• ই-পেপার

যেসব ভিডিও আপলোড দিলেই নিষিদ্ধ হবে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট

এক টেবিল, এক কাপ কফি, আর আপনি

কেন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সোলো ডাইনিং?

জীবনযাপন ডেস্ক
এক টেবিল, এক কাপ কফি, আর আপনি
ছবি : এআই জেনারেটেড

বিকেল বেলা। শহরের একটি ব্যস্ত ক্যাফে। এক কোণে জানালার পাশে বসে আছেন এক তরুণী। সামনে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ, পাশে একটি বই। তিনি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন না, ফোনেও ব্যস্ত নন। নিজের সঙ্গে কাটাচ্ছেন কিছু নির্ভার সময়।

কয়েক বছর আগেও এমন দৃশ্য অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতো। রেস্তোরাঁয় একা বসে খাওয়া মানেই হয়তো একাকিত্ব, মন খারাপ বা সঙ্গীর অভাব—এমন ধারণাই ছিল প্রচলিত। কিন্তু সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন একা রেস্তোরাঁয় খাওয়া বা ক্যাফেতে বসে সময় কাটানো শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং আত্মযত্ন, স্বাধীনতা এবং মানসিক সুস্থতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

একা মানেই একাকী নয়

আমাদের সমাজে বাইরে খেতে যাওয়াকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আয়োজন হিসেবে দেখা হয়েছে। পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনকে নিয়েই যেন রেস্তোরাঁয় যাওয়ার নিয়ম। তাই একা একটি টেবিলে বসে খাবার অর্ডার করতে গেলে অনেকেই অস্বস্তি অনুভব করেন।

এই অস্বস্তির বড় কারণ অন্যের দৃষ্টি নিয়ে ভয়। মনে হয়, আশপাশের সবাই হয়তো তাকিয়ে আছে। কেউ ভাবছে, ‘একা কেন?’

মনোবিজ্ঞানে এই অনুভূতিকে বলা হয় ‘স্পটলাইট ইফেক্ট’। অর্থাৎ আমরা মনে করি অন্যরা আমাদের দিকে যতটা নজর দিচ্ছে, বাস্তবে তারা ততটা দেয় না। বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের সঙ্গী, নিজের খাবার কিংবা নিজের গল্প নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

নিজের সঙ্গে একটি ছোট্ট ডেট

একা রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—সেখানে কাউকে খুশি করার দায় নেই।

কখন যাবেন, কোথায় বসবেন, কী খাবেন কিংবা কতক্ষণ থাকবেন—সব সিদ্ধান্তই আপনার। এই স্বাধীনতা অনেকের কাছে মানসিক স্বস্তিরও উৎস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একা সময় কাটানো নিজের চিন্তাগুলো গুছিয়ে নেওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানসিক ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। অনেকেই এটিকে এখন 'সেলফ-কেয়ার ডেট' বলেও অভিহিত করছেন।

খাবারের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক

বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে অনেক সময় খাবারের স্বাদই ঠিকমতো বোঝা যায় না। কিন্তু একা খেলে প্রতিটি চুমুক, প্রতিটি সুবাস, প্রতিটি স্বাদ অনুভব করার সুযোগ থাকে।

বিশেষজ্ঞরা একে বলেন মাইন্ডফুল ইটিং। অর্থাৎ শুধু খাওয়া নয়, খাবারের পুরো অভিজ্ঞতাকে সচেতনভাবে উপভোগ করা। এতে হজম ভালো হয়, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং নিজের শরীরের চাহিদা বোঝা সহজ হয়।

ফোনের স্ক্রিন নয়, নিজের দিকে তাকান

একা বসলে অনেকেই অস্বস্তি ঢাকতে ফোন হাতে তুলে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে করতে কখন যে খাবার শেষ হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত কিছু সময় ফোন দূরে রাখুন। জানালার বাইরে তাকান, চারপাশের পরিবেশ অনুভব করুন কিংবা নিজের ভেতরের কথাগুলো শুনুন। কখনো কখনো এই নীরব মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে মূল্যবান হয়ে ওঠে।

প্রথমবার একা রেস্তোরাঁয় গেলে...

