সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দুর্গম হাওরাঞ্চলের চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝটিকা পরিদর্শন করে নিজেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
পাঠদানে ত্রুটিবিচ্যুতি দেখে আগামী এক মাসের মধ্যে হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওর, শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওরবেষ্টিত দক্ষিণ শ্রীপুর ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
জানা গেছে, পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ, পাটাবুকা, সোলেমানপুর এবং উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি গল্পে মেতে ওঠেন এবং নিজে দাঁড়িয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ধর্মশিক্ষার ক্লাস নেন।
ক্লাস নেওয়ার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান যাচাই করতে রিডিং ও রাইটিং দক্ষতা পরখ করে দেখেন। হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি মেটাতে তাদের নিয়ে একসঙ্গে বিষয়ভিত্তিক ‘বেসিক ক্লাস’ বা মৌলিক পাঠদানের তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষার মানের ঘাটতি দেখে উপস্থিত শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবিক কারণেই হাওরের প্রাথমিক শিক্ষা কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে এই অজুহাত দিয়ে ঝুলে থাকার সুযোগ নেই। আমরা শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বাত্মক কাজ করছি।’ আগামী এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরকালে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কাসরুজ্জামান কামরুল, পিটিআই সুপার দীপঙ্কর মোহন্ত, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাস এবং তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোলেমান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।







