• ই-পেপার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

বগুড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালের চারা রোপণ

আব্দুস সালাম বাবু, বগুড়া
বগুড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালের চারা রোপণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার গাবতলীতে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী এলাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘের বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সোন্দাবাড়ী এলাকার সড়কের দুই পাশে মোট ১০০টি ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাবতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বগুড়া জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা ও সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বৃক্ষ বিতরণ ও রোপণের মতো কাজ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’

তিনি বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘ নিয়মিতভাবে দুস্থদের সহায়তা ও পরিবেশবান্ধব নানামুখী মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।’

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাবতলী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, পৌর জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হামিদুল হক শিলু, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিসার রহমান এবং জেলা যুবদলের সদস্য সাব্বির।

এ ছাড়া বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য সজল শেখ, দৌলত জামান দীপু, আব্দুল গনি, ছনি, নিপুল, বাবুসহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করে জানান, এই ধরনের চারা রোপণ কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়াতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দিনাজপুর সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের বসুন্ধরা শুভসংঘের উপহার

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
দিনাজপুর সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের বসুন্ধরা শুভসংঘের উপহার
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও মানসিক সাহস জোগাতে গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দিকনির্দেশনামূলক আলোচনাসভাও অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি পরীক্ষা শুধু ফলাফলের বিষয় নয়; বরং এটি আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও সৎ প্রচেষ্টার মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তারা শিক্ষার্থীদের ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার প্রধান উপদেষ্টা মো. দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এটিই জীবনের শেষ গন্তব্য নয়। আত্মবিশ্বাস, নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং সততার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভয় বা দুশ্চিন্তা নয়, নিজের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য মুখস্থবিদ্যার চেয়ে বিষয়ভিত্তিক বোঝাপড়া, নিয়মিত অনুশীলন এবং ইতিবাচক মানসিকতা বেশি প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরীক্ষায় সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি অরুপ কুমার রায় বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের জন্য এই ক্ষুদ্র উপহার আমাদের ভালোবাসা ও শুভ কামনার প্রতীক। আন্তরিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবাই ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু দুর্যোগে মানবিক সহায়তা বা সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সমৃদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতেও নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এই আয়োজন তারই একটি অংশ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সহ-সভাপতি প্রদীপা রাণী, শাহরিয়ার কবির ও আসাদুল্লাহ আসিফ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রিফাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর ইসলাম আতিক, নারীবিষয়ক সম্পাদক রুবিয়া, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোনাইম ইসলাম নিয়নসহ কার্যকরী সদস্যরা।

এ সময় প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী রোকন, আর্প, পূজা, মিতু, জুই, জুনায়েদ, রিয়াদ, কলি, আল-আমিন, রিতা, সুমাইয়া, মাহমুদ, শান্ত, কবির, ডোলা, স্বাধীন, তমাল ও ইমনসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে পরীক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপহার গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, পরীক্ষার আগে এমন আয়োজন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভালো ফলাফলের জন্য নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষে সব পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, সফলতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শুভ কামনা জানানো হয়। 
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে আরো উৎসাহিত করতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা

অনলাইন ডেস্ক
দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা

অনলাইন জুয়া, গুজব ও সাইবার বুলিং বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের জন্য এই তিনটি শব্দ যেন এক নীরব ঘাতকের নাম। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় ইন্টারনেট যেমন এনে দিয়েছে অগণিত সম্ভাবনার দুয়ার, তেমনি এর অপব্যবহার ঠেলে দিচ্ছে অনেক তরুণ-তরুণীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। এই বাস্তবতা থেকেই সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে এগিয়ে এলো বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে নকলা উপজেলার গ্রিন রোড এলাকায় ‘দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার: অনলাইন জুয়া, গুজব ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সচেতনতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলী ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা ও খইরাপাড়া দাখিল মাদরাসার সহ-সুপার মো. আব্দুল আজীজ অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, এটি একজন তরুণের নৈতিক ও মানসিক ভিত্তিকেও ধ্বংস করে দেয়। এ সময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংগঠনের উপদেষ্টা মাহবুব হাসান বক্তব্য রাখেন এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি ও নকলা সহযোগিতা সমৃদ্ধি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক রোভার স্কাউট সদস্য জুনায়েদ আহাম্মেদ তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি সংগঠনকে আরো কার্যকর ও গতিশীল করতে করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং সদস্যদের সামাজিক কার্যক্রমে আরো সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

গুজব ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ইভেন্ট সম্পাদক লিমন আহমেদ।

