• ই-পেপার

সুবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য নোবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলা

অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত শাখা ছাত্রদলের নিন্দা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হামলার শিকার ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবকে উদ্ধার করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ভিডিও ফুটেজ থেকে সংগৃহীত

আগের দিনের ঘটনার জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে হামলার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার পর বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পাঠরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন রাকসু জিএস আম্মারসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকেল পৌনে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। ওই ঘটনায় রাতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। 

বৈঠকে অভিযুক্তের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস, একই বিভাগের হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ওই ঘটনার জেরে আজ সোমবার দুপুরে প্রক্টর দপ্তরে আবারও বৈঠক বসে। বৈঠকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ রাকসু শাখা শিবিরের কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ তোলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখার পর প্রক্টর দপ্তরেই তাকে মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দিলে আনাসসহ অন্যরা সেখান থেকে চলে যান। 

এরপর বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে যান। রাকসুর দাবি, তারা সেখানে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিবকে মারধর করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, আহত নাজমুস সাকিব, শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, দপ্তর সম্পাদক মানাজির আহাসান, অর্থ সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী, সিনেট সদস্য ও শিবিরের ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোহাম্মদ ফাহিম রেজাসহ শিবির ও রাকসুর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নিয়ে যান। পরে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাঠকক্ষের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে তাদের মারধর করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় কাঠ, বাঁশ, রড, বেল্টসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করা হয়। বাধা দিতে গেলে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও অন্য শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’; ‘হাতে তালি শিবির, মুখে বলি  শিবির’; ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এখানে (গ্রন্থাগার) পড়ছিলাম। হঠাৎ তারা অতর্কিতে সবাই রিডিং রুমে ঢুকে পড়ে। তারা যাকে পায়, তাকেই ছাত্রলীগ ট্যাগ দিতে থাকে।’
 
হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, ‘অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিকেও তারা হামলা করে। মতের পার্থক্য থাকলেই তাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। ছাত্রলীগ হলেও তাকে মেরে ফেলার অধিকার তো কারো নেই। বিচারের জন্য দেশে আইন রয়েছে।’ 

হামলার শিকার আনাস বলেন, ‘আজ (সোমবার) আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তারা আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাহউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে আমাকে মারা শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি করে। একপর্যায়ে আম্মার লোকজন নিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে। আমার শরীরে ২০০টিরও বেশি আঘাত করা হয়েছে।’

নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন দাবি করে আনাস  বলেন, ‘অতীতে আমার বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করত, তাই কোনো এক জায়গায় তাদের সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের কোনো ব্যানার-ফেস্টুনে আমার ছবি নেই।’

তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর শুনে দ্রুত এখানে আসি। এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।’

হামলার ভিডিও ফুটেজে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি মেহেদী।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু তারা কিছুই করেননি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হয়েছে।’

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলার নিন্দা জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঝামেলা শুরু, আমরা জেনেছি তাকে শিবিরের এক নেতা পছন্দ করতেন। এ কারণে একটি নারীঘটিত বিষয়কে গোপনে সমাধান না করে শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।’ 

রাহী বলেন আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের পবিত্র জায়গা লাইব্রেরিতে শিবিরের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে হামলা চালিয়েছে, তাদের ছাত্র সংসদের পদ ও ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।’

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিন দফা দাবিতে ঢাবি উপাচার্যের কাছে নারী শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
তিন দফা দাবিতে ঢাবি উপাচার্যের কাছে নারী শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচটি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক ও অমানবিক নিয়মের অবসান এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কাছে তিন দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন তারা।

