• ই-পেপার

আলিম পরীক্ষায় নকল সরবরাহচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের কারাদণ্ড

সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ হলে আমরাও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারি : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ হলে আমরাও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারি : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাংবাদিকরা সরকার কিংবা রাজনীতিক সবার চোখ বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘যা শুনলেন তাই ছাপিয়ে দেবেন, এমনটা যেন না হয়। একটি সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ হলে আমরাও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারি।’

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের প্রেস ক্লাবের দ্বিতল ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যা চোখে পড়ে না, সাংবাদিকরা তা দেখিয়ে দেন।’ 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংবাদ যেন সব সময় বস্তুনিষ্ঠ, সত্য ও নিরপেক্ষ হয়। আপনারা সত্যটা তুলে ধরলে আমি কাজ করতে পারব।’

ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটি এলাকার নিউজ হয়েছিল যে সেখানকার ৯০ শতাংশ লোক ত্রাণ পায়নি। আমি সেই নিউজটি দেখে তাৎক্ষণিক ৫ জন জেলা প্রশাসককে ফরোয়ার্ড করেছি। ওই সংবাদের পরেই সেখানে দ্রুত কাজ হয়েছে। আপনারা এ রকম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করবেন, তাহলে আমি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে পারব।’

গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি কমল সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক মো. রইছ উদ্দিন। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পা, ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল হক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ, সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহমান বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান সুলতান, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব রমজান হোসেন খান জুয়েল, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি এবং উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরুজ্জামান প্রমুখ।

পাবনায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

পাবনা সদর উপজেলার চর কোমরপুর এলাকায় সরকারি বিএডিসির সেচ প্রকল্পসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় জড়িত আন্ত জেলা চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন অংশ এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. উজ্জল (৩৮), মো. আরমান ফকির (৩৮), মো. জহুরুল ইসলাম (৩০), মো. দুলাল ফকির (৩৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৩০) ও মো. জীবন (২৮)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১০ জুলাই রাতে সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের চর কোমরপুর এলাকায় সরকারি বিএডিসির সেচ প্রকল্পের পাশে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর একটি খুঁটিতে স্থাপিত প্রায় ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ১০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এ ঘটনায় সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কৃষক মো. শাহিনুর রহমান সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রান্সফরমার চুরি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার হওয়া জীবন নামের এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে দুটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কোর, ট্রান্সফরমারের ভেতরে ব্যবহৃত প্রায় ৯ দশমিক ২ কেজি চিকন তামার তার, ৭ দশমিক ২ কেজি মোটা ও চ্যাপ্টা তামার তার এবং ৩৩ কেজি ওজনের টিনের কোর প্লেট।

এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি হাতুড়ি, সাতটি ছেনি, দুটি রেঞ্চ, দুটি কাটার প্লাস, একটি প্লাস, দুটি হ্যাকসো ব্লেড ও একটি ফ্রেম, একটি লম্বা রশি, একটি শাবল, একটি লোহার রড, দুটি ডাবল রেঞ্চ এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী শাহিনুর রহমান ডিবি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘গত বছরও আমার দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছিল। তখন সেগুলো উদ্ধার হয়নি। তবে এবার ১৫ দিন আগে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় ফিরে পেয়েছি।’

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা

চর দখল নিয়ে টেঁটাযুদ্ধ : প্রাণহানির পর গ্রাম পুরুষশূন্য

দুপক্ষে এখনো উত্তেজনা

তিতাস-হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চর দখল নিয়ে টেঁটাযুদ্ধ : প্রাণহানির পর গ্রাম পুরুষশূন্য
চর দখল নিয়ে কুমিল্লার মেঘনার চরবিনোদপুর ও তিতাসের চর বাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রবিবার সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের বাড়িঘরে হামলা হয়। ছবিটি সোমবার চর বাটেরা গ্রামে হামলার শিকার একটি বাড়ির সামনে থেকে তোলা। -সংগৃহীত

কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে চর দখলকে কেন্দ্র করে টেঁটাযুদ্ধে এক নারী নিহত হওয়ার একদিন পরও থামেনি উত্তেজনা। সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

এদিকে, আজ সোমবার মেঘনা উপজেলার লোকজন চর বাটেরা গ্রামে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্যের দাবি, আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে অধিকাংশ পুরুষ সদস্য পালিয়ে গেছে। ফলে গ্রামটি এখন কার্যত পুরুষশূন্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার চর বাটেরা গ্রামের মানুষের চর দখল নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জেরে রবিবার (২৬ জুলাই)  রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার দুপুরে তিতাসের চর বাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গেলে সেখানে মেঘনার চরবিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখা হয় বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে চর বাটেরার লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় একই দিন বিকেলে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্র, বিশেষ করে টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

সূত্র জানায়, সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। একপর্যায়ে মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর গ্রামের কুহিনূর আক্তার (৩৮) গলায় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষের পর অভিযান চালিয়ে তিতাস উপজেলার চর বাটেরা গ্রামের বাসিন্দা মাইনুদ্দিন (৪০), মো. হান্নান (২৬), কাশেম বেপারী (৬০) ও মো. রানা (২১)-কে আটক করে  পুলিশ।

এদিকে, সংঘর্ষের পরদিন আজ সোমবার এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

চর বাটেরা গ্রামের ইউপি সদস্য শাহ আলমের অভিযোগ, মেঘনার চর বিনোদপুরের লোকজন সোমবার চর বাটেরা গ্রামে ঢুকে লুটপাট চালায়। হামলার আশঙ্কায় গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। বর্তমানে চর বাটেরা গ্রাম পুরুষশূন্য।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার পর চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।’

অন্যদিকে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লাশ এলাকায় নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে চর বাটেরায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

কক্সবাজারে সিএনজি-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, দুই বোনসহ নিহত ৩

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারে সিএনজি-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, দুই বোনসহ নিহত ৩
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় কক্সবাজার-উখিয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের দুই মেয়ে রুবিনা আক্তার (৪০) ও শাহিনা আক্তার (৪২)। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্বজনরা জানান, পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সোমবার সকালে কক্সবাজার আদালতে এসেছিলেন দুই বোন। আদালতের কার্যক্রম শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অটোরিকশাটিতে চালকসহ ছয়জন আরোহী ছিলেন। খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তারের মৃত্যু হয়। আহত অপর তিনজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

রামু হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কী কারণে এ সংঘর্ষ ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।