• ই-পেপার

হাসপাতালে ঢুকে আহত স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

মা হলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী, মেলেনি বাবার পরিচয়

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
মা হলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী, মেলেনি বাবার পরিচয়
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিনের কোলে নবজাতক। ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ফুলসূতী ইউনিয়নের ফুলসূতী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ফূলসূতি বাজার এলাকায় থাকতেন। সোমবার বিকেলে প্রসব বেদনায় আক্রান্ত কন্যাসন্তান জন্ম দেন তিনি। পরে স্থানীয়রা মা ও নবজাতককে দ্রুত উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বর্তমানে মা ও নবজাতক সুস্থ রয়েছে জানিয়েছেন নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আজাদ।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানী আজাদ। তারা মা ও নবজাতকের খোঁজ-খবর নেন।

এসময় নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন ওই নবজাতককে কোলে নিয়ে বলেন, ঘটনাটি প্রথমে আমি এক গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি। আমি তাকে বলেছিলাম, মা ও শিশুটিকে দ্রূত হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য। এখন অনেক খুশি লাগছে। কারণ আমরা একটা নতুন প্রাণ পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, মা ও শিশুর পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সার্বিক দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল মেয়ের প্রাণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল মেয়ের প্রাণ
স্বজনদের আহাজারি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দেড় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নিত্যানন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, ওই গ্রামের মিরাজ হোসেন দুপুরের পর ইজিবাইক চালিয়ে বাড়িতে রেখে খাবার খাচ্ছিল। সেসময় তার ১৬ মাস বয়সী মেয়ে তানহা অন্যদের সঙ্গে ওই ইজিবাইকের মধ্যে খেলা করছিল। অসাবধানতাবশত ইজিবাইকটির সুইচ অন করে চালু করলে শিশু তানহা ছিটকে নিচে পড়ে যায়। সেসময় ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানা ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদ এবং শহরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন চত্বরে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের দাবিতে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা ভাস্কর্যের স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এরপর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ভাস্কর্য চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের জেলা সমন্বয়ক সেহাল আহম্মেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা অজিজুর রহমান জালাল, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান এবং জেলা সিপিবির সভাপতি স্বপন বাগচি।

বক্তারা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত। তারা অবিলম্বে একই স্থানে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র মো. সাইদুল করিম মিন্টুর উদ্যোগে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ শেষ হয়নি। ২০১৬ সালে আংশিক কাজের পর ভাস্কর্যটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং কখনো উদ্বোধনও করা হয়নি।

এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেলে একদল লোক ভাস্কর্যটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে চলতি বছরের ১৫ জুলাই থেকে শ্রমিকরা পুনরায় ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে ১৯ জুলাই থেকে ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়।

হাঁস নিয়ে দ্বন্দ্বের মর্মান্তিক পরিণতি: নাতির আঘাতে নানির মৃত্যু

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
হাঁস নিয়ে দ্বন্দ্বের মর্মান্তিক পরিণতি: নাতির আঘাতে নানির মৃত্যু
ইয়ারুন নেসা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় হাঁস নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির লাথিতে আহত হয়ে ইয়ারুন নেসা (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রূপচান মাঝির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়ারুন নেসা ও তার নাতি মো. মেহেদী হাসানের পরিবারের পৃথক দুটি হাঁস ছিল। একপর্যায়ে নাতি তার হাঁস খুঁজে না পেয়ে দাদির হাঁসটিকে নিজের দাবি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তর্কের এক পর্যায়ে ইয়ারুন নেসা হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে নাতিকে আঘাত করেন। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদী হাসান নানিকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইয়ারুন নেসা পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের রূপচান মাঝির স্ত্রী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেদারপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকনুজ্জামান বলেন, দুটি পরিবারের হাঁস নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের বড় ছেলে সোহরাব মাঝি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার মায়ের এমন পরিণতি হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।