যদি আগে কখনো একা রেস্তোরাঁয় না গিয়ে থাকেন, তাহলে শুরু করুন ছোট্ট পদক্ষেপে।

খুব ব্যস্ত সময়ের বদলে দুপুর বা বিকেলের শান্ত সময় বেছে নিন। পরিচিত কোনো ক্যাফেতে এক কাপ কফি কিংবা হালকা নাস্তা দিয়ে শুরু করতে পারেন। সঙ্গে একটি বই, ডায়েরি বা হেডফোন রাখতে পারেন। কয়েকবার গেলে অস্বস্তি নিজেই কমে যাবে।

বদলে যাচ্ছে শহরের জীবনধারা

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোর ক্যাফেগুলোতে এখন প্রায়ই দেখা যায়—কেউ ল্যাপটপে কাজ করছেন, কেউ বই পড়ছেন, কেউ শুধু কফিতে চুমুক দিতে দিতে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছেন।

এসব জায়গা এখন শুধু খাওয়ার নয়; নিজের সঙ্গে সময় কাটানোরও একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক স্থান হয়ে উঠছে।

স্টাইলও হতে পারে সহজ

সোলো ক্যাফে ডেট মানেই জমকালো পোশাক নয়। আরামদায়ক ডেনিম, কটন শার্ট, কুর্তি কিংবা ওভারসাইজড শার্টের সঙ্গে একটি বই বা নোটবুক—এতেই তৈরি হতে পারে একটি স্বস্তিদায়ক বিকেল। লক্ষ্য অন্যকে প্রভাবিত করা নয়, বরং নিজের সঙ্গ উপভোগ করা।

ছোট্ট একটি চেকলিস্ট

একা ক্যাফেতে গেলে সঙ্গে রাখতে পারেন—

একটি প্রিয় বই
ছোট নোটবুক ও কলম
হেডফোন
ল্যাপটপ (প্রয়োজনে)
ইতিবাচক মনোভাব
 

সব সময় অন্য কারও জন্য অপেক্ষা করতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। কখনো কখনো নিজের জন্যও একটি টেবিল বুক করা যায়।

এক কাপ কফি, প্রিয় একটি খাবার, জানালার পাশের একটি চেয়ার আর কিছু নিরিবিলি সময়—এতটুকুই যথেষ্ট নিজের সঙ্গে আবার নতুন করে পরিচিত হওয়ার জন্য।

হয়তো পরেরবার রেস্তোরাঁয় ঢুকে যখন দেখবেন, একটি টেবিলে কেউ একা বসে শান্তভাবে কফি খাচ্ছেন, তখন আর তাকে একা মনে হবে না। মনে হবে, তিনি জানেন—নিজের সঙ্গও উপভোগ করা যায়।

অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা নির্ঘুম রাত, হতে পারে মস্তিষ্কের জটিল রোগের সংকেত

অনলাইন ডেস্ক
অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা নির্ঘুম রাত, হতে পারে মস্তিষ্কের জটিল রোগের সংকেত
সংগৃহীত ছবি

অনেক সময় নিজের শরীরে রোগের সংকেত বুঝতে পারি না। মানসিক চাপ ভেবে অনেক বিষয় এড়িয়ে যাই। বিশেষ করে যখন হাত-পা অবশ লাগে, হঠাৎ ঘুম কমে যায় কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে আমরা সেটা মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যাই। আসলে সবসময় কিন্তু বিষয়টা এমন হয় না। চিকিৎসকদের মতে এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে তা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) নামের জটিল স্নায়ুরোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায় নিউরোলজিস্ট ডা. প্রবীণ গুপ্ত জানিয়েছেন, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই রোগ তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ে। তবে প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সমস্যার মতো হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়।

ডা. প্রবীণ গুপ্ত জানান, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএস এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত স্নায়ুর ওপর থাকা সুরক্ষামূলক আবরণে আক্রমণ করে। এতে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে সমস্যা তৈরি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি ধীরে ধীরে শারীরিক অক্ষমতার কারণও হতে পারে।

চিকিৎসকের মতে, অনেক নারী প্রথমে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীর ব্যথা বা ঝিনঝিন অনুভূতির মতো সমস্যা নিয়ে সাধারণ চিকিৎসক বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। তখন এসব উপসর্গকে অনেক সময় স্ট্রেস, ভিটামিনের ঘাটতি, ঘাড়ের সমস্যা বা উদ্বেগজনিত সমস্যা বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ কিছুদিন পর কমে যায়, আবার ফিরে আসে। ফলে রোগীরা নিউরোলজিস্টের কাছে যেতে দেরি করেন। পরিবার ও কর্মজীবনের ব্যস্ততায় অনেক নারী নিজের শারীরিক সমস্যাকেও গুরুত্ব দেন না, যা রোগ শনাক্তে আরো বিলম্ব ঘটায়।

  • যে ৭ লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়

ডা. প্রবীণ গুপ্তের মতে, নিচের উপসর্গগুলো বারবার দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

  • এক চোখে ঝাপসা দেখা
  • শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া
  • হাত বা পায়ে দুর্বলতা
  • হাঁটতে অসুবিধা 
  • ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
  • কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসা সহজ

বিশেষজ্ঞের মতে, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করা, পুনরায় সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে শুধু স্ট্রেস বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

