ব্যবসায় যুক্ত হন।

মহিউদ্দিন বলেন, তিনি যখন জাপানে আসেন, তখন বিদেশি বাসিন্দা কম ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমদের প্রতি কিছু মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ‘জাপান ছেড়ে চলে যাও’ বা ‘নিজের দেশে ফিরে যাও’ ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি কিছু মানুষ মসজিদে এসে মুসল্লিদের অপমানও করেন।

তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা অনুভব না করলেও মুসলিমদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তিনি লক্ষ্য করেছেন। তার মতে, মুসলিমদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা, বোমা তৈরির অভিযোগ তোলা কিংবা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো মন্তব্য আগের তুলনায় বেড়েছে।

মহিউদ্দিন বলেন, এসব পরিস্থিতিতে তারা ধৈর্য ধরে শান্ত আচরণ করার চেষ্টা করেন। তার মতে, অনেক জাপানির ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে আরো বেশি যোগাযোগ ও নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারলে এই দূরত্ব কমবে।

অন্যদিকে সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহাম্মদ বলেন, জাপানে বসবাসকারী বিদেশিদের অবশ্যই দেশটির আইন ও সামাজিক নিয়ম মেনে চলা উচিত। তিনি বলেন, আবর্জনা নির্ধারিত নিয়মে আলাদা করা, পার্কিং আইন মানা, সাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার এবং দৈনন্দিন সৌজন্যবোধের মতো বিষয়গুলো মুসলিম সম্প্রদায় গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করে।

তিনি জানান, ইয়াশিও এলাকায় পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকে এলাকাটিকে রসিকতার ছলে ‘ইয়াশিও-স্তান’ বলে ডাকেন। তার মতে, কিছু মানুষের খারাপ আচরণের জন্য পুরো একটি সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা উচিত নয়।

জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের অভাব মোকাবিলায় জাপান ক্রমেই বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এর ফলে দেশজুড়ে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং সামাজিক সংহতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জাপানে মুসলিম সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করা ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দা ও ইসলাম গ্রহণকারী জাপানিসহ মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তাদের বেশিরভাগই চীন, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন থেকে এসেছেন। একই সময়ে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা রেকর্ড ২৫ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, ওই বছর জাপানের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ কমে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে জাপান সরকার দেশটিকে অভিবাসীনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ না করে অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতিই কার্যত একটি ‘গোপন অভিবাসন ব্যবস্থা’ তৈরি করেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার অভিবাসন নীতিতে আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারে ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সিতে অতিরিক্ত প্রায় ২৩০ জন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপান এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে জাতীয় পরিচয় ও সামাজিক সংহতি বজায় রেখে কতটা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করা সম্ভব, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তবে ফুজিসাওয়ার বাসিন্দা নরিকা ইজুমিজাওয়া শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, তার কোনো মুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে কখনও ব্যক্তিগতভাবে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়নি। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, হয়তো আমি শুধু অজানাকেই ভয় পাই।’