• ই-পেপার

অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণার ঢেউয়ে মালয়েশিয়ায় বন্ধ রোহিঙ্গা স্কুল

ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ
ছবি: রয়টার্স

ভারতে বেশি ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় আর ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে বিক্রি করা যাবে না। দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিভিন্ন কম্পানিকে এই নাম ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের দাবি, ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে কোনো নির্ধারিত খাদ্যমান বা সরকারি সংজ্ঞা নেই। তাই এই নাম ব্যবহার করলে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হতে পারেন।

এদিকে বিশ্বের দ্রুত বাড়তে থাকা এনার্জি ড্রিংকের বাজারগুলোর একটি হলো ভারত। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটির এনার্জি ড্রিংকের বাজার ১৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন সময় সরকারের এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের চাপে পড়েছে পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান সংস্থা (এফএসএসএআই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, তারা বিভিন্ন কোম্পানিকে নোটিশ পাঠিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে কোনো স্বীকৃত মান নেই। তাই কোনো পানীয়কে ‘শরীর ও মনকে চাঙা করে’ বা ‘সাধারণ দুর্বলতা দূর করে’—এভাবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর। তবে রয়টার্সের হাতে আসা গোপন নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কম্পানিগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানো নির্দেশ আরো কঠোর ছিল। ওই নির্দেশে পেপসি, রেড বুল, মনস্টার বেভারেজ, মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স এবং হেল এনার্জিকে তাদের পণ্যের গায় ‘এনার্জি ড্রিংক’ বা এ ধরনের অন্য কোনো নাম ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামেই এসব পণ্যের বাজার তৈরি হয়েছে। হঠাৎ এই নাম সরিয়ে ফেলতে হলে ব্র্যান্ডের পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বিক্রিও কমে যেতে পারে। এ নিয়ে শুক্রবার শিল্প খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান সংস্থার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত দুই ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রাজিত পুনহানি ব্যবসায়িক ক্ষতির যুক্তি গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, কম্পানিগুলো চাইলে এই সিদ্ধান্ত আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তবে এফএসএসএআই, রাজিত পুনহানি কিংবা সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ কোম্পানি এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি। শুধু পেপসি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের পর শিল্প খাত শেষ পর্যন্ত নতুন নিয়ম মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। নতুন লেবেল ব্যবহার করতে কম্পানিগুলোকে ৯০ দিনের সময় দিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান সংস্থা। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে তাদের পণ্যের মোড়ক থেকে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম সরিয়ে নতুনভাবে বাজারজাত করতে হবে। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এনার্জি ড্রিংক নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, এসব পানীয়তে সাধারণত অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি এবং টরিন নামে একটি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। বেশি পরিমাণে এসব উপাদান শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ কারণে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে বেশি ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিংক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে এসব পানীয়কে ‘উত্তেজক পানীয়’ নামে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনার্জি ড্রিংকের ব্যবসা মূলত তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়ার ধারণার ওপর গড়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে রেড বুলের পরিচিত স্লোগান হলো, ‘রেড বুল আপনাকে ডানা দেয়।’ ভারতে আবার পেপসির স্টিং পানীয়র বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, এটি শরীরজুড়ে বিদ্যুতের মতো শক্তি ছড়িয়ে দেয় এবং ‘বিদ্যুতের মতো শক্তি’ দেয়। এ কারণেই শিল্প খাতের আশঙ্কা, ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম বাদ দিলে এসব ব্র্যান্ডের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভারতের বড় পানীয় কম্পানিগুলোর সংগঠন ইন্ডিয়ান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা সব নিয়ম মেনে চলতে এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নীতি তৈরিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে ৬ জুলাই খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাকে পাঠানো একটি গোপন চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, নোটিশ প্রকাশ্যে আনলে কম্পানিগুলোর সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের মতে, এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সমস্যা হবে এবং ভোক্তারাও বিভ্রান্ত হবেন। সংগঠনটি আরো বলেছে, বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা উচিত। এতে নিয়ম বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং আদালতে মামলাও কম হবে। তারা আরো দাবি করেছে, ব্যবসার জন্য পূর্বানুমানযোগ্য, স্বচ্ছ ও পরামর্শভিত্তিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

২০১৭ সালে পেপসি স্টিং বাজারে আনার পর থেকেই ভারতে এনার্জি ড্রিংকের বাজার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ইউরোমনিটরের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২০ রুপির প্লাস্টিক বোতলে বিক্রি হওয়া স্টিং বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে এটি বাজারের শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে যায়। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতের এনার্জি ড্রিংকের বাজারের খুচরা বিক্রি ১৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। প্রতি বছর গড়ে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে এই বাজার বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায়ও বেশি। এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এ ধরনের পানীয়র বিক্রি বছরে প্রায় ১০০ শতাংশ হারে বেড়েছে। উত্তর প্রদেশের ২৪ বছর বয়সী মোটরসাইকেল মেকানিক সানি রাজবংশী নিয়মিত স্টিং ও রিলায়েন্সের ক্যাম্পা এনার্জি পান করেন। তিনি বলেন, ক্ষুধা লাগলে বা ধূমপান করতে বাইরে গেলে তিনি একটি বোতল কিনে পান করেন। তার ভাষায়, 'এতে আমার পেট ভরে যায়। কাজ করার শক্তিও পাই।' তিনি আরো বলেন, 'আমার মনে হয় আমি এগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি।' 

সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দেখা গেছে, চলতি মাসে রাজস্থান রাজ্যে অভিযান চালিয়ে স্টিং, ক্যাম্পা এনার্জি ও রেড বুলের হাজার হাজার বোতল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৮ জুলাই রাজ্য সরকার অ্যামাজন, ওয়ালমার্টের ফ্লিপকার্ট, ব্লিংকিট এবং সুইগির ইনস্টামার্টসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, কোনো পণ্য যেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে  ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে প্রচার বা বিক্রি করা না হয়।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

অনলাইন ডেস্ক
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১
ছবি : রয়টার্স

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক জোকালো পাবলিক স্কোয়ার ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের কাছে বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুজন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) এই ঘটনাটি ঘটে।

মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা সচিবালয় ঘটনাটিকে একটি সরাসরি হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীদের হামলায় ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ছাড়া ৩৯ বছর বয়সী দুজন পুরুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গোলাগুলির পরপরই হামলাকারীরা একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে ইতিমধ্যে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

হামলাটি ঐতিহাসিক সান্তো ডোমিঙ্গো স্কোয়ারে ঘটেছিল, যা চমৎকার ঔপনিবেশিক আমলের ভবনে ঘেরা হলেও ভুয়া কাগজপত্র ও জাল নথি তৈরি- বিক্রির আখড়া হিসেবে পরিচিত। সাধারণত মেক্সিকোর মাদক পাচারকারী চক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে নিয়মিতই সহিংসতা বা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে রাজধানীতে ‘ইউনিয়ন টেপিটো’ ও ‘ফুয়েরজা অ্যান্টি-ইউনিয়ন’-এর মতো বেশ কিছু অপরাধী গ্যাং সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের সরাসরি হামলার ঘটনাকে বিরল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধে প্রতি তিনজন মার্কিনে একজনের সমর্থন, ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়ে ধোঁয়াশা

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে প্রতি তিনজন মার্কিনে একজনের সমর্থন, ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়ে ধোঁয়াশা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনজন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সমর্থনের হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং যুদ্ধের মূল লক্ষ্য কী। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে আরো দেখা যায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে তার অনুমোদনের হার ৩৭ শতাংশ। গত মাসের তুলনায় এটি ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তবে এই হার এখনও তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালের তুলনামূলক নিচের দিকের অবস্থানগুলোর একটি। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। কখনও তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণকে তাদের বর্তমান নেতৃত্বের হাত থেকে মুক্ত করতে চান। আবার কখনও বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাই উদ্দেশ্য। অন্য সময় তিনি জোর দিয়েছেন, ইরানকে যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া হয়।

তবে জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। এমনকি রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের মধ্যেও এই মত রয়েছে। প্রতি ১০ জন রিপাবলিকান সমর্থকের মধ্যে চারজনও একই কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনমত জরিপ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তার ভাষ্য, ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার—ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন একজন প্রেসিডেন্ট থাকা, যিনি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কখনোই ৪০ শতাংশে পৌঁছায়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বড় যুদ্ধগুলোর তুলনায় অনেক কম। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সেই যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন। আর ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধ শুরুর সময় সমর্থনের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। গ্যালাপের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রতি মানুষের অনীহা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করবে দলটি।

জর্জিয়ার স্টকব্রিজ শহরের বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত টারবাইন মেরামত বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তার ভাষায়, 'আমরা কেন যুদ্ধ শুরু করেছি, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।' ওম্যাক একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি জানান, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের নেতৃত্ব পছন্দ হওয়ায় তিনি রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। তবে বর্তমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে তিনি ট্রাম্পের ওপর আগের মতো আস্থা রাখতে পারছেন না। তার মতে, ট্রাম্প এই পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিতে পারছেন না।

এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লেবাননে ইরান-সমর্থিত যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। দেশজুড়ে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের কিছু বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল প্রায় ৩ ডলার। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে এবং অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়েছে।

রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ এবং সাবেক হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যালেক্স কোন্যান্ট বলেন, এই যুদ্ধ রিপাবলিকান দলের জন্য নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তার মতে, বছরের শুরু থেকে হোয়াইট হাউস অর্থনীতি নিয়ে জনমত নিজেদের পক্ষে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন মানুষের মূল মনোযোগ চলে গেছে পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধের দিকে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের ৩৬ শতাংশ আগামী কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা বলেছেন ২০ শতাংশ। অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। শুরুতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তবে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ চলছে। এ কারণে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ট্রাম্প অতীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা হলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধে ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। 

জর্জিয়ার ফেয়ারবার্ন শহরের স্বতন্ত্র ভোটার রায়ান অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি মনে করেন, বিদেশে যুদ্ধের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।' নিরাপত্তা ও তথ্য সংগ্রহ–সংক্রান্ত দুটি চাকরি করা অ্যান্ডারসন জানান, ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি জো বাইডেনকে ভোট দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, "আমাদের মিত্র আছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশেও অনেক মানুষ আছেন, যাদের এখনই সাহায্য দরকার।"

রয়টার্স/ইপসোস মার্চের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিতভাবে মার্কিন নাগরিকদের কাছে জানতে চাইছে, তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন কি না। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এই সমর্থনের হার ছিল ৩৭ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর দিন তা ছিল ২৭ শতাংশ। সে সময় ২৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছিলেন, তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। সর্বশেষ জরিপটি অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত হয়। এতে ১ হাজার ২৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। জরিপটির ত্রুটির সীমা দুই দিকেই ৩ শতাংশ পয়েন্ট। 


 

হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

হেপাটাইটিস এখন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এ রোগে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যার বেশিরভাগই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ নতুন করে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এ দুই সংক্রমণের কারণে প্রাণ হারায়। 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ে জীবনযাপন করছেন। শুধু ২০২৪ সালেই এ অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার নতুন হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ সংক্রমণ এবং প্রায় ২ লাখ হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতিকেও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের একটি। সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সক্রিয় হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি, নিয়মিত রক্ত গ্রহণে নির্ভরশীল রোগী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

একই সঙ্গে হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণও দেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ডব্লিউএইচও জানায়, ২০২৪ সালে বিশ্বে হেপাটাইটিস ‘বি’-জনিত মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশ যে ১০টি দেশে ঘটেছে, বাংলাদেশ সেই তালিকায় রয়েছে।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউএইচওর মতে, কার্যকর টিকা, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও জনসচেতনতার অভাব, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ, সামাজিক অপবাদ এবং স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্যের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধে বহু বছর ধরে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা রয়েছে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস ‘সি’ আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ না থাকায় অধিকাংশ রোগী সংক্রমণের বিষয়টি জানতে পারেন না। ফলে লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রোগ শনাক্ত হয়, তখন চিকিৎসা হয়ে ওঠে আরো জটিল ও ব্যয়বহুল।

বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য এবং হেপাটাইটিস ‘সি’-এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়ায় অনেক মানুষ জীবনরক্ষাকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসার পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার আহ্বান জানান।

ডব্লিউএইচও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২০-২০৩০ সালের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা, নবজাতকের জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস ‘বি’ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটির কারিগরি সহায়তায় এসব কার্যক্রম ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এখনো নানা কাঠামোগত ও সামাজিক বাধা রয়ে গেছে। অনেক মানুষ হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতন নন, ফলে পরীক্ষা করান না। অনেক এলাকায় সহজলভ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নেই। সামাজিক অপবাদের কারণে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। পাশাপাশি দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতাও এখনো সীমিত।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চারটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে ডব্লিউএইচও। এগুলো হলো—জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস ‘বি’ টিকা নিশ্চিত করা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও ইনজেকশন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি; প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, এইচআইভি, যক্ষ্মা ও রক্ত সঞ্চালন কর্মসূচির সঙ্গে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা একীভূত করা; জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হেপাটাইটিস ‘সি’ চিকিৎসা সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ নিশ্চিত করা; এবং সংক্রমণ, চিকিৎসার ফলাফল, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় নজরদারি ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা।

সংস্থাটির মতে, রোগের প্রকৃত বোঝা নিরূপণ, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্ত, নীতিনির্ধারণ ও বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য শক্তিশালী তথ্যব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস মোকাবিলায় বাংলাদেশ দৃঢ় অঙ্গীকার দেখিয়েছে এবং নির্মূলের পথে আরো দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সরকারের এ প্রচেষ্টায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভবিষ্যতেও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো পরীক্ষা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, নবজাতকের জন্মের পরপরই টিকাদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে হেপাটাইটিস সেবা যুক্ত করার মতো পদক্ষেপ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিসকে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্যে বাংলাদেশও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের লিভার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদ আশরাফ সেতু বলেন, হেপাটাইটিস শুধু একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এটি একটি পরিবারের ওপর বড় অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি করে। দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ রোগীদেরই বহন করতে হয়। বিশেষ করে হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতার ব্যয় কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অথচ সময়মতো টিকাদান ও নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।