• ই-পেপার

নোয়াখালীতে হেফাজতের মহাসমাবেশ ১ আগস্ট

সারাজীবন অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলেও আজ আমি অপরাধী—আদালতে হাজিরা শেষে আইভী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
সারাজীবন অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলেও আজ আমি অপরাধী—আদালতে হাজিরা শেষে আইভী
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। শুনানি শেষে আদালত তার পূর্বের জামিন বহাল রাখার পাশাপাশি পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় তিনি জেলার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজিরা দেন। বিষয়টি নিশ্চিন্ত করেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।

হাজিরা শেষে ফেরার পথে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। আমি সারাজীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি সর্বক্ষণ। হত্যা, অত্যাচার, জুলুমের বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করেছি, আর আজকে আমিই অপরাধী!’

সংক্ষিপ্ত এ মন্তব্যের পর তিনি গাড়িতে উঠে দেওভোগের বাড়ির পথে রওয়ানা হন। এদিন, তার আগমনকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গনে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদালতের সামনে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

তার আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, আইভীকে গ্রেপ্তার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশের দায়ের করা একটি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল মঙ্গলবার। এ মামলায় আইভী জামিনে থাকলেও তিনি আদালতের কার্যবিধি অনুযায়ী হাজিরা দিয়েছেন।

গত বছরের ৯ মে হত্যা মামলায় আইভীকে তার নিজ বাসা ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একে একে ১২টি হত্যা ও হত্যা চেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ৩৯১ দিন বন্দি থাকার পর গত ৪ জুন সব মামলা থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

সিরাজগঞ্জে স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে হত্যা, স্বামী পলাতক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে হত্যা, স্বামী পলাতক
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মসলা পেশানো সিলপাটার সিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বিষমডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া খাতুন (২৪) একই গ্রামের সোহবার আলী সেখের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম মো. শাহপরান।

তাড়াশ থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে তানিয়াকে বিয়ে করে স্বামী মো. শাহপরান শ্বশুরবাড়িতে ঘর জামাই থাকতেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে নিজ ঘরে তানিয়াকে মৃত অবস্থায় দেখে স্বজনরা থানায় সংবাদ দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় তানিয়াকে সিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী শাহপরান তার স্ত্রী তানিয়াকে হত্যার পর পালিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

আশুলিয়া

বহুতল ভবনে কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
বহুতল ভবনে কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

সাভারের আশুলিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রবিউল ইসলাম (২৬) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো এক নির্মাণ শ্রমিক। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম।

এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে আশুলিয়ার কোনাপাড়া ছয়তলা মহল্লার একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায় রবিউল। নিহত লালমনিরহাট জেলার দক্ষিণ দলগ্রাম এলাকার একলাস হোসেনের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার কোনাপাড়া এলাকার হাজী রফিকুল ইসলামের বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।

স্থানীয়রা জানান, কোনোরকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ছয়তলা একটি ভবনের কাজ করাচ্ছিলেন ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়া। তার পক্ষে কাজ তদারকি করেন তার শ্যালক হাসান আলী। সোমবার বিকেলে কাজ করার সময় ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নির্মাণ শ্রমিক রবিউল ইসলাম বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

নিহতের স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, দুই মাস আগে কাজের সন্ধানে গ্রামের বাড়ি থেকে আশুলিয়ার কোনাপাড়ায় আসেন তারা। পরে এখানে থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও কাজের উদ্দেশ্যে কোনাপাড়ায় যান। বিকেল ৫টার দিকে খবর পান তার স্বামী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হয়েছেন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে জিরানী বাজারস্থ বাংলাদেশ কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মর্জিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পরেও তার স্বামীকে ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু অন্য একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সময় মতো হাসপাতালে নিলে হয়তো তার স্বামীর মৃত্যু হত না। তার দুইটা ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। এখন তাদের কি হবে বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আশুলিয়া থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভালুকা

স্বামীর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে প্রতিকার চাইলেন স্ত্রী

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
স্বামীর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে প্রতিকার চাইলেন স্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় স্বামীর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ তুলে এবং ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন তার স্ত্রী হনুফা (৪২)। উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের আখালিয়া হাজীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হনুফা উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের আখালিয়া হাজীর বাজার এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম রবুর (৪৫) স্ত্রী। তিনি এক মেয়ে এক ছেলের জননী। মেয়ে এবং তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছেলে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

অভিযোগে তিনি জানান, তার স্বামী মো. রফিকুল ইসলামহে রবু একজন মাদকসেবী ও এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। মাদক সেবন ও বিক্রিতে পরিবারের কারো বাধা তিনি শোনেন না বরং প্রতিবাদ করায় স্ত্রী-কন্যাকে মাদক বিক্রির কাজে তাকে সহায়তা করতে বলেন। এলাকার লোকজন তাকে একাধিকবার সাবধান করলেও তিনি তা আমলে নিচ্ছেন না। লোকজনকে বাড়িতে নিয়ে তিনি মাদক সেবন করেন।

স্ত্রী ও সন্তানদের প্রায়ই মারধর করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ জুলাই বিকেলে অজ্ঞাত পরিচয়ের ৩-৪ জন ব্যক্তিকে মাদক সেবনের জন্যে বাড়িতে নিয়ে আসেন রবু। ওই সময় বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কন্যাকে মারপিট করেন। এবং মাদক বিক্রিতে সহায়তা না করলে তাদেরকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। ওই ঘটনায় হনুফা বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

হনুফা জানান, তার স্বামী মাদক বিক্রি ও সেবন করেন এবং তাদেরকেও তা বিক্রিতে সহায়তা করতে বলেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

ভালুকা মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।