• ই-পেপার

দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা

দিনাজপুর সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের বসুন্ধরা শুভসংঘের উপহার

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
দিনাজপুর সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের বসুন্ধরা শুভসংঘের উপহার
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও মানসিক সাহস জোগাতে গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দিকনির্দেশনামূলক আলোচনাসভাও অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি পরীক্ষা শুধু ফলাফলের বিষয় নয়; বরং এটি আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও সৎ প্রচেষ্টার মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তারা শিক্ষার্থীদের ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার প্রধান উপদেষ্টা মো. দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এটিই জীবনের শেষ গন্তব্য নয়। আত্মবিশ্বাস, নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং সততার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভয় বা দুশ্চিন্তা নয়, নিজের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য মুখস্থবিদ্যার চেয়ে বিষয়ভিত্তিক বোঝাপড়া, নিয়মিত অনুশীলন এবং ইতিবাচক মানসিকতা বেশি প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরীক্ষায় সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি অরুপ কুমার রায় বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের জন্য এই ক্ষুদ্র উপহার আমাদের ভালোবাসা ও শুভ কামনার প্রতীক। আন্তরিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবাই ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু দুর্যোগে মানবিক সহায়তা বা সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সমৃদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতেও নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এই আয়োজন তারই একটি অংশ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সহ-সভাপতি প্রদীপা রাণী, শাহরিয়ার কবির ও আসাদুল্লাহ আসিফ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রিফাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর ইসলাম আতিক, নারীবিষয়ক সম্পাদক রুবিয়া, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোনাইম ইসলাম নিয়নসহ কার্যকরী সদস্যরা।

এ সময় প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী রোকন, আর্প, পূজা, মিতু, জুই, জুনায়েদ, রিয়াদ, কলি, আল-আমিন, রিতা, সুমাইয়া, মাহমুদ, শান্ত, কবির, ডোলা, স্বাধীন, তমাল ও ইমনসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে পরীক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপহার গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, পরীক্ষার আগে এমন আয়োজন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভালো ফলাফলের জন্য নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষে সব পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, সফলতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শুভ কামনা জানানো হয়। 
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে আরো উৎসাহিত করতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হরিজন তরুণী আলোরাধার জীবনে আশার আলো

জাকারিয়া জামান, গাইবান্ধা থেকে
হরিজন তরুণী আলোরাধার জীবনে আশার আলো
ছবি: কালের কণ্ঠ

সংগ্রাম, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছার গল্পে সাজানো হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণী আলোরাধার জীবন। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাচারিবাজার এলাকার এই তরুণী বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি হার মানেননি। এবার বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া একটি সেলাই মেশিন তার স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাবার সীমিত আয়ে তিন বোনের পড়াশোনা চালানো ছিল কঠিন এক সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন আলোরাধা। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে এলেও আর্থিক সংকট পিছু ছাড়েনি। স্বামীর একটি ছোট দোকান থাকলেও নানা সামাজিক বৈষম্য ও অবহেলার কারণে ব্যবসা ভালো চলে না। ফলে সংসারের চাকা সচল রাখতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে।

আলোরাধা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখেছি বাবা কত কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। সমাজে আমরা অনেক সময় অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবুও পড়াশোনা ছাড়িনি। এখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। স্বপ্ন দেখি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আমার কাছে শুধু একটি মেশিন নয়, এটি নতুন জীবনের আশা।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্লাউজ, ফ্রক, পায়জামা ও শিশুদের পোশাক সেলাই করতে পারি। এখন ঘরে বসেই কাজ করে সংসারে আয় করতে পারব, পড়াশোনার খরচও চালাতে পারব। আমি চাই সমাজের বোঝা হয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে।’

রবিবার (২৬ জুলাই) গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে আলোরাধার মত দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করা ৩৬ নারীর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।

এ সময় তিনি গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩৬ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন। তিন মাস বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে ওঠা নারীরা সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আপনাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এটি কাজে লাগিয়ে নিজের পরিবারের পোশাক তৈরির পাশাপাশি আয়ও করা সম্ভব। আমরা চাই আপনারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হোন, সন্তানদের শিক্ষিত করুন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটান।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, গাইবান্ধা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসুজ্জামান মোনা, নাট্যকর্মী মানিক বাহার।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদর সরকার বলেন, ‘সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক নারী ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। আপনারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের অন্য নারীদেরও এই কাজ শেখাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়ন পুরো পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

