প্রান্তিক খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, একজন খামারি শুধু নিজের পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নই করেন না, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই সরকার সবসময় খামারিবান্ধব নীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়ায় একে ইউনাইটেড হ্যাচারি অ্যান্ড ফিশারি এবং সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও টেকসই করে গড়ে তুলতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
পরিদর্শনের সময় তিনি খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উৎপাদন, মৎস্য বীজ সংরক্ষণ, পোনা উৎপাদন, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় তিনি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসম্মত মৎস্য বীজ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খামারিদের পাশে থেকে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো বেগবান হবে।
সম্প্রতি ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় পটিয়া উপজেলার অনেক মৎস্য চাষি ও খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরেজমিনে দেখতে আমি পরিদর্শনে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি ও খামারিদের দ্রুত সহায়তা এবং তারা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনকালে মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হক, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক, ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা, মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




