‘আজকের প্রবীণরাই আমাদের সমাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাদের অবহেলা নয়, প্রয়োজন সম্মান, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা’—এই বার্তা নিয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
আজ সোমবার (১৫) জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস। বয়স্ক মানুষের প্রতি অন্যায়, নির্যাতন, অবহেলা ও বৈষম্য রোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ দিবসকে সামনে রেখে ফুলবাড়ী উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজের প্রবীণ শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে ফুলবাড়ী উপজেলার ১নং এলুয়াড়ি ইউনিয়নের জলপাইতলী বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফুলবাড়ী বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি সোহেল রানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন–উত্তর শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক শ্রী ভোলানাথ রায়।
তিনি বলেন, একজন মানুষ তার কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় সমাজ ও পরিবারের জন্য কাজ করেন। অবসরের পর যেন সেই মানুষটিকে পরিবারের বা সমাজের বোঝা মনে করা না হয়। প্রবীণদের জন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায়। তাই প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও মানবিক আচরণ করা সবার দায়িত্ব।
বসুন্ধরা শুভসংঘের ফুলবাড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি সোহেল রানা বলেন, আমাদের প্রবীণদেরকে সযত্নে রাখা উচিত, ছোট বেলায় মা যেমন তার শিশুকে আগলে রাখে, ঠিক তেমনভাবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ফুলবাড়ী প্রতিনিধি আনোয়ার সাদাত বলেন, প্রবীণ জনগোষ্ঠী নানা ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবন কাটান। শারীরিক দুর্বলতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং মানসিক একাকীত্ব তাদের জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অনেক প্রবীণ নিয়মিত চিকিৎসা ও যত্নের অভাবে সমস্যায় পড়েন। পাশাপাশি আধুনিক সমাজে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও সামাজিক সুরক্ষার অভাব তাদের জীবনকে আরো কঠিন করে তুলছে।
‘আমরা সবাই একদিন প্রবীণ হবো। তাই আজকের প্রবীণদের সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাদের প্রতি পরিবারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন’—বলেন তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণদের নির্যাতন শুধু শারীরিক নয়; অবহেলা, অসম্মান, কথা না শোনা, প্রয়োজনের সময় পাশে না থাকাও এক ধরনের নির্যাতন। তাই পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রবীণদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন–শিক্ষক আল-আমীন, আনোয়ার ও তরিকুল। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন–বসুন্ধরা শুভসংঘের সহ-সভাপতি মেহেদুল হক, প্রচার সম্পাদক হাসানুর রহমান, সদস্য জিসান, সোহাগ, মোস্তাকিম, জীবনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
সভা শেষে উপস্থিত প্রবীণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শুভসংঘের সদস্যরা। তারা প্রবীণদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়রা জানান, এমন উদ্যোগ প্রবীণদের প্রতি সমাজের দায়িত্ববোধ বাড়াবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











