কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র্যাব ও প্রশাসনের সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক, আশপাশের গ্রাম এবং ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রেলপথ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতরা হলেন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া (৩০) এবং মিরারচর মোল্লাবাড়ির ফজলুর রহমানের ছেলে হিরণ মিয়া (২৮)। মাসুদ মিয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক এবং হিরণ মিয়া শ্রমিক ছিলেন। আহতদের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ৪০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সোমবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাসুদ মিয়াকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে গুরুতর আহত হিরণ মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় রবিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে। সেখানে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হলেও সোমবার সকালে সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের কারণে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। একই সঙ্গে রেল চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী আন্তঃনগর এগারোসিন্দুর প্রভাতী এবং জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন কুলিয়ারচর স্টেশনে আটকা পড়ে।
ভৈরব স্টেশন মাস্টার আবু ইউসুফ জানান, সংঘর্ষের কারণে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মূছা খান বলেন, বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, পুলিশ ও র্যাবের সহযোগিতায় দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংঘর্ষে দুজন নিহত, ২৫ জন আহত এবং কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।




