দেশীয় ফলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি, পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নীলফামারী সরকারি কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ‘ফল উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রঙিন আয়োজনে মুখরিত এ উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভসংঘের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
রবিবার (২৬ জুলাই) বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী সরকারি কলেজ শাখার আয়োজনে কলেজ প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম. সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মো. সামসুল আলম, সহযোগী অধ্যাপক সোহানা জামান, সহযোগী অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান, বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী সরকারি কলেজ শাখার প্রধান উপদেষ্টা শায়লা পারভীন এবং উপদেষ্টা উৎপল চন্দ্র রায়, মো. আবু বকর সিদ্দিক ও রোমানা আক্তারসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক নেতৃত্ব দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. ইমরান শাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও আমাদের লোকজ সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমানে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি তরুণদের ঝোঁক বাড়ছে। এ অবস্থায় বিষমুক্ত, স্বাস্থ্যকর ও দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু একটি সামাজিক সংগঠন নয়, এটি তরুণদের মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের চর্চার একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। শুভসংঘের সদস্যরা যেভাবে ইতিবাচক, সৃজনশীল ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা আমাদের কলেজের জন্য গর্বের বিষয়।’
আমন্ত্রিত অতিথি প্রফেসর মো. সামসুল আলম তার বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও গঠনমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধান উপদেষ্টা শায়লা পারভীন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের মানবিক, সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কলেজ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ থাকলে ভবিষ্যতেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও ব্যতিক্রমধর্মী ও সময়োপযোগী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।’
তিনি আয়োজনটি সফল করতে সংগঠনের সকল সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সংগঠনের উপদেষ্টা মো. আবু বকর সিদ্দিক তার বক্তব্যে দেশীয় বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ, ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং মানবদেহে এসব ফলের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত দেশীয় মৌসুমি ফল খাদ্যতালিকায় রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতি মো. ইমরান শাহ বলেন, ‘দেশীয় ফল আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুষ্টির অন্যতম উৎস। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেকেই দেশীয় ফল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব ফলের পরিচিতি ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি সফল হয়েছে।’
উৎসবে আপেল, কমলা, আম, আনারস, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, কলা, খেজুর, আঙুর, লটকন, জামরুলসহ নানা ধরনের দেশীয় ও মৌসুমি ফলের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী করা হয়। অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ফল দিয়ে আপ্যায়নের পাশাপাশি ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং দেশীয় ফল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা আগ্রহভরে বিভিন্ন ফল সম্পর্কে জানার পাশাপাশি দেশীয় ফল খাওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করেন।
'শুভ কাজে সবার পাশে'—এই স্লোগানকে ধারণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের নিরলস পরিশ্রমে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।