স্মারকলিপি দেওয়ার আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সব নারী শিক্ষার্থীর সব ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, হলের মূল ফটকে সময়সীমা ও বের হওয়ার জটিল নিয়ম শিথিল করা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা, বোন বা অন্য নারী অভিভাবকদের সহজ প্রক্রিয়ায় হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হলের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, বছরের পর বছর ধরে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক নিয়ম চাপিয়ে রাখা হয়েছে। রাতে সামান্য দেরি হলেও অনেককে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। আবার জরুরি অসুস্থতা বা পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হলেও দীর্ঘ অনুমতি প্রক্রিয়ার কারণে দ্রুত হল থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মা-বাবা মারা গেলেও নিজের হাতে আবেদন লিখে অনুমতি নিয়ে বের হতে হয়। গুরুতর অসুস্থ হলেও দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এই অমানবিক নিয়মগুলোর পরিবর্তন চাই।’

২৪ ঘণ্টা হলের গেট খোলা রাখার দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেরিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি তাদের প্রধান দাবি নয়। আগে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাস ও হলসংলগ্ন এলাকায় ভবঘুরে, নেশাগ্রস্ত ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টা হল খোলা রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। কবি সুফিয়া কামাল হলের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাকিয়া আক্তার বলেন, অনাবাসিক হওয়ায় নিজের হলে সীমিত সুযোগ পেলেও অন্য কোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে অনেক সময় কাছের হলের ক্যান্টিন ব্যবহার করাও সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ‘আমি একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আমার বৈধ হল কার্ড আছে। তাহলে কেন শুধু অন্য হলের শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে আমাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না? অনাবাসিক হলেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমাদের অধিকার কমে যায়?’

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সংযুক্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থী সামিয়া অভিযোগ করেন, দেড় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও তিনি নিজের সংযুক্ত হলে কার্যত প্রবেশের সুযোগ পাননি। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সন্দেহের চোখে দেখা হয় এবং হলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সহশিক্ষা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হন।

কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) শিমু আক্তার বলেন, আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে যে হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে, তা দূর করার দাবিতেই পাঁচটি নারী হলের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। তবে দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

নোবিপ্রবির নতুন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নোবিপ্রবির নতুন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন
অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নতুন কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে নোবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটবে, সে সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মাসিক সম্মানী পাবেন। এছাড়া বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রদত্ত দায়িত্বও তিনি পালন করবেন। প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, নোবিপ্রবি ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

ইবির ইংরেজি বিভাগে আবারও ভর্তি জালিয়াতি, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইবির ইংরেজি বিভাগে আবারও ভর্তি জালিয়াতি, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, শামিমা আক্তার (রোল-২৪১০১০৪) নামের এক শিক্ষার্থী ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি করে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ফলাফল প্রস্তুতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে তার রোল নম্বরের তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে।

জানা যায়, বিষয়টি পরীক্ষা কমিটির নজরে এলে তারা ইংরেজি বিভাগকে অবহিত করে। এরপর জরুরি বিভাগীয় সভায় শিক্ষার্থীর ভর্তিসংক্রান্ত কোনো নথি বিভাগ কিংবা একাডেমিক শাখায় না পাওয়ায় তার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার তদন্তে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনকে আহ্বায়ক, উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. বদিউজ্জামানকে সদস্যসচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিভাগীয় সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি তালিকায় সর্বশেষ নিবন্ধিত রোল নম্বর ছিল ২৪১০১০৩ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৪০০০৮৩৩। সেখানে শামিমা আক্তারের নাম, রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের কোনো তথ্য ছিল না। তবে বিভাগের অফিশিয়াল কম্পিউটার থেকেই পরবর্তীতে ২৪১০১০৪ রোল নম্বরে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে জানান বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান।

ইসরাত জাহান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস করলেও তার নাম এন্ট্রি হয়নি। এছাড়া তিনি দাবি করেন, দাদার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হয়েছেন। তার দেওয়া রোল নম্বর অনুযায়ী উপস্থিতিতেই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, পুরো বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ও একাডেমিক শাখাকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানিয়ে বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে তথ্য যাচাই করা হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ জালিয়াতির সঙ্গে বিভাগের কয়েকজনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এর আগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষেও একই বিভাগে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়।

ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, পরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর জরুরি বিভাগীয় সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল এবং বিভাগের সংশ্লিষ্ট স্টাফদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হেসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যথাযথ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করব।’