• ই-পেপার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্ক্র্যাপবোঝাই লরিতে আগুন

পুঠিয়ার রাজবাড়ি ও বানেশ্বর আমবাজার পরিদর্শন করলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
পুঠিয়ার রাজবাড়ি ও বানেশ্বর আমবাজার পরিদর্শন করলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ি এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি আমের বাজার বানেশ্বর আম বাজার পরিদর্শন করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পুঠিয়া রাজবাড়িতে পৌঁছান রাষ্ট্রদূত। এ সময় পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

পরে পুঠিয়া রাজবাড়ি জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপত্যশৈলী ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় রাজবাড়ির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন রাষ্ট্রদূত।

রাজবাড়ি পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাষ্ট্রদূত বানেশ্বর আমবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সেখানে পৌঁছে তিনি বাজারের বিভিন্ন আড়ত ও দোকান পরিদর্শন করেন এবং আমের বিপণন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আমের বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রাষ্ট্রদূত তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের এ সফর পুঠিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং রাজশাহী অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরো পরিচিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত মরদেহ মিলল ঘরে

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত মরদেহ মিলল ঘরে
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রবাসে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একাকী ঘরে আবদুর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক চার দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে নিজ ঘরেই তার মৃত্যু হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া নগরপাড়া এলাকার নিজ ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আবদুর রহমান ওই এলাকার মৃত কালা মিয়া সওদাগরের ছেলে।

পুলিশ জানায়, আবদুর রহমানের স্ত্রী ও তিন ছেলে দুবাইতে বসবাস করেন। গত জানুয়ারি মাসে মেজ ছেলের বিয়ে উপলক্ষে পরিবারটির সব সদস্য দেশে এসেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সবাই দুবাই ফিরে গেলেও মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে নিজ বাপের বাড়িতে ছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে দুবাই থেকে ছেলেরা ফোনে বাবাকে না পেয়ে বিষয়টি দোহাজারীতে থাকা তাদের ভাইয়ের স্ত্রীকে জানান।

সোমবার বিকেলে ওই গৃহবধূ শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখেন দরজার হুক ভেজানো অবস্থায় রয়েছে। ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর আবদুর রহমানের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে তিনি স্থানীয়দের ও পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রাইহান জানান, আবদুর রহমানের স্ত্রী সম্প্রতি দুবাইতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে সেখানকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তিনি নিজেও একসময় পরিবারের সঙ্গে প্রবাসে ছিলেন। 
প্রতিবেশীরা জানান, গত শুক্রবার তাকে শেষবারের মতো এলাকায় দেখা গিয়েছিল। সামাজিকভাবে কিছুটা একা থাকার কারণে তার অনুপস্থিতি কারো নজরে আসেনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দনাইশ থানা পুলিশের অনুমতি নিয়ে গাউসিয়া কমিটির মানবিক টিম লাশটি উদ্ধার কাজে সহায়তা করে।

চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও গাউসিয়া কমিটির উপজেলা মানবিক টিমের প্রধান মাওলানা সোলাইমান ফারুকী বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং পুলিশের সহায়তায় এশার নামাজের আগেই খাটের ওপর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।’

চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) মো. লিটন মিয়া জানান, খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গাউসিয়া কমিটির সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘পারিবারিক সূত্রমতে গত বৃহস্পতিবার ছেলেদের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাতের কোনো একসময় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল মাদরাসাছাত্রের

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল মাদরাসাছাত্রের
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে মো. ইমন (১০) নামের এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনামিয়া স্টেডিয়াম সংলগ্ন পারটেক্স পেপার মিলের সামনে শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমন ঢাকার ডেমরা থানার বড় ভাঙ্গা (সারুলিয়া) এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা মিলন মিয়া ও মমতাজ বেগমের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বাবা মিলন মিয়ার সঙ্গে সোনামিয়া স্টেডিয়াম এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতে আসে ইমন। একপর্যায়ে কয়েকজন সমবয়সী শিশুর সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামে সে। গোসলের সময় হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায় ইমন।

বিষয়টি সঙ্গে থাকা শিশুরা তার বাবাকে জানালে স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন লিডার হারুনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নদীতে গোসল বা পানিতে নামার সময় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে চাকরি পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের অভি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল সিটি করপোরেশনে চাকরি পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের অভি
ছবি : কালের কণ্ঠ

বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের একজন নাগরিক চাকরি পেয়েছেন। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে মাইদুল ইসলাম অভিকে নিয়োগ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

মাইদুল ইসলাম অভি বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দপ্তরে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘এটি বরিশাল সিটি করপোরেশনে তৃতীয় লিঙ্গের কোনো নাগরিকের প্রথম কর্মসংস্থানের সুযোগ। অভি তার স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী প্রশাসক মহোদয়ের দপ্তরে কাজ করবেন।’

নিয়োগ প্রসঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ নিয়োগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সমাজের মূলধারায় সব নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিসিসির এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে সম্ভাবনার নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।