• ই-পেপার

কারগিল যুদ্ধ

২৭ বছর পর সামনে এলো ভারতকে ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার তথ্য

ভারত

‘ককরোচ’ আন্দোলনের পর এবার ইন্সটাগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ই২০ জনতা পার্টি’

অনলাইন ডেস্ক
‘ককরোচ’ আন্দোলনের পর এবার ইন্সটাগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ই২০ জনতা পার্টি’
ছবি : রয়টার্স

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পর এবার ইথানল-মিশ্রিত ই২০ জ্বালানির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন একটি ডিজিটাল আন্দোলন শুরু হয়েছে। ‘ই২০ জনতা পার্টি’ নামে এই গোষ্ঠী দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ইন্সটাগ্রামে ‘ই২০ জনতা পার্টি’র অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি, যা দ্রুত বাড়ছে।

এই গোষ্ঠীর দাবি, সাধারণ মানুষকে ছাড়মূল্যে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ (অমিশ্রিত) পেট্রোল বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তারা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়করির পদত্যাগও দাবি করছে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ইথানলবিহীন পেট্রোলে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

বর্তমানে ভারতে বিক্রি হওয়া পেট্রোলের নাম ই২০। এতে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো থাকে। সরকারের দাবি, এই জ্বালানি পরিবেশবান্ধব এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত। অন্যদিকে, সমালোচকদের অভিযোগ, ই২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যায় এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।

তবে সরকার বলছে, পরীক্ষাগার ও বাস্তব ব্যবহারের তথ্য অনুযায়ী ই২০ জ্বালানি ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি করে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সরকার স্বীকার করেছে, ই১০ উপযোগী পুরোনো গাড়িতে ই২০ ব্যবহার করলে মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আলোচিত ডিজিটাল আন্দোলনের পর ‘ই২০ জনতা পার্টি’র উত্থান সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক জনমতের নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর গত সপ্তাহে সংগঠনটি তাদের প্রায় এক মাসের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
 

জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, বাড়ছে অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, বাড়ছে অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা
ছবি : রয়টার্স

জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় প্রথম মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টোকিও থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে কেউ মসজিদ নির্মাণকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আবার কেউ সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

প্রস্তাবিত মসজিদটি একটি খোলা মাঠে নির্মাণ করা হবে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নরিকা ইজুমিজাওয়া বলেন, নতুন এই পরিবর্তনের ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ কীভাবে বদলাবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে চলমান বিতর্কও তার উদ্বেগের একটি কারণ।

জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া, জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে দেশটিতে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফুজিসাওয়ার মসজিদ বিতর্ক আসলে জাপানে অভিবাসন, ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে চলা বৃহত্তর আলোচনারই প্রতিফলন।

চলতি বছরের শুরুতে প্রস্তাবিত মসজিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় রেলস্টেশনের সামনে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, কাছের একটি শিন্তো মন্দিরের তুলনায় বড় আকারের মসজিদ স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কয়েকটি মসজিদে আপত্তিকর ফোনকল ও ই-মেইলও পাঠানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিদ্বেষবিরোধী সংগঠনগুলো ‘বিদ্বেষ নয়’ স্লোগানে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে। তবে সবাই মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। প্রস্তাবিত মসজিদের বিপরীতে একটি কফি শপের মালিক হিরোকি সুজুকা বলেন, সমর্থন বা বিরোধিতার আগে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত।

তার ভাষায়, ‘আমি মসজিদের কট্টর সমর্থক বা বিরোধী নই। তবে ইসলাম, মুসলিমদের জীবনধারা ও তাদের মূল্যবোধ সম্পর্কে জানলে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে। খোলা মন নিয়ে একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।’

ওসাকায় প্রায় ৩৯ বছর ধরে বসবাস করছেন শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। ১৯৮৭ সালে তিনি অর্থনৈতিক সুযোগের খোঁজে জাপানে আসেন। প্রথমে রত্নপাথরের ব্যবসা এবং পরে ব্যবহৃত গাড়ি রপ্তানির ব্যবসায় যুক্ত হন।

মহিউদ্দিন বলেন, তিনি যখন জাপানে আসেন, তখন বিদেশি বাসিন্দা কম ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমদের প্রতি কিছু মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ‘জাপান ছেড়ে চলে যাও’ বা ‘নিজের দেশে ফিরে যাও’ ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি কিছু মানুষ মসজিদে এসে মুসল্লিদের অপমানও করেন।

তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা অনুভব না করলেও মুসলিমদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তিনি লক্ষ্য করেছেন। তার মতে, মুসলিমদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা, বোমা তৈরির অভিযোগ তোলা কিংবা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো মন্তব্য আগের তুলনায় বেড়েছে।

