• ই-পেপার

বাসার চালে টবে গাঁজা চাষ, ১২ গাছসহ গ্রেপ্তার ১

ময়মনসিংহে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মহিদুজ্জামান িওরফে মোফাচ্ছেল (৪০)নামে যুবককে খামারে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এলাকাবাসী। 

গত রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার বারবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘবেড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত হলেন ত্রিশাল উপজেলার সোমপাড়া মড়ল বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তপন। পরকীয়ার জেরে তিনি হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, ত্রিশাল উপজেলার সোমপাড়া মড়ল বাড়ি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তপনের সঙ্গে মহিদুজ্জামান ওরফে মোফাচ্ছেলের পরকীয়া নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে রবিবার (২৬ জুলাই) তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাছের খামারে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জগম করে অভিযুক্ত। ঘটনার পর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি  হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় মোফাচ্ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার রাতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যাকারীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

গফরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মশিউর রহমান ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্তের পর স্বজনরা এলে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হবে। তবে আসমি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

ফুলবাড়ি চা-বাগান থেকে ১৩ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
ফুলবাড়ি চা-বাগান থেকে ১৩ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি চা-বাগান থেকে প্রায় ১৩ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করেছেন সাপ সংরক্ষক ও ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের (সিসিএ) সংরক্ষণকর্মীরা। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজগরটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ হলে সেটিকে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি চা-বাগানের ১৭ নম্বর সেকশন এলাকায় চা-পাতা সংগ্রহের সময় শ্রমিকদের নজরে আসে বিশাল আকৃতির অজগরটি। পরে বিষয়টি বাগান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উদ্ধারকারী দলের কাছে জানানো হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিরাপদে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

সাপ-সংরক্ষক ও ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সংরক্ষণকর্মী চঞ্চল গোয়ালা জানান, সকালে ফুলবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা পাতা চয়নের কাজ করছিলেন। এ সময় ১৭ নম্বর সেকশনে একটি বড় অজগর দেখতে পেয়ে তারা বাগানের ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানান। পরে ব্যবস্থাপক তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সাপটি উদ্ধার করেন। উদ্ধার শেষে অজগরটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘উদ্ধার অজগরটি অসুস্থ ছিল। বর্তমানে রেসকিউ সেন্টারে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এর চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে সাপটিকে আবারও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উপযুক্ত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে। অজগর বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্য প্রাণীর অন্যতম। এটি সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। তবে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, আবাসস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে।’ এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে প্রাণীটিকে হত্যা বা আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ কিংবা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

ফুলবাড়ি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান আশিক মিয়া বলেন, ‘বন্য প্রাণী আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অজগরটি দেখতে পাওয়ার পর আমরা সেটির কোনো ক্ষতি না করে দ্রুত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবার সহযোগিতায় প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘প্রায় ১৩ ফুট দীর্ঘ অজগরটি সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। অসুস্থ থাকায় এটিকে রেসকিউ সেন্টারে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।’

বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাপ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পিটিয়ে না মেরে বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতাই বন্য প্রাণী সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’

মেহেরপুর

সাইকেল চুরির অভিযোগ, চাচার হাঁসুয়ার কোপে ভাতিজা নিহত

মেহেরপুর প্রতিনিধি
সাইকেল চুরির অভিযোগ, চাচার হাঁসুয়ার কোপে ভাতিজা নিহত
সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামে চাচার হাঁসুয়ার কোপে তার ভাতিজা নাহিদ হোসেনের (২০) মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের ভিটাপাড়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে। হামলাকারী একই পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে লালন হোসেন। ‎

‎স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ জুলাই লালন হোসেনের একটি বাইসাইকেল চুরি হয়। সাইকেলটি তার ভাইয়ের ছেলে নাহিদ চুরি করেছে এমন অভিযোগ করেন চাচা লালন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরের দিন ২৭ জুলাই বিষয়টি নিয়ে আবারও চাচা-ভাতিজার মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে চাচা লালন নাহিদকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে হাঁসুয়ার কোপে রক্তাক্ত জখম করে।

‎প্রতিবেশীরা আহত নাহিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। নাহিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে তাকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি দেখা দেওয়ায় উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে সেখান থেকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ‎অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক দিন পর তার মৃত্যু হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের বাবা বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

‎গাংনী থানার ওসি মোহাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

শুধু আইন করে, শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয় : এলজিআরডি মন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
শুধু আইন করে, শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয় : এলজিআরডি মন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শুধুমাত্র আইন করে, শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাদক নির্মূল করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে (২৮ জুলাই) ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাদকবিরোধী সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে সকলকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই আন্দোলনকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই, এছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই আন্দোলনের ফলে কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে। সবাই মিলে ইতিবাচক ভূমিকা পালনসহ মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।’

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী সহ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও  গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।