• ই-পেপার

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টে বছরে ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টে বছরে ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি : শিক্ষামন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা প্রদান বাবদ বার্ষিক প্রয়োজন প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিবছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে ২০২৩ সালের আগস্ট ৮ জুন থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৪৪ হাজার কল্যাণ সুবিধা প্রাপ্তির আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতিবছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ঘাটতির কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে।

রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে তারকা চিহ্নিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুল জানতে চান বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা অবসর গ্রহণের পর তাহাদের অবসরকালীন ভাতা, কল্যাণ ট্রাস্ট্রের অর্থ ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পেতে বিলম্বিত হওয়ার কারণ কী? বর্তমানে কতজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে; অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা দ্রুত প্রদান নিশ্চিত করিতে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ১৯৯০’ এবং ‘প্রবিধানমালা, ১৯৯৯’ অনুযায়ী ট্রাস্টটি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদা ও বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা প্রদানে বছরে প্রয়োজন হয় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির কারণে ট্রাস্টের দায়ও ক্রমাগত বাড়ছে।

মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৪৪ হাজার কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা দ্রুত প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ও কল্যাণ ট্রাস্ট বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইতোমধ্যে ৯ হাজার ২৮৪ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে ৫৫৩ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৪ টাকা কল্যাণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জমা পড়া সব আবেদন নিষ্পত্তি করে আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ সালের জুন ও জুলাই পর্যন্ত জমাকৃত আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি সম্পন্ন করে অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনিষ্পন্ন প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। এ অর্থের সংস্থান এবং আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

কালের কণ্ঠের পাতায় বেনজীরের যত দুর্নীতি

অনলাইন ডেস্ক
কালের কণ্ঠের পাতায় বেনজীরের যত দুর্নীতি
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলে নোটিশ জারির পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। এ সময় দ্রুত তাকে ফেরত আনা হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাকে অতি দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

বেনজীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থপাচার) গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

বেনজীরের অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতি নিয়ে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ সর্বপ্রথম সংবাদ প্রকাশ করেছিল কালের কণ্ঠ। ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামের ওই সংবাদে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি ফাঁস করেছিল কালের কণ্ঠ।

ওই সংবাদে উঠে আসে বেনজীরের প্রায় এক হাজার ৪০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত ‘সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড’-এর তথ্য। এ ছাড়া পুলিশের সাবেক এই প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তা তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সে সময় অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের নামে অন্তত ছয়টি কম্পানির খোঁজ পায় কালের কণ্ঠ।

এরপর কালের কণ্ঠের বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীর নেতৃত্বে অনুসন্ধানী টিম ধারাবাহিকভাবে বেনজীর ও তার পরিবারের নামে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য প্রকাশ করে।

‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত আরেক সংবাদে বেরিয়ে আসে ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’ নামের একটি রিসোর্টের মালিকানায় যুক্ত হন বেনজীর। ডিএমপি কমিশনার হিসেবে প্রভাবশালী হওয়ার সুবাদে রিসোর্টের ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা নেন তিনি।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ভাওয়াল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা সেসময় জানান, ভাওয়াল রিসোর্টের ভেতরে ও প্রবেশমুখে বন বিভাগের ৬.৭৩ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ বনের বিশাল এই জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ভাওয়াল রিসোর্ট। বন বিভাগের তথ্য মতে, ভাওয়াল রিসোর্টের দখল করা জমির মধ্যে রয়েছে ৪ নম্বর বরইপাড়া মৌজার ৩, ২৭৯ ও ২৭১ নম্বর সিএস দাগে ১১ বিঘা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, বেনজীরের ক্ষমতার দাপটে সবাই ছিলেন নির্বিকার, নিরুপায়।

‘২৪০ বিঘা জমির মালিক বেনজীরের স্ত্রী’ শিরোনামের আরেকটি প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মীর্জার আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার নামে ২৪০ বিঘা জমি। রাতারাতি গৃহিণী থেকে ব্যবসায়ী বনে যাওয়া জীশান মীর্জার সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি।

চাকরির শেষ তিন বছরেই কেনেন ৪৬৬ বিঘা জমি’ শিরোনামে আরো এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে বেনজীর আহমেদ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আসীনের পর পরিবারের সদস্যদের নামে কেনা হয় ৪৬৬ বিঘা জমি। ১৯টি প্রতিষ্ঠানে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে হয়ে যায় পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী পরিবার।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

অভিযোগপত্র বা চার্জশিট

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনজীর তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছেন এবং তার নামে অন্তত ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে।

আদালতের পরোয়ানা

অভিযোগপত্র গ্রহণের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর মে মাসে তার অনুপস্থিতিতেই আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

২০২১ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি বিভাগ র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

গত ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার বিশাল অবৈধ সম্পদের খতিয়ান গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার, দ্রুত ফেরানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার, দ্রুত ফেরানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে দুর্নীতির মামলায় বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাকে অতি দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো আবেদনের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এই নোটিশের কার্যকারিতা বজায় রেখেই দুবাইয়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং স্থানীয় সময় অনুযায়ী গতকাল রাতে তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়। 

তবে এ বিষয়ে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

গণমাধ্যম খাতের সংস্কার জরুরি: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন ডেস্ক
গণমাধ্যম খাতের সংস্কার জরুরি: গোলাম পরওয়ার

গণমাধ্যম খাতে সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় নিত্যনতুন গণমাধ্যম গড়ে উঠছে, যা তথ্য ও সম্প্রচার খাতে স্বচ্ছতা ও নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে গণমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার মানের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি আরো বলেন, দলীয় স্বার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। শুধু জুলাই সনদ নয়, সরকারের উচিত গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নীতিবহির্ভূত কনটেন্ট বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নীতিমালা থাকা জরুরি।

সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে গণমাধ্যমকে সীমিত করা হচ্ছে। দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।