তিনি বলেন, একটি মিথ্যা তথ্য বা একটি নেতিবাচক মন্তব্য মুহূর্তেই একজন মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে; তাই যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করা এবং অনলাইনে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি প্রযুক্তির সহায়তায় ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোকছেদুল আলম (প্রভাষক, আইসিটি এবং প্রতিষ্ঠাতা, নকলা সহযোগিতা সমৃদ্ধি ফোরাম) ও তারিক জামিল, সহ-সভাপতি নাঈমুল ইসলাম ফাহিম ও ফাতেমা জান্নাত (সহকারী শিক্ষক) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আসমাউল হুসনা। প্রযুক্তির এই সদ্ব্যবহার প্রমাণ করে, বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা নিজেরাই দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারের একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাজর খান, সহ-সভাপতি মিলন (সিনিয়র রোভারমেট, বাংলাদেশ স্কাউট, শেরপুর পলিটেকনিক শাখা), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, আতিকা ইসলাম ও রাতুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান রিফাত, অর্থ সম্পাদক হুমায়রা জান্নাত সায়মা, দপ্তর সম্পাদক শামীম, নারী বিষয়ক সম্পাদক বৃষ্টি, প্রচার সম্পাদক সিফাত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মীম জান্নাত, ক্রীড়া সম্পাদক আবু হুরায়রা, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ হাসান, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক হাফসা মীম, শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক ইশরাত জাহান মিতু, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রুপা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ এবং কার্যকরী সদস্য হাবিবা জান্নাত মাইমুনা, জান্নাত, জাকির, ইসমাইল হাসান প্রান্ত ও শ্রাবন্তী।

আলোচনা সভায় বক্তারা একবাক্যে বলেন, শুধু আইন বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে অনলাইন জুয়া, গুজব ও সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যা সমূলে দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি অভিভাবককে সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি নজর রাখার এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক তথ্য যাচাই করে বিশ্বাস করার পরামর্শ দেন বক্তারা।

হরিজন তরুণী আলোরাধার জীবনে আশার আলো

জাকারিয়া জামান, গাইবান্ধা থেকে
হরিজন তরুণী আলোরাধার জীবনে আশার আলো
ছবি: কালের কণ্ঠ

সংগ্রাম, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছার গল্পে সাজানো হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণী আলোরাধার জীবন। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাচারিবাজার এলাকার এই তরুণী বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি হার মানেননি। এবার বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া একটি সেলাই মেশিন তার স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাবার সীমিত আয়ে তিন বোনের পড়াশোনা চালানো ছিল কঠিন এক সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন আলোরাধা। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে এলেও আর্থিক সংকট পিছু ছাড়েনি। স্বামীর একটি ছোট দোকান থাকলেও নানা সামাজিক বৈষম্য ও অবহেলার কারণে ব্যবসা ভালো চলে না। ফলে সংসারের চাকা সচল রাখতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে।

আলোরাধা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখেছি বাবা কত কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। সমাজে আমরা অনেক সময় অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবুও পড়াশোনা ছাড়িনি। এখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। স্বপ্ন দেখি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আমার কাছে শুধু একটি মেশিন নয়, এটি নতুন জীবনের আশা।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্লাউজ, ফ্রক, পায়জামা ও শিশুদের পোশাক সেলাই করতে পারি। এখন ঘরে বসেই কাজ করে সংসারে আয় করতে পারব, পড়াশোনার খরচও চালাতে পারব। আমি চাই সমাজের বোঝা হয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে।’

রবিবার (২৬ জুলাই) গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে আলোরাধার মত দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করা ৩৬ নারীর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।

এ সময় তিনি গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩৬ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন। তিন মাস বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে ওঠা নারীরা সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আপনাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এটি কাজে লাগিয়ে নিজের পরিবারের পোশাক তৈরির পাশাপাশি আয়ও করা সম্ভব। আমরা চাই আপনারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হোন, সন্তানদের শিক্ষিত করুন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটান।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, গাইবান্ধা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসুজ্জামান মোনা, নাট্যকর্মী মানিক বাহার।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদর সরকার বলেন, ‘সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক নারী ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। আপনারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের অন্য নারীদেরও এই কাজ শেখাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়ন পুরো পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

গাইবান্ধা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি উদ্যোগ। আমরা আশা করি, এই মেশিন ব্যবহার করে উপকারভোগীরা আয়মুখী কাজে যুক্ত হবেন এবং এলাকায় অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবেন। বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।’

অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য হুমায়ুন আহম্মেদ বিপ্লব, আহসানিয়া তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, ছামিউল বাসির, আশিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, আহসান আজিম প্রধান, তৌহিদুল ইসলাম, আফিয়া ইভা, দীবাকর মোদক, সজীব সরকার, সুমাইয়া খাতুন, আবিদা আক্তার, আফরিন আক্তার ও সিনথিয়া আক্তার।