• ই-পেপার

এস কে সুরের তিন বছরের কারাদণ্ড

পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আইভীর জামিন বহাল

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আইভীর জামিন বহাল
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। শুনানি শেষে আদালত তার পূর্বের জামিন বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তিনি হাজির হন। বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আইভী আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন বহাল রাখেন। পাশাপাশি আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন।

আদালত থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের আইভী বলেন, ‘আমি সবসময় হত্যার বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আজ আমিই কি অপরাধী? এর বিচার আল্লাহ আছেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন। তারাই দেখবেন।’

আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আজ আইভীর নিয়মিত হাজিরা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার কার্যক্রম শুরু হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হতে হবে। চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তার পক্ষে আইনজীবী হাজিরা দেবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আইভী সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শুধু এই মামলায় আদালত আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। অন্য মামলাগুলোতে এখনো এমন কোনো আদেশ হয়নি।’

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া পুলিশের ওপর হামলার মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আদালত তার পূর্বের জামিন বহাল রেখেছেন।’

গত বছরের মে মাসে দেওভোগে নিজবাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তারের সময় তার সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে উকিলপাড়া মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় আইভীকে গ্রেপ্তারে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে সদর মডেল থানায় ২৫২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আপিলের আদেশ বুধবার

অনলাইন ডেস্ক
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আপিলের আদেশ বুধবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আপিল বিভাগের আদেশ বুধবার। এ রায় ও আদেশের পর জানা যাবে সারোয়ার আলমগীর সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন কি না।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। 

বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে শপথ পড়ানোর পর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত রাখতে করা আপিল আবেদনের ওপর আজ রায় হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এদিন বিষয়টির ওপর আবারও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বুধবার (২৯ জুলাই) রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন।

এ আদেশের মাধ্যমে সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া ও সংসদের অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে।

এর আগে, সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন চট্টগ্রাম-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

নুরুল আমীন হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চান এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীর যেন সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন- এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা চান। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ বিষয়ে রায়ের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার (২৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই দিন ঠিক করেন।

আদালতে এদিন সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম এবং এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এর আগে সারোয়ার আলমগীরের সংসদে যেতে না যাওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। নুরুল আমীনের করা ওই আবেদনে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

নুসরাত হত্যা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি আজ

অনলাইন ডেস্ক
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি আজ

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যে কোনো সময় শুনানির কথা রয়েছে।

গত ১০ জুন নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত আলোচিত মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নুসরাত হত্যা মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর একই বছরের ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৬ জন।

রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক প্রস্তুত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ কারণে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলও দায়ের করেছেন।

এ মামলায় আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।
 

নিরাপত্তা চেয়ে পিয়া জান্নাতুলের জিডি, তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরাপত্তা চেয়ে পিয়া জান্নাতুলের জিডি, তদন্তের নির্দেশ
ফাইল ছবি

নিরাপত্তা চেয়ে করা আইনজীবী ও আলোচিত মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া ওরফে পিয়া জান্নাতুলের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানা পুলিশকে জিডির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোস্তফা কামাল বলেন, পিয়া জান্নাতুলের জিডির বিষয়ে বনানী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

এর আগে গত ৮ জুলাই পিয়া জান্নাতুল বনানী থানায় জিডি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অতীত বা বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নন তিনি। তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই। সম্প্রতি একজন নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সম্পূর্ণ মানবিক ও আইনসম্মত অবস্থান গ্রহণ করার পর গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আপত্তিকর বার্তা পাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকিমূলক ফোনকল আসছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন পিয়া।

শুধু তাই নয়, প্রায় তিন মাস ধরে কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণ করছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কবোধ করছেন। তার আশঙ্কা, যে কোনো সময় তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ পুলিশি সুরক্ষা কামনা করেন পিয়া জান্নাতুল।