• ই-পেপার

সমাজচিন্তায় যে মুসলিম দার্শনিকের অবদান অনবদ্য

রাতের আমলই বদলে দেবে আপনার ভবিষ্যৎ

মুফতি ওমর বিন নাছির
রাতের আমলই বদলে দেবে আপনার ভবিষ্যৎ
সংগৃহীত ছবি

দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন পৃথিবী নিস্তব্ধ হয়ে যায়, যখন কোলাহল স্তব্ধ হয়ে আসে এবং মানুষ আপন আপন ঘরে ফিরে যায়, তখন নেমে আসে রাত। এই রাত শুধু বিশ্রামের সময় নয়; এটি একজন মুমিনের জন্য আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং রবের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এক মহামূল্যবান সুযোগ। দিনের ব্যস্ততায় মানুষ অনেক কিছু ভুলে যায়, কিন্তু রাত তাকে নিজের ভেতরের মানুষটির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

রাত এমন একটি সময়, যখন বাহ্যিক শব্দ কমে যায় এবং অন্তরের শব্দ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন মানুষ তার ভুলগুলো নিয়ে ভাবতে পারে, নিজের আমল পর্যালোচনা করতে পারে, গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হতে পারে এবং আগামী দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে। এজন্যই ইসলামে রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ এবং দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ১০-১১)


পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, ‘তারা রাতের অল্প অংশই নিদ্রায় কাটাত এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৭-১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের ইবাদতকে এত গুরুত্ব দিতেন যে তাঁর পা পর্যন্ত ফুলে যেত। তখন আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহ তো আপনার পূর্বাপর সব গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, তবুও আপনি এত কষ্ট করেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘তাহলে কি আমি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?’ (সহিহ বুখারি)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৪৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৫৮)

আজকের বাস্তবতা হলো, যে রাত আমাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম হওয়ার কথা ছিল, সেই রাতই অনেকের জন্য গাফেলত, মোবাইল আসক্তি, উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং, সিরিজ-নাটক দেখা এবং সময় অপচয়ের সময়ে পরিণত হয়েছে। বাস্তবতা হলো, একজন মানুষের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ধারিত হয় তার রাতের অভ্যাস দ্বারা। যে ব্যক্তি রাতকে ইবাদত, জ্ঞানার্জন ও আত্মসমালোচনায় ব্যয় করে, তার জীবন ধীরে ধীরে আলোকিত হয়ে ওঠে। আর যে ব্যক্তি রাতকে গুনাহ ও গাফেলতিতে নষ্ট করে, সে নিজের অজান্তেই ক্ষতির পথে এগিয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন। 

ইসলামের দৃষ্টিতে

শিশুর জেদ : কারণ ও প্রতিকার

আতাউর রহমান খসরু
শিশুর জেদ : কারণ ও প্রতিকার
সংগৃহীত ছবি

শিশুর জেদ মা-বাবার বড় দুশ্চিন্তার কারণ। মা-বাবা ও অভিভাবক না সহ্য করতে পারেন শিশুর অযৌক্তিক জেদ, না পারেন তাকে কঠোরভাবে শাসন করতে। ফলে কখনো তারা হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেন। আবার কখনো তাদের অতি কঠোরতায় বখে যায় আদরের সন্তান। ইসলাম সর্বাবস্থায় শিশুর প্রতি কোমল আচরণের পরামর্শ দেয়। শিশু জেদি হলে তার প্রতিপালনে বাস্তবমুখী আচরণ ও মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়।

 শিশু জেদি হয় কেন

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশু জেদি হয়ে জন্মগ্রহণ করে না, বরং পারিপার্শ্বিক কারণে তারা জেদি হয়। জেদি শিশুর সঙ্গে যথোপযুক্ত আচরণ করতে চাইলে প্রথমেই এসব কারণ বুঝতে হবে। চিকিৎসক, গবেষক ও প্রাজ্ঞ লোকেরা শিশুর জেদের কিছু কারণ বর্ণনা করেন। তা হলো—

১. স্বভাবজাত কারণ : শিশুর কিছু কিছু জেদ স্বভাবজাত। শিশুদের ভাষা ও অভিব্যক্তি প্রকাশে সীমাবদ্ধতা থাকায় তারা কখনো কখনো জেদকে ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন মা-বাবা বা অভিভাবকরা শিশুর প্রতি মনোযোগী না হলে, তাকে অবহেলা বা উপেক্ষা করলে শিশু জেদ দেখাতে পারে। কখনো ভয় পাচ্ছে এমন কাজ তার ওপর চাপিয়ে দিলেও শিশু জেদ দেখাতে পারে।

২. প্রতিপালনের ত্রুটি : মা-বাবা ও অভিভাবকদের ভুল প্রতিপালন, আচরণ ও শাসনের কারণেও শিশু জেদি হয়ে উঠতে পারে। যেমন—শিশুর প্রতি কথায় কথায় রাগ প্রকাশ করলে, বড়রা পরস্পরের প্রতি বেশি জেদ দেখালে, শিশুর যৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করলে, পরিবারে সে বৈষম্য ও অবিচারের শিকার হলে শিশু জেদি হয়ে উঠতে পারে।