মহিউদ্দিন বলেন, এসব পরিস্থিতিতে তারা ধৈর্য ধরে শান্ত আচরণ করার চেষ্টা করেন। তার মতে, অনেক জাপানির ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে আরো বেশি যোগাযোগ ও নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারলে এই দূরত্ব কমবে।

অন্যদিকে সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহাম্মদ বলেন, জাপানে বসবাসকারী বিদেশিদের অবশ্যই দেশটির আইন ও সামাজিক নিয়ম মেনে চলা উচিত। তিনি বলেন, আবর্জনা নির্ধারিত নিয়মে আলাদা করা, পার্কিং আইন মানা, সাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার এবং দৈনন্দিন সৌজন্যবোধের মতো বিষয়গুলো মুসলিম সম্প্রদায় গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করে।

তিনি জানান, ইয়াশিও এলাকায় পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকে এলাকাটিকে রসিকতার ছলে ‘ইয়াশিও-স্তান’ বলে ডাকেন। তার মতে, কিছু মানুষের খারাপ আচরণের জন্য পুরো একটি সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা উচিত নয়।

জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের অভাব মোকাবিলায় জাপান ক্রমেই বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এর ফলে দেশজুড়ে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং সামাজিক সংহতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জাপানে মুসলিম সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করা ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দা ও ইসলাম গ্রহণকারী জাপানিসহ মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তাদের বেশিরভাগই চীন, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন থেকে এসেছেন। একই সময়ে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা রেকর্ড ২৫ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, ওই বছর জাপানের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ কমে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে জাপান সরকার দেশটিকে অভিবাসীনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ না করে অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতিই কার্যত একটি ‘গোপন অভিবাসন ব্যবস্থা’ তৈরি করেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার অভিবাসন নীতিতে আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারে ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সিতে অতিরিক্ত প্রায় ২৩০ জন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপান এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে জাতীয় পরিচয় ও সামাজিক সংহতি বজায় রেখে কতটা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করা সম্ভব, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তবে ফুজিসাওয়ার বাসিন্দা নরিকা ইজুমিজাওয়া শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, তার কোনো মুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে কখনও ব্যক্তিগতভাবে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়নি। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, হয়তো আমি শুধু অজানাকেই ভয় পাই।’

প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরো বাড়ছে। দুই দেশ এখন নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারেও একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী সচিব এস পল কাপুর এ তথ্য জানিয়েছেন। 

হুভার ইনস্টিটিউটে ভারত নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মুলফোর্ডও অংশ নেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আরো বেড়েছে। তার ভাষায়, এই সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন আরো শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এখন প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর কাজ করছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হবে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বড় প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কাঠামোতে সই করে। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো স্থল, সমুদ্র, আকাশ, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করা। দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করছে। গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে ভারত। ২০০২ সাল থেকে দেশটি অ্যাপাচি ও চিনুক যুদ্ধ হেলিকপ্টার, সি-১৭ ও সি-১৩০জে সামরিক পরিবহন বিমান, পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান এবং এম৭৭৭ হাউইটজার কামানসহ বিভিন্ন আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতেও আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ভারতে বিনিয়োগ এবং প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করে। ভারত সরকার ‘শান্তি’ আইন পাস করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা-সংক্রান্ত কিছু নিয়ম শিথিল করার পর নতুন বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করতেই এই সফর করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত তাদের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
 

ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ
ছবি: রয়টার্স

ভারতে বেশি ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় আর ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে বিক্রি করা যাবে না। দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিভিন্ন কম্পানিকে এই নাম ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের দাবি, ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে কোনো নির্ধারিত খাদ্যমান বা সরকারি সংজ্ঞা নেই। তাই এই নাম ব্যবহার করলে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হতে পারেন।

