মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি চা-বাগান থেকে প্রায় ১৩ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করেছেন সাপ সংরক্ষক ও ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের (সিসিএ) সংরক্ষণকর্মীরা। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজগরটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ হলে সেটিকে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি চা-বাগানের ১৭ নম্বর সেকশন এলাকায় চা-পাতা সংগ্রহের সময় শ্রমিকদের নজরে আসে বিশাল আকৃতির অজগরটি। পরে বিষয়টি বাগান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উদ্ধারকারী দলের কাছে জানানো হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিরাপদে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
সাপ-সংরক্ষক ও ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সংরক্ষণকর্মী চঞ্চল গোয়ালা জানান, সকালে ফুলবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা পাতা চয়নের কাজ করছিলেন। এ সময় ১৭ নম্বর সেকশনে একটি বড় অজগর দেখতে পেয়ে তারা বাগানের ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানান। পরে ব্যবস্থাপক তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সাপটি উদ্ধার করেন। উদ্ধার শেষে অজগরটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরো পড়ুন
সাইকেল চুরির অভিযোগ, চাচার হাঁসুয়ার কোপে ভাতিজা নিহত
তিনি বলেন, ‘উদ্ধার অজগরটি অসুস্থ ছিল। বর্তমানে রেসকিউ সেন্টারে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এর চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে সাপটিকে আবারও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উপযুক্ত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে। অজগর বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্য প্রাণীর অন্যতম। এটি সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। তবে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, আবাসস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে।’ এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে প্রাণীটিকে হত্যা বা আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ কিংবা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
ফুলবাড়ি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান আশিক মিয়া বলেন, ‘বন্য প্রাণী আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অজগরটি দেখতে পাওয়ার পর আমরা সেটির কোনো ক্ষতি না করে দ্রুত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবার সহযোগিতায় প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘প্রায় ১৩ ফুট দীর্ঘ অজগরটি সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। অসুস্থ থাকায় এটিকে রেসকিউ সেন্টারে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।’
বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাপ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পিটিয়ে না মেরে বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতাই বন্য প্রাণী সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’