• ই-পেপার

বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল মেয়ের প্রাণ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদ এবং শহরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন চত্বরে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের দাবিতে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা ভাস্কর্যের স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এরপর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ভাস্কর্য চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের জেলা সমন্বয়ক সেহাল আহম্মেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা অজিজুর রহমান জালাল, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান এবং জেলা সিপিবির সভাপতি স্বপন বাগচি।

বক্তারা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত। তারা অবিলম্বে একই স্থানে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র মো. সাইদুল করিম মিন্টুর উদ্যোগে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ শেষ হয়নি। ২০১৬ সালে আংশিক কাজের পর ভাস্কর্যটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং কখনো উদ্বোধনও করা হয়নি।

এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেলে একদল লোক ভাস্কর্যটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে চলতি বছরের ১৫ জুলাই থেকে শ্রমিকরা পুনরায় ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে ১৯ জুলাই থেকে ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়।

হাঁস নিয়ে দ্বন্দ্বের মর্মান্তিক পরিণতি: নাতির আঘাতে নানির মৃত্যু

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
হাঁস নিয়ে দ্বন্দ্বের মর্মান্তিক পরিণতি: নাতির আঘাতে নানির মৃত্যু
ইয়ারুন নেসা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় হাঁস নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির লাথিতে আহত হয়ে ইয়ারুন নেসা (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রূপচান মাঝির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়ারুন নেসা ও তার নাতি মো. মেহেদী হাসানের পরিবারের পৃথক দুটি হাঁস ছিল। একপর্যায়ে নাতি তার হাঁস খুঁজে না পেয়ে দাদির হাঁসটিকে নিজের দাবি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তর্কের এক পর্যায়ে ইয়ারুন নেসা হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে নাতিকে আঘাত করেন। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদী হাসান নানিকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইয়ারুন নেসা পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের রূপচান মাঝির স্ত্রী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেদারপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকনুজ্জামান বলেন, দুটি পরিবারের হাঁস নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের বড় ছেলে সোহরাব মাঝি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার মায়ের এমন পরিণতি হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেপ্তার

খুলনা অফিস
খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওয়াজিদ ইসলাম রাকিব (৩২) নামের এক অস্ত্র মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নগরীর খালিশপুর থানার বৈকালী এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাকিব বৈকালী এলাকার জাকির শেখের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত প্রায় ১টার দিকে বৈকালী এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আহাদুজ্জামান জানান, রাকিব একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তবে দেড় থেকে দুই মাস আগে সেটি তার এক সহযোগী নিয়ে গেছে। ওই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রাকিবের বাবা জাকির শেখ মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ও তার ছেলে এলাকা ছেড়ে চলে যান।

একই বছরের ৩ অক্টোবর যৌথবাহিনী জাকির শেখকে আটক করে। পরে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আবারও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকির শেখ বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসলে নেমে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ভোলা প্রতিনিধি
বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসলে নেমে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মো. লাবিব মাহমুদ খান

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মো. লাবিব মাহমুদ খান (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত লাবিব চরফ্যাশন সরকারি  ট্যাফনাল ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও চরফ্যাশন আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিহাব মাহমুদের ছেলে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে চরফ্যাশন পৌর শহরের ডাকবাংলোর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিদ্যালয় মাঠে ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠে খেলা চালাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থী পাশের ডাকবাংলোর পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় লাবিবও তাদের সঙ্গে পানিতে নামে। 
একপর্যায়ে পুকুরের মধ্যে তাকে আর খুঁজে না পেয়ে সহপাঠীরা বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা বেগমকে জানায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস খবর দিলে তারা এসে পুকুর থেকে লাবিবকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চরফ্যাশন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিয়াজ হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই লাবিবের মৃত্যু হয়েছিল।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘লাবিব আমাদের নবম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে সে পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করা হয়। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন অকালমৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।