গাইবান্ধা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি উদ্যোগ। আমরা আশা করি, এই মেশিন ব্যবহার করে উপকারভোগীরা আয়মুখী কাজে যুক্ত হবেন এবং এলাকায় অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবেন। বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।’

অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য হুমায়ুন আহম্মেদ বিপ্লব, আহসানিয়া তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, ছামিউল বাসির, আশিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, আহসান আজিম প্রধান, তৌহিদুল ইসলাম, আফিয়া ইভা, দীবাকর মোদক, সজীব সরকার, সুমাইয়া খাতুন, আবিদা আক্তার, আফরিন আক্তার ও সিনথিয়া আক্তার।

দেবীগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন

অনলাইন ডেস্ক
দেবীগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন
সংগৃহীত ছবি

মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দিনব্যাপী ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ।

এই উদ্যোগে মাদরাসার দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনামূল্যে নিজেদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের রক্তদানের গুরুত্ব, নিরাপদ রক্তদান এবং জরুরি মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

রবিবার (২৬ জুলাই) দেবীগঞ্জ পৌর শহরের আলহেরা দারুল উলুম মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ক্যাম্পেইন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো নিজের রক্তের গ্রুপ জেনে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ক্যাম্পেইনে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অংশগ্রহণকারীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেন। পাশাপাশি রক্তদানের উপকারিতা, নিরাপদ রক্তদান পদ্ধতি, রক্ত সংরক্ষণ, নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব এবং দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন জটিলতা ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

 

রক্তদান নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভয় ও ভুল ধারণা দূর করতেও সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি নাহিদ সিদ্দিক বাপ্পী, কার্যকরী সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির, জসিম ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শেখ ফরিদ এবং সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক।

ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘আগে কখনো রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করাইনি। আজ এখানে এসে বিনামূল্যে নিজের রক্তের গ্রুপ জানতে পারলাম। এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে। পাশাপাশি রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কেও জানতে পেরেছি।’

আলহেরা দারুল উলুম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. সোয়াইব কাশেমী বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানতেন না। বসুন্ধরা শুভসংঘ বিনামূল্যে সেই সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছে। আমরা তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি নাহিদ সিদ্দিক বাপ্পী বলেন, ‘দুর্ঘটনা, প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা হঠাৎ অসুস্থতার সময় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় রক্তের গ্রুপ না জানার কারণে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়, যা জীবনঝুঁকির কারণ হতে পারে। সাধারণ মানুষের এই প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবামূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকবে।’

সংগঠনের কার্যকরী সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ‘শুধু রক্তের গ্রুপ নির্ণয় নয়, বসুন্ধরা শুভসংঘ বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সমাজের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের নিজের রক্তের গ্রুপ জানা উচিত। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে জরুরি মুহূর্তে রক্তের সংকট অনেকটাই কমে আসবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার সুযোগ বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি জরুরি সময়ে নিরাপদ রক্ত সংগ্রহও সহজ হবে।

উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও মানবিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ নানা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। দেবীগঞ্জে আয়োজিত এ ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

পাবনায় বসুন্ধরা শুভসংঘের দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
পাবনায় বসুন্ধরা শুভসংঘের দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাবনার সুজানগরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলা গেটসংলগ্ন আদর্শ ক্লাবের সামনে আল সাফুরা রেস্তোরাঁর হলরুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ক্যাম্পেইনে শিক্ষক, সমাজসেবক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি ও উপজেলা পোস্টমাস্টার মো. আফজাল হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সুজানগর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম রোজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম রোজ বলেন, দুর্নীতি ও মাদক একটি জাতির উন্নয়নের বড় অন্তরায়। তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধ, সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে। সচেতনতার মাধ্যমেই মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বিশেষ আলোচনায় ১৩২ নম্বর চরসুজানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাদক একজন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। একইভাবে দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বড় বাধা। তাই এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সুজানগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক লিয়াকত আলী লিটন বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই সততা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে পারলে তারা ভবিষ্যতে দুর্নীতি ও মাদক থেকে দূরে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্নীতি ও মাদক সমাজের বড় দুটি ব্যাধি। এগুলো প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

ক্যাম্পেইনের একপর্যায়ে উপস্থিত সবাই দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেন। পরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সুজানগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন।