ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, শামিমা আক্তার (রোল-২৪১০১০৪) নামের এক শিক্ষার্থী ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি করে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ফলাফল প্রস্তুতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে তার রোল নম্বরের তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে।
জানা যায়, বিষয়টি পরীক্ষা কমিটির নজরে এলে তারা ইংরেজি বিভাগকে অবহিত করে। এরপর জরুরি বিভাগীয় সভায় শিক্ষার্থীর ভর্তিসংক্রান্ত কোনো নথি বিভাগ কিংবা একাডেমিক শাখায় না পাওয়ায় তার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার তদন্তে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনকে আহ্বায়ক, উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. বদিউজ্জামানকে সদস্যসচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিভাগীয় সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি তালিকায় সর্বশেষ নিবন্ধিত রোল নম্বর ছিল ২৪১০১০৩ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৪০০০৮৩৩। সেখানে শামিমা আক্তারের নাম, রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের কোনো তথ্য ছিল না। তবে বিভাগের অফিশিয়াল কম্পিউটার থেকেই পরবর্তীতে ২৪১০১০৪ রোল নম্বরে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে জানান বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান।
ইসরাত জাহান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস করলেও তার নাম এন্ট্রি হয়নি। এছাড়া তিনি দাবি করেন, দাদার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হয়েছেন। তার দেওয়া রোল নম্বর অনুযায়ী উপস্থিতিতেই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, পুরো বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ও একাডেমিক শাখাকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানিয়ে বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে তথ্য যাচাই করা হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ জালিয়াতির সঙ্গে বিভাগের কয়েকজনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এর আগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষেও একই বিভাগে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়।
ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, পরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর জরুরি বিভাগীয় সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল এবং বিভাগের সংশ্লিষ্ট স্টাফদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হেসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যথাযথ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করব।’





