• ই-পেপার

টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৫

আহত সুজনের নবজাতকের পাশে প্রধানমন্ত্রী, পাঠালেন বিশেষ উপহার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
আহত সুজনের নবজাতকের পাশে প্রধানমন্ত্রী, পাঠালেন বিশেষ উপহার
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত প্রতিটি যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের পাশে দলকে থাকতে হবে। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সেই দায়িত্ব পালন করছি। কেরানীগঞ্জের আহত জুলাইযোদ্ধা মো. সুজনের সুচিকিৎসা ও তার পরিবারের পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের মদিনা নগর এলাকায় চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাইযোদ্ধা মো. সুজনের বাড়িতে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ বিরোধী জনতার বিজয়। সুজনের মতো সাহসী যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এই আত্মত্যাগের ঋণ জাতি কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেরানীগঞ্জ গণতন্ত্রের আন্দোলনের সূতিকাগার। এখানকার কোনো জুলাইযোদ্ধাকে আমরা ভুলে যাইনি, ভবিষ্যতেও ভুলব না। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে তাদের সম্মান জানাতে এবং পাশে দাঁড়াতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের পরিকল্পনায় আয়োজিত এ মানবিক সফরে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।

এসময় কেরানীগঞ্জ উপজেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, পাভেল মোল্লাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আহত জুলাইযোদ্ধা সুজনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। 

ভাড়া বাসায় ঝুলছিল ছুটিতে থাকা এএসআইয়ের মরদেহ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
ভাড়া বাসায় ঝুলছিল ছুটিতে থাকা এএসআইয়ের মরদেহ
এএসআই আবু হানিফ। সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবু হানিফের (৫০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৯টায় ফতুল্লার ইসদাইর মন্দিরের পাশে কামাল হাজীর ষষ্ঠ তলা বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অসুস্থতার কারণে হানিফ ৫ দিনের ছুটিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।

আবু হানিফ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানার ইছাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনসে এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, আবু হানিফ বাগপ্রতিবন্ধি স্ত্রী নিয়ে ইসদাইরে একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। অসুস্থতার কারণে তিনি ৫ দিনের ছুটিতে ছিলেন। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসলে জানা যাবে। মরদেহ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

টাঙ্গাইলে গ্যাস পাইপলাইনে ফাটল, ৬ সিএনজি স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে গ্যাস পাইপলাইনে ফাটল, ৬ সিএনজি স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ চলাকালে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এলাকায় গ্যাস সঞ্চালন লাইনের মূল পাইপলাইনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলেঙ্গা-টাঙ্গাইল-চন্দ্রা রুটের ছয়টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণকাজের পাইলিং করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার লেন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য ভারী যন্ত্র দিয়ে গভীর পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির নিচে থাকা গ্যাস সঞ্চালন লাইনের অবস্থান সঠিকভাবে চিহ্নিত না হওয়ায় পাইলিং যন্ত্রের আঘাতে মূল পাইপলাইনে ফাটল সৃষ্টি হয়।

ফাটলের পর উচ্চচাপের গ্যাস দ্রুত বের হতে শুরু করলে বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্যাসের তীব্র শব্দ ও গন্ধে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) হারুন অর রশিদ বলেন, আন্ডারপাসের পাইলিংয়ের সময় গ্যাসের মূল পাইপলাইন ফেটে যায়। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্যাস কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতের কাজ চলছে।

ঘটনার পর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তিতাস গ্যাসের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতে সারারাত লেগে যেতে পারে। এ কারণে এলেঙ্গা-টাঙ্গাইল-চন্দ্রা রুটের ছয়টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অন্য সব গ্যাস সংযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস সংযোগ দ্রুত সচল করতে মেরামতের কাজ চলছে।

প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল মতিন বাদি হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।  

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন এ ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বাতিসা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল মতিনের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে আমিনুল হক তুহিনের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে আমিনুল হক তুহিনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল আব্দুল মতিনের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা আব্দুল মতিনের ভাই আব্দুল মমিন সুজনের তিনটি ঘরের টিনের চাল, বেড়া ও সিমেন্টের খুঁটি ভেঙে ফেলে এবং ঘরে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এসময় আব্দুল মতিন, আব্দুল মজিদ সুজন ও আব্দুল মমিন সুজন তাদের বাধা দিলে তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়াও তাদের পরিবারের নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানি করা হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল মতিন বাদী হয়ে গত ২৭ জুলাই চৌদ্দগ্রাম থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা পাশের আরো দুটি ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এতে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

প্রবাসী আব্দুল মতিন বলেন, থানায় মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।