• ই-পেপার

সিরাজগঞ্জে স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে হত্যা, স্বামী পলাতক

বাসার চালে টবে গাঁজা চাষ, ১২ গাছসহ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বাসার চালে টবে গাঁজা চাষ, ১২ গাছসহ গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় একটি বসতঘরের টিনের চালে প্লাস্টিকের বালতিতে সুকৌশলে করা হচ্ছিল গাঁজার চাষ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১২টি গাঁজা গাছ উদ্ধারসহ লোকমান হোসেন (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭।

গ্রেপ্তর লোকমান হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার হায়দ্রাবাদ এলাকার মৃত হোসেন মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বিষয়টি কালের কণ্ঠকে জানান র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি বলেন, গতকাল সোমবার রাতে নগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শান্তিনগর এলাকায় এই অভিনব মাদক চাষের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

র‌্যাব জানায়, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার লোকমান হোসেন তার বসতঘরের টিনের চালের ওপর প্লাস্টিকের বালতি ও টবের ভেতর অত্যন্ত গোপনে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা গাছ চাষ করে আসছিলেন, এমন গোপন তথ্য পায় র‌্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই শেষে ২৭ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে লোকমানকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

পরে তার দেখানো মতে টিনের চালের ওপর থেকে দুটি প্লাস্টিকের বালতিতে বিশেষভাবে রোপণ করা ১২টি সতেজ গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়। প্রতিটি বালতিতে ৬টি করে গাছ রোপণ করা হয়েছিল।

আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আলামতসহ বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুধু আইন করে, শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয় : এলজিআরডি মন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
শুধু আইন করে, শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয় : এলজিআরডি মন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শুধুমাত্র আইন করে, শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাদক নির্মূল করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে (২৮ জুলাই) ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাদকবিরোধী সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে সকলকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই আন্দোলনকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই, এছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই আন্দোলনের ফলে কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে। সবাই মিলে ইতিবাচক ভূমিকা পালনসহ মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।’

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী সহ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও  গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাজীবন অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলেও আজ আমি অপরাধী—আদালতে হাজিরা শেষে আইভী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
সারাজীবন অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলেও আজ আমি অপরাধী—আদালতে হাজিরা শেষে আইভী
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। শুনানি শেষে আদালত তার পূর্বের জামিন বহাল রাখার পাশাপাশি পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় তিনি জেলার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজিরা দেন। বিষয়টি নিশ্চিন্ত করেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।

হাজিরা শেষে ফেরার পথে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। আমি সারাজীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি সর্বক্ষণ। হত্যা, অত্যাচার, জুলুমের বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করেছি, আর আজকে আমিই অপরাধী!’

সংক্ষিপ্ত এ মন্তব্যের পর তিনি গাড়িতে উঠে দেওভোগের বাড়ির পথে রওয়ানা হন। এদিন, তার আগমনকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গনে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদালতের সামনে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

তার আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, আইভীকে গ্রেপ্তার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশের দায়ের করা একটি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল মঙ্গলবার। এ মামলায় আইভী জামিনে থাকলেও তিনি আদালতের কার্যবিধি অনুযায়ী হাজিরা দিয়েছেন।

গত বছরের ৯ মে হত্যা মামলায় আইভীকে তার নিজ বাসা ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একে একে ১২টি হত্যা ও হত্যা চেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ৩৯১ দিন বন্দি থাকার পর গত ৪ জুন সব মামলা থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

আশুলিয়া

বহুতল ভবনে কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
বহুতল ভবনে কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

সাভারের আশুলিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রবিউল ইসলাম (২৬) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো এক নির্মাণ শ্রমিক। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম।

এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে আশুলিয়ার কোনাপাড়া ছয়তলা মহল্লার একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায় রবিউল। নিহত লালমনিরহাট জেলার দক্ষিণ দলগ্রাম এলাকার একলাস হোসেনের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার কোনাপাড়া এলাকার হাজী রফিকুল ইসলামের বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।

স্থানীয়রা জানান, কোনোরকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ছয়তলা একটি ভবনের কাজ করাচ্ছিলেন ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়া। তার পক্ষে কাজ তদারকি করেন তার শ্যালক হাসান আলী। সোমবার বিকেলে কাজ করার সময় ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নির্মাণ শ্রমিক রবিউল ইসলাম বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

নিহতের স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, দুই মাস আগে কাজের সন্ধানে গ্রামের বাড়ি থেকে আশুলিয়ার কোনাপাড়ায় আসেন তারা। পরে এখানে থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও কাজের উদ্দেশ্যে কোনাপাড়ায় যান। বিকেল ৫টার দিকে খবর পান তার স্বামী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হয়েছেন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে জিরানী বাজারস্থ বাংলাদেশ কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মর্জিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পরেও তার স্বামীকে ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু অন্য একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সময় মতো হাসপাতালে নিলে হয়তো তার স্বামীর মৃত্যু হত না। তার দুইটা ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। এখন তাদের কি হবে বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আশুলিয়া থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।