এদিকে বিশ্বের দ্রুত বাড়তে থাকা এনার্জি ড্রিংকের বাজারগুলোর একটি হলো ভারত। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটির এনার্জি ড্রিংকের বাজার ১৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন সময় সরকারের এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের চাপে পড়েছে পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান সংস্থা (এফএসএসএআই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানায়, তারা বিভিন্ন কম্পানিকে নোটিশ পাঠিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে কোনো স্বীকৃত মান নেই। তাই কোনো পানীয়কে ‘শরীর ও মনকে চাঙা করে’ বা ‘সাধারণ দুর্বলতা দূর করে’—এভাবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর। তবে রয়টার্সের হাতে আসা গোপন নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কম্পানিগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানো নির্দেশ আরো কঠোর ছিল। ওই নির্দেশে পেপসি, রেড বুল, মনস্টার বেভারেজ, মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স এবং হেল এনার্জিকে তাদের পণ্যের গায় ‘এনার্জি ড্রিংক’ বা এ ধরনের অন্য কোনো নাম ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামেই এসব পণ্যের বাজার তৈরি হয়েছে। হঠাৎ এই নাম সরিয়ে ফেলতে হলে ব্র্যান্ডের পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বিক্রিও কমে যেতে পারে। এ নিয়ে শুক্রবার শিল্প খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান সংস্থার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত দুই ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রাজিত পুনহানি ব্যাবসায়িক ক্ষতির যুক্তি গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, কম্পানিগুলো চাইলে এই সিদ্ধান্ত আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তবে এফএসএসএআই, রাজিত পুনহানি কিংবা সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ কম্পানি এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি। শুধু পেপসি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের পর শিল্প খাত শেষ পর্যন্ত নতুন নিয়ম মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। নতুন লেবেল ব্যবহার করতে কম্পানিগুলোকে ৯০ দিনের সময় দিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান সংস্থা। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে তাদের পণ্যের মোড়ক থেকে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম সরিয়ে নতুনভাবে বাজারজাত করতে হবে। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এনার্জি ড্রিংক নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, এসব পানীয়তে সাধারণত অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি এবং টরিন নামে একটি অ্যামিনো এসিড থাকে। বেশি পরিমাণে এসব উপাদান শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ কারণে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে বেশি ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিংক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে এসব পানীয়কে ‘উত্তেজক পানীয়’ নামে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনার্জি ড্রিংকের ব্যবসা মূলত তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়ার ধারণার ওপর গড়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে রেড বুলের পরিচিত স্লোগান হলো, ‘রেড বুল আপনাকে ডানা দেয়।’ ভারতে আবার পেপসির স্টিং পানীয়র বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, এটি শরীরজুড়ে বিদ্যুতের মতো শক্তি ছড়িয়ে দেয় এবং ‘বিদ্যুতের মতো শক্তি’ দেয়। এ কারণেই শিল্প খাতের আশঙ্কা, ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম বাদ দিলে এসব ব্র্যান্ডের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভারতের বড় পানীয় কম্পানিগুলোর সংগঠন ইন্ডিয়ান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা সব নিয়ম মেনে চলতে এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নীতি তৈরিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে ৬ জুলাই খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাকে পাঠানো একটি গোপন চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, নোটিশ প্রকাশ্যে আনলে কম্পানিগুলোর সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের মতে, এতে ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে সমস্যা হবে এবং ভোক্তারাও বিভ্রান্ত হবেন। সংগঠনটি আরো বলেছে, বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা উচিত। এতে নিয়ম বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং আদালতে মামলাও কম হবে। তারা আরো দাবি করেছে, ব্যবসার জন্য পূর্বানুমানযোগ্য, স্বচ্ছ ও পরামর্শভিত্তিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

২০১৭ সালে পেপসি স্টিং বাজারে আনার পর থেকেই ভারতে এনার্জি ড্রিংকের বাজার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ইউরোমনিটরের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২০ রুপির প্লাস্টিক বোতলে বিক্রি হওয়া স্টিং বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে এটি বাজারের শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে যায়। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতের এনার্জি ড্রিংকের বাজারের খুচরা বিক্রি ১৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। প্রতি বছর গড়ে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে এই বাজার বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায়ও বেশি। এ ছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এ ধরনের পানীয়র বিক্রি বছরে প্রায় ১০০ শতাংশ হারে বেড়েছে। উত্তর প্রদেশের ২৪ বছর বয়সী মোটরসাইকেল মেকানিক সানি রাজবংশী নিয়মিত স্টিং ও রিলায়েন্সের ক্যাম্পা এনার্জি পান করেন। তিনি বলেন, ক্ষুধা লাগলে বা ধূমপান করতে বাইরে গেলে তিনি একটি বোতল কিনে পান করেন। তার ভাষায়, ‘এতে আমার পেট ভরে যায়। কাজ করার শক্তিও পাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি এগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি।’ 

সরকারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে দেখা গেছে, চলতি মাসে রাজস্থান রাজ্যে অভিযান চালিয়ে স্টিং, ক্যাম্পা এনার্জি ও রেড বুলের হাজার হাজার বোতল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ জুলাই রাজ্য সরকার অ্যামাজন, ওয়ালমার্টের ফ্লিপকার্ট, ব্লিংকিট এবং সুইগির ইনস্টামার্টসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, কোনো পণ্য যেন অনলাইন প্ল্যাটফরমে  ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে প্রচার বা বিক্রি করা না হয়।