• ই-পেপার

আমিরাতে প্রবাসীদের ভিসা বাতিল নিয়ে যা জানাল দূতাবাস

ভিসা নিয়ে সুখবর দিল চীন

অনলাইন ডেস্ক
ভিসা নিয়ে সুখবর দিল চীন

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের জন্য ১৪০তম ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ারে (ক্যান্টন ফেয়ার) অংশগ্রহণের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার চীনা দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চীনের গুয়াংজুতে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ারের অনসাইট প্রদর্শনী। এতে অংশ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ ভিসা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যান্টন ফেয়ার ভিসার জন্য আবেদনকারীদের শুধু ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ারের অফিসিয়াল আমন্ত্রণপত্র জমা দিতে হবে। এটিই হবে ভিসা আবেদনের একমাত্র বাধ্যতামূলক নথি। তবে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে আবেদনকারীরা চাইলে অনলাইন আবেদনের সঙ্গে অতিরিক্ত সহায়ক নথি হিসেবে আগের ভিসা, ভ্রমণ রেকর্ড এবং কোম্পানির গ্যারান্টি লেটার জমা দিতে পারবেন।

চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসম্বলিত ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং তা সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হতে পারে। ভ্রমণ পরিকল্পনায় জটিলতা এড়াতে আবেদনকারীদের অনলাইন ফর্ম যথাযথভাবে, সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, ভুয়া বা পরিবর্তিত আমন্ত্রণপত্র, মিথ্যা তথ্য কিংবা জাল নথি জমা দিলে ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে পারে এবং ভবিষ্যতের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আবেদনকারীদের নিজেদের ভিসা ফর্ম নিজেরাই পূরণ করার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।

দূতাবাস জানায়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ভিসা সেবা দেওয়ার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ভিসার ধরন, মেয়াদ, অবস্থানের সময়সীমা ও প্রবেশের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট নিয়ম এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে দূতাবাস নির্ধারণ করবে।

এ ছাড়া ‘নিশ্চিত ভিসা’, ‘ভিসা না হলে টাকা লাগবে না’, ‘ভেতরের যোগাযোগ’ বা ‘বিশেষ চ্যানেল’-এর মতো প্রতারণামূলক দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। 

অভিযোগ বা মতামত জানাতে আবেদনকারীরা যোগাযোগ করতে পারবেন-

ই-মেইল
[email protected]
[email protected]

এ ছাড়া ঢাকায় চীনা ভিসা আবেদন সেবা কেন্দ্রের হটলাইন:
(0088-02) 226603261

(কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত)

রপ্তানি আয়ের ৬৬ কোটি ডলার নিয়ে রহস্য, তদন্তে চার সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক
রপ্তানি আয়ের ৬৬ কোটি ডলার নিয়ে রহস্য, তদন্তে চার সংস্থা

রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬৬ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা) দেশে এলেও সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, একই রপ্তানি লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকের সম্মতি ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে ফোর্সড লোন, যা পরে টার্ম লোনে রূপান্তর করা হয়েছে। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডকে ঘিরে এ অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আগামীর সময় এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় দুই দশকের রপ্তানি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কেয়া গ্রুপের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ৬৬ কোটি ডলার দেশে এলেও তা এফসি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংক। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের হিসাবে রয়েছে ৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, পূবালী ব্যাংকের ২০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৬৫ লাখ ডলার।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে এসব অর্থ রপ্তানি আয় হিসেবে রিয়ালাইজড দেখানো হলেও চার ব্যাংকই কেয়া কসমেটিকসকে প্রসিড রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) দিয়েছে। এরপর একই লেনদেনের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের নামে ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে তা ধাপে ধাপে দীর্ঘমেয়াদি টার্ম লোনে রূপান্তর করা হয়। কেয়া গ্রুপের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি দেখানো হয়েছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে গত বছর সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাউথইস্ট ব্যাংক অভিযোগ অস্বীকার করে বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অপেক্ষার কথা জানায়। পূবালী ব্যাংক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ন্যাশনাল ব্যাংক ‘নো কমেন্টস’ বলেছে। আর স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অভিযোগকে ‘মিস ইনফরমেশন’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান অভিযোগ করেন, একই রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ব্যাংক দ্বৈতভাবে অর্থ সমন্বয় করেছে। তার দাবি, একবার ফরেন ডকুমেন্টস বিলস পারচেজ (এফডিবিপি) বাবদ নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সমন্বয়ের পর আবার একই অর্থ এফসি অ্যাকাউন্ট থেকে ডেবিট করা হয়েছে। এতে বৈধভাবে দেশে আসা ডলার থেকেও প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হয়েছে এবং অযৌক্তিকভাবে ফোর্সড লোনের দায় চাপানো হয়েছে। একই ধরনের অনিয়ম চারটি ব্যাংকেই হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এফআরসি ডাবল ডেবিটিংয়ের তদন্তের নির্দেশ দিলেও সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা কার্যক্রমে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনবিষয়ক নির্দেশিকা অনুসরণ করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, রপ্তানি আয়ের পুরো অর্থ দেশে এসেছে কি না। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে অর্থ রিয়ালাইজড দেখানোর পরও কেন একই লেনদেনের বিপরীতে ফোর্সড লোন বহাল রয়েছে। তৃতীয়ত, পুরো প্রক্রিয়ায় মানি লন্ডারিং, ব্যাংক জালিয়াতি বা অন্য কোনো আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে কি না।

এ লক্ষ্যে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। পরে চলতি বছরের ২৪ জুন সাউথইস্ট ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগ থেকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেয়া কসমেটিকসের রপ্তানি আয়ের ডলার দেশে না এলে সেটি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার গুরুতর লঙ্ঘন। এ ঘটনায় যে পক্ষ দায়ী হোক, প্রচলিত ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করতে সময় চেয়ে দুদক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এফআরসি রপ্তানি আয়, ফোর্সড লোন, এফডিবিপি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, কম্পানির আর্থিক হিসাব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি তথ্য—এই ছয়টি বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজতে অনুসন্ধান চালায়।

নথি বিশ্লেষণে সংস্থাটি দেখতে পায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি মনিটরিং সিস্টেম, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ হিসাব এবং কম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। একই লেনদেনের ক্ষেত্রে তিন ধরনের হিসাব পাওয়া যাওয়ায় রপ্তানি আয়, এফসি অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ, ঋণ সমন্বয় এবং ফোর্সড লোন সৃষ্টির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এফআরসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে, চার ব্যাংকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সেই তথ্য বিশ্লেষণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে।

এফআরসির সিদ্ধান্তের আলোকে বিএসইসির নিয়োগ দেওয়া অডিট ফার্ম পিকেএফ আজিজ হালিম কবির চৌধুরী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস বিশেষ নিরীক্ষা চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি গোলাম ফজলুল কবির বলেন, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিষয়টি এখন পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন নয়; বরং রপ্তানি আয় ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং হিসাবরক্ষণ এবং আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপরই বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে।

দেশজুড়ে অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার

বাসস
দেশজুড়ে অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার
সংগৃহীত ছবি

সরকারের ঘোষিত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনআস্থা সুদৃঢ় করতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা দেশে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগের আওতায় কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, পেশাগত সংস্কার এবং একাধিক সংস্থার সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধ ও মাদক পাচার দমনে পুলিশ নিয়মিত টহল, রুটিন অভিযান এবং বিশেষ দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সারা দেশে অপরাধ দমনে আমরা সর্বাত্মক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক সাড়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত ও দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯০৮ জনকে এবং বিভিন্ন মামলায় ও নিয়মিত পুলিশি অভিযানে আটক করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে। দেশব্যাপী অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি দেশীয় বিস্ফোরক, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজারের বেশি দেশীয় ‘চকলেট বোমা’।

উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটার গান, ১৮টি রিভলভার, ১৫টি পাইপগান, ৪টি শটগান, ২টি রাইফেল, ২টি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১২টি এয়ারগান এবং একটি পেনগান।

একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক মাদকবিরোধী অভিযানও পরিচালনা করেছে। অভিযানে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশীয় মদ, ৫ হাজার ৩৩৬ প্যাকেট গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সময় মাদক-সংক্রান্ত ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকে দেশব্যাপী অপরাধবিরোধী কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।

কর্মকর্তারা জানান, সরকারের চলমান উদ্যোগে জোরদার পুলিশি তৎপরতা, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, পুলিশ বাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদকচক্র ভেঙে দেওয়া, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সিসিটিভি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এ নজরদারি ব্যবস্থা মহাসড়কে ডাকাতি, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি যান চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে সহায়তা করবে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ বাসসকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরো অংশ এখন সিসিটিভির আওতায় রয়েছে এবং ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআইচালিত ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরো অংশকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।'

তার মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ডাকাতি, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কঠোর ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দেশে শান্তি, জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।'

তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত ও ব্যাপক কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত অপরাধীদের পুনরায় অপরাধে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যা-সহ সব ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে।

তিনি বলেন, 'আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, ঢাকা শহরে নিরাপদ ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ধাপে ধাপে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।'

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে গত ১ মে থেকে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এ অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অংশ নিচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, এ অভিযানের মূল লক্ষ্য বড় মাদকচক্র ধ্বংস, আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং সমন্বিত আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূল করা।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির পুলিশ সদস্যদের অপরাধ দমনে কঠোর থাকার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে আচরণে ভদ্রতা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদও সাম্প্রতিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, 'অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা সামাজিক পরিচয় নেই। পুলিশকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত না করে জনগণের সেবা করতে হবে।'

কমিশনার অবৈধ অস্ত্রধারী, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদারের পাশাপাশি নিজ নিজ থানার এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেওয়া কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলমান অপরাধ দমন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গড়ে প্রায় ৪০০ জন অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করছে।

ঢামেকের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩ মাসে ২৭ মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
ঢামেকের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩ মাসে ২৭ মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান থেকে তিন মাসে মোট ২৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের সিংহভাগই ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষদের। তবে এর মধ্যে দুই-একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। পুলিশ সে বিষয়ে তদন্ত করছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ সোমবার (২৭ জুলাই) ঢামেক হাসপাতাল এলাকা থেকে থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। এমন ঘটনা কমাতে পুলিশ এবং হাসপাতালের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এসব ঘটনার নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাথে রেখেই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে পুলিশকে।

শুধু সোমবারের দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাই নয়। গেল মে মাসে হাসপাতালটির বিভিন্ন জায়গায় ১১টি মরদেহ পাওয়া যায়। জুন মাসে উদ্ধার হয়েছিল ৯টি এবং জুলাইতে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের যে সমস্ত জায়গা সাধারণত সাধারণ মানুষের নজরদারির বাইরে থাকে—যেমন নির্জন গলি, অন্ধকারাচ্ছন্ন কোণ, যেসব স্থানে মানুষের আনাগোনা কম, সেসব স্থান থেকেই এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

তিন মাসে ২৫টির বেশি অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়ার কথা জানিয়ে হাসপাতালের একজন কর্মী বলেন, যেসব মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে সেসব মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব স্থান থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেসব স্থান মানুষের নজরের বাইরেই থাকে। সেজন্য কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানা সহজ নয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ কমিশনার নিয়াজ মেহেদি জানান, সব মৃত্যুরই কারণ উদঘাটন করে নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে থাকে পুলিশ। অপমৃত্যু হলে পুলিশ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ জানান, হাসপাতালের যে বাহিনী আছে তাদের বা একটি বাহিনীকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু এটা একটি স্পর্শকাতর এলাকা, এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মরদেগুলো আসে।