• ই-পেপার

মা হলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী, মেলেনি বাবার পরিচয়

ফরিদপুরে আরেক ভূমি কর্মকর্তার ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

‘কাজ হলো আপনার, টাকাও আপনার, আমার চেষ্টা’

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে আরেক ভূমি কর্মকর্তার ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে ভূমি অফিসে ঘুষের ভিডিও একের পর এক ছড়িয়ে পড়ছে। বোয়ালমারী উপজেলার এক ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার এক দিনের ব্যবধানে এবার নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলার ভূমি প্রশাসনে দুর্নীতি ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২২ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, সরোয়ার হোসেন তার ব্যক্তিগত কক্ষে বসে একজনের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। টাকা গুনে পকেটে রাখার পর নিজের চেয়ারে গিয়ে বসেন। এসময় ঘুষদাতাকে এক মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ভিডিওতে ঘুষদাতাকে বলতে শোনা যায়, “টাকাগুলো গুনা দেন।” জবাবে কর্মকর্তা বলেন, “কম দেওয়ার বিষয় না, কাজ হলো আপনার, টাকাও আপনার; আমার কি।” পরে তিনি আরও বলেন, “চেষ্টা করব আরও আগে করে দেওয়ার, কিন্তু টাইম এক মাস।”

ভিডিওটি নিয়ে কথা বলতে গেলে ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি সম্পাদনা (এডিট) করা হয়েছে। তবে কীভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, “সব মিথ্যা কথা। এ ধরনের কার্যক্রম আমার অফিসে হয় না।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ভিন্ন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্য বলেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি ব্যক্তিগত কাজে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সরকারি রসিদে ৬ হাজার ৬০০ টাকা লেখা হয়েছিল। পরে এক হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে রবিবার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তিনিও দাবি করেছিলেন, টাকা নেওয়ার ভিডিওটি ধার নেওয়া টাকা ফেরত দিতে এসেছিলেন তার এক আত্মীয়। তবে ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই জেলার দুই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় ভূমি অফিসের সেবাপদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামজারি, খারিজ, জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ভূমি অফিসে দালালচক্র ও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালে ঢুকে আহত স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
হাসপাতালে ঢুকে আহত স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
প্রতীকী ছবি

হাসপাতালেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হলো না গৃহবধূ মনিরা বেগমের। ভোরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে মারধরের পর হাসপাতালে ঢুকেও থামেননি স্বামী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্ত্রী মনিরা বেগমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনিরা খাতুন (২৬) উপজেলার উমার ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের মো. মাসুদ হোসেনের মেয়ে। গ্রেপ্তার ফরহাদ হোসেন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুনিরা খাতুন তার বোন মহসিনাকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসা নিতে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তারা হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণের মধ্যে মনিরার স্বামী ফরহাদ সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে মনিরার সঙ্গে ফরহাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফরহাদ মনিরাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মনিরাকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনিরার বোন মহসিনা বেগম বলেন, ‘আজ ভোরে আমার দুলাভাই ঢাকা থেকে আমাদের বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসেই দুলাভাই ও বোনের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। আমার বোনকে মারধরও করেন। সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসার জন্য আমি আমার বোনকে নিয়ে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। হাসপাতালে পৌঁছার কিছু সময় পরে আমার দুলাভাই হাসপাতালে চলে আসেন। হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে আমার বোনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে আমার বোনকে পেটে ও বুকে উপর্যুপরি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।’

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, মনিরা ও ফরহাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে কলহ চলছিল। তাদের সংসারজীবন খুব একটা ভালো ছিল না। মনিরা দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন। আর তার স্বামী ঢাকাতে রিকশা চালাতেন।

এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিন্টু রহমান বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেনকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলাকা থেকে আটক করা হয়। নিহত নারীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় ফরহাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল মেয়ের প্রাণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল মেয়ের প্রাণ
স্বজনদের আহাজারি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দেড় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নিত্যানন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, ওই গ্রামের মিরাজ হোসেন দুপুরের পর ইজিবাইক চালিয়ে বাড়িতে রেখে খাবার খাচ্ছিল। সেসময় তার ১৬ মাস বয়সী মেয়ে তানহা অন্যদের সঙ্গে ওই ইজিবাইকের মধ্যে খেলা করছিল। অসাবধানতাবশত ইজিবাইকটির সুইচ অন করে চালু করলে শিশু তানহা ছিটকে নিচে পড়ে যায়। সেসময় ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানা ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদ এবং শহরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন চত্বরে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের দাবিতে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা ভাস্কর্যের স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এরপর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ভাস্কর্য চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের জেলা সমন্বয়ক সেহাল আহম্মেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা অজিজুর রহমান জালাল, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান এবং জেলা সিপিবির সভাপতি স্বপন বাগচি।

বক্তারা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত। তারা অবিলম্বে একই স্থানে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র মো. সাইদুল করিম মিন্টুর উদ্যোগে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ শেষ হয়নি। ২০১৬ সালে আংশিক কাজের পর ভাস্কর্যটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং কখনো উদ্বোধনও করা হয়নি।

এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেলে একদল লোক ভাস্কর্যটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে চলতি বছরের ১৫ জুলাই থেকে শ্রমিকরা পুনরায় ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে ১৯ জুলাই থেকে ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়।