৩. পরিবেশগত কারণ : শিশু মন্দ সঙ্গ ও পরিবেশের কারণেও জেদি হয়ে উঠতে পারে। সে যদি তার কোনো বন্ধু বা খেলার সাথিকে জেদ দেখাতে এবং তা দেখিয়ে দাবি আদায় করতে দেখে তাতে তার ভেতরও জেদ প্রকাশের প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

৪. স্বাস্থ্যগত কারণ : চিকিৎসকরা বলেন, জেনেটিক বা পরিবেশগত কারণের বাইরেও স্বাস্থ্যগত ত্রুটির কারণেও শিশুর অতিরিক্ত জেদ হতে পারে। যেমন—শিশুর এপিলেপসি (খিঁচুনির) বা এডিএইচডির সমস্যা থাকলে শিশুরা অতিরিক্ত জেদ দেখাতে পারে।

জেদি শিশুর প্রতি আচরণ

ইসলামের দৃষ্টিতে শিশুর বোধ-বুদ্ধি পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত তার সব কথা, কাজ ও আচরণ ক্ষমার যোগ্য। তাই যে শিশু ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝে না তার প্রতি ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন এবং কোমল আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যে শিশু বুঝমান তার প্রতি স্নেহ ও অকঠোর শাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্নে ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরা হলো—

১. স্নেহ ও মমতা প্রদর্শন : শিশু জেদি হলেও ইসলাম তার প্রতি কোমল ও স্নেহের আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ছোটকে স্নেহ ও বড়কে সম্মান করে না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৩)

২. ধৈর্য ও সহনশীলতা : ইসলাম শিশুর প্রতি সর্বোচ্চ সহনশীল আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত আছে। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় কন্যা জয়নব (রা.)-এর মেয়ে উমামাকে কোলে নিয়ে নামাজ আদায় করতেন। তিনি যখন সিজদা করতেন তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন দাঁড়াতেন কোলে তুলে নিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫১৬)

৩. উত্তম আচরণ ও পরিবেশ : শিশুরা অনুকরণপ্রিয়, তারা চারপাশের মানুষগুলো থেকে আচরণ শেখে। তাই শিশুর সঙ্গে এবং তার উপস্থিতিতে তেমন আচরণ করা উচিত যেমন তার কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়। এটা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কর্মকৌশল ছিল। পবিত্র কোআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রাসুলের জীবনে তোমাদের জন্য আছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ২১)

৪. সন্তানদের ভেতর ইনসাফ : পারিবারিক জুলুম, অবিচার ও অবহেলা শিশুকে জেদি ও এক রোখা করে তুলতে পারে। তাই ইসলাম সন্তানদের ভেতর ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের ভেতর ইনসাফ করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৮৭)

৫. ভালো কাজের প্রশংসা : শিশুরা প্রশংসা শুনতে পছন্দ করে। তাই সে কোনো ভালো করলে তার প্রশংসা করা এবং উৎসাহ দেওয়া উচিত। এতে তার ভেতর ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে উঠবে। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন এবং তাকে ধারণাতীত উৎস থেকে দান করবেন জীবিকা।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২-৩)

৬. জেদের বিপরীতে জেদ নয় : অনেক সময় মা-বাবা ও অভিভাবক সন্তানের সঙ্গে জেদাজেদিতে লিপ্ত হন। এটা অনুচিত ও অগ্রহণযোগ্য। কেননা অবুঝ শিশু ও অভিভাবক কখনো সমান নয়। ইসলামের শিক্ষা হলো মন্দের পরিবর্তে ভালো। অর্থাৎ শিশু জেদ দেখালে অভিভাবক তাকে যুক্তি ও উপদেশের মাধ্যমে বোঝাবেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত করো উত্কৃষ্ট দ্বারা, ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো।’ (সুরা : হা-মিম-সাজদা, আয়াত : ৩৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোমলতা যেকোনো বিষয়কে সুন্দর করে এবং তা ত্যাগ করলে যেকোনো বিষয় কদর্য হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৪৭৮)

৭. ন্যায়সংগত শাসন : ইসলাম শিশুর সঙ্গে প্রথমে কোমল আচরণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিশুর সংশোধন না হলে ন্যায়সংগত শাসনের অনুমতি দেয়। তা হলো শিশুর বয়স, পরিপক্বতা ও অবাধ্যতার মাত্রা বিবেচনা করে অকঠোর শাসন ও শাস্তি প্রদান করা। শাস্তি শুধু শারীরিক আঘাত নয়, বরং ভর্ৎসনা ও তিরস্কারও শাসন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে নামাজের আদেশ দাও এবং ১০ বছর হলে তাদেরকে নামাজের জন্য প্রহার কোরো। আর বিছানায় তাদের মধ্যে দূরত্ব রাখো।’(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)

৮. প্রয়োজনে চিকিৎসা : শিশুর জেদকে সব সময় স্বভাবজাত ও বংশগত বিষয় ভাবা উচিত নয়। শিশু অতিরিক্ত জেদ দেখালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং তার নিয়মিত চিকিৎসা করতে হবে। ইসলাম প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রোগের প্রতিষেধক আছে। রোগী যখন সঠিক প্রতিষেধক লাভ করে তখন আল্লাহর নির্দেশে সে আরোগ্য লাভ করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২০৪)

শিশুর জেদ সামলানোর উপায়

অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রাজ্ঞ আলেমরা জেদি শিশুকে সামলাতে নিম্নের পরামর্শগুলো দেন—

১. শিশুর প্রয়োজন ও আবেগ বুঝতে চেষ্টা করুন। তার কথা ও মতামতকে গুরুত্ব দিন।

২. শিশুর ভাষা ও অভিব্যক্তিগুলো পর্যালোচনা করুন। যেন জেদ দেখানোর আগেই তার সমস্যার সমাধান করা যায়।

৩. শিশুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করুন। তার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করুন। অহেতুক সমালোচনা পরিহার করুন।

৪. শিশুর প্রতি কার্পণ্যহীন ভালোবাসা প্রকাশ করুন। সাধারণত শিশুরা স্নেহ ও ভালোবাসা লাভে আগ্রহী হয়ে থাকে।

৫. শিশুর কাজের সীমা নির্ধারণ করে দিন। নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত তাকে স্বাধীনতা দিন। প্রয়োজনে ধীরে ধীরে তা সংকুচিত করুন।

৬. জেদের সময় শিশুকে অবকাশ দিন। জেদ কমে এলে তাকে স্নেহ, মমতা ও যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।

৭. যথাসম্ভব শারীরিক শাস্তি পরিহার করুন।

সর্বোপরি আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে দোয়া করুন। কেননা যেকোনো বিষয়ে আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ দোয়া শিখিয়েছেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করো, যারা হবে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর এবং আমাদেরকে করো মুত্তাকিদের জন্য অনুসরণযোগ্য।’ (সুরা : ফোরকান, আয়াত : ৭৪)

আল্লাহ সন্তানের ব্যাপারে সব মা-বাবার দুশ্চিন্তা দূর করে দিন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৮ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৮ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ১৩ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৭ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ০৯ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৭ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২৬ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

হাদিসের বাণী

যে হাদিস মুসলিম জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে হাদিস মুসলিম জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্যে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হলেন। তাঁর পরনে ছিল অত্যন্ত সাদা-পরিচ্ছন্ন পোশাক, মাথার চুল ছিল ঘন কালো। অথচ তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং উপস্থিত সাহাবিদের কেউই তাঁকে চিনতে পারছিলেন না।

তিনি মহানবী (সা.)-এর একেবারে নিকটে এসে বসলেন। নিজের দুই হাঁটু নবীজি (সা.)-এর দুই হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন এবং দুই হাত তাঁর ঊরুর ওপর রেখে অত্যন্ত ভদ্র ও মনোযোগী ভঙ্গিতে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ইসলাম হলো—তুমি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। তুমি সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাত আদায় করবে, রমজানের রোজা পালন করবে এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ সম্পন্ন করবে।’

লোকটি বললেন, ‘আপনি সত্য বলেছেন।’ ওমর (রা.) বলেন, আমরা বিস্মিত হলাম—তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন, আবার তিনিই উত্তরের সত্যতাও স্বীকার করছেন! এরপর তিনি বললেন, ‘আমাকে ঈমান সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ঈমান হলো—আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলদের প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং তাকদিরের ভালো-মন্দ—সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে—এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।’

তিনি আবার বললেন, ‘আপনি সত্য বলেছেন।’ এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমাকে ইহসান সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ইহসান হলো—তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পারো, তবে অন্তত এ বিশ্বাস রাখবে যে তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।’ পরে তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশি জানে না।’

অতঃপর তিনি বললেন, ‘তাহলে কিয়ামতের কিছু আলামত সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘দাসী তার প্রভুর জননী হবে এবং তুমি দেখতে পাবে—খালি পায়ে চলা, অর্ধনগ্ন, দরিদ্র মেষপালকেরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। এরপর লোকটি চলে গেলেন। ওমর (রা.) বলেন, আমি কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করলাম। পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে ওমর! তুমি কি জানো, প্রশ্নকারী ব্যক্তি কে ছিলেন?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই সর্বাধিক অবগত।’ তখন তিনি বললেন, ‘তিনি ছিলেন জিবরাইল (আ.)। তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের দ্বিন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

শিক্ষা
এই বিশেষ হাদিসটি ‘হাদিসে জিবরাইল’ নামে প্রসিদ্ধ। এতে ইসলামের তিনটি মৌলিক ভিত্তি—ইসলাম, ঈমান ও ইহসান—অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণিত হয়েছে। পাশাপাশি কিয়ামত সম্পর্কে মানুষের সীমিত জ্ঞানের কথা এবং তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতও তুলে ধরা হয়েছে। তাই আলেমরা এই হাদিসকে ইসলামের অন্যতম ভিত্তিমূলক হাদিস হিসেবে গণ্য করেছেন।