‘নীরব ঘাতক’ হেপাটাইটিস : সুস্থ জীবনের শুরু সচেতনতা থেকে

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। একটু সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা আর টিকাই বাঁচাতে পারে হাজারো জীবন।

জীবনযাপন ডেস্ক
‘নীরব ঘাতক’ হেপাটাইটিস : সুস্থ জীবনের শুরু সচেতনতা থেকে
ছবি:এআই জেনারেটেড

একজন মানুষ প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছেন। কোনো বড় অসুস্থতাও নেই। কিন্তু অজান্তেই তার লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যখন রোগ ধরা পড়ে, তখন অনেক সময় তা লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। এ কারণেই ভাইরাল হেপাটাইটিসকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’।

আজ (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস : আসুন, বাধা ভেঙে এগিয়ে যাই’ (‘হেপাটাইটিস : লেটস ব্রেক ইট ডাউন’)।

লক্ষ্য একটাই—ভয়, কুসংস্কার, বৈষম্য ও চিকিৎসার পথে থাকা সব বাধা দূর করে সবাইকে পরীক্ষা, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার আওতায় আনা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জানেন না যে তাদের শরীরে এই ভাইরাস রয়েছে। ফলে কোনো লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর লিভারের ক্ষতি হতে থাকে।

হেপাটাইটিস কী?

হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহ। এটি মূলত পাঁচ ধরনের ভাইরাস—এ, বি, সি, ডি ও ই-এর কারণে হয়।

এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসা না হলে এগুলো লিভার সিরোসিস, লিভার বিকল হওয়া এবং লিভার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

কিভাবে ছড়ায়?

হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায় সংক্রমিত রক্ত, দূষিত সিরিঞ্জ, অপরিষ্কার চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং শরীরের কিছু তরলের মাধ্যমে।

অন্যদিকে হেপাটাইটিস এ ও ই ছড়ায় দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে।

তবে করমর্দন, একসঙ্গে খাওয়া, কোলাকুলি বা একই বাসায় থাকার মাধ্যমে হেপাটাইটিস ছড়ায় না।

যেভাবে কমানো যায় ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাসই লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নেওয়া।
প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে সংক্রমণ আছে কি না জানা।
সবসময় নতুন বা জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ, সুই ও ব্লেড ব্যবহার করা।
রেজার, টুথব্রাশ বা নেইল কাটারের মতো ব্যক্তিগত জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করা।
নিরাপদ রক্ত গ্রহণ ও নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
বিশুদ্ধ খাবার ও পানি ব্যবহার করা।
মা ও নবজাতকের জন্য বিশেষ সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে নবজাতকের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা করানো এবং শিশুর জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অতিরিক্ত ওষুধও দিতে হয়।

চিকিৎসা এখন অনেকটাই সম্ভব

হেপাটাইটিস সি-এর জন্য বর্তমানে এমন ওষুধ রয়েছে, যা অধিকাংশ রোগীকেই সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে পারে। হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি যত দ্রুত শনাক্ত হবে, চিকিৎসার ফল তত ভালো হবে।

লক্ষ্য ২০৩০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিসকে জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা, টিকাদান, নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সচেতন জীবনযাপন নিশ্চিত করা গেলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

কারণ হেপাটাইটিস নীরবে আঘাত হানে, কিন্তু সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে সেই নীরব ঘাতককে থামিয়ে দিতে।

কেন বদলে যাচ্ছে তরুণীদের বিয়ে নিয়ে ভাবনা?

জীবনযাপন ডেস্ক
কেন বদলে যাচ্ছে তরুণীদের বিয়ে নিয়ে ভাবনা?
ছবি : এআই জেনারেটেড

একসময় পড়াশোনা শেষ, চাকরি, বিয়ে ও সন্তান—এটাই ছিল জীবনের স্বাভাবিক ধারা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন অনেক তরুণী বিয়ে দেরিতে করছেন, আবার কেউ কেউ বিয়ে না করার সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন। সম্প্রতি সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া জাতিসংঘ (ইউএন), পিউ রিসার্চ, সার্ভেমাংকি এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের গবেষণাতেও একই প্রবণতার কথা বলা হয়েছে।

ক্যারিয়ার ও আর্থিক স্বাধীনতাই এখন অগ্রাধিকার

বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণী আগে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চান। উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভালো চাকরি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়াকেই তারা বেশি গুরুত্ব দেন। অনেকের মতে, আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে বিয়ে করলে নিজের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তারা জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন।

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হারানোর ভয়

জেন-জি প্রজন্ম নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মতামত ও জীবনযাপনকে অনেক গুরুত্ব দেয়। অনেক তরুণীর ধারণা, বিয়ের পর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। সংসার ও পারিবারিক দায়িত্ব বেড়ে গেলে নিজের স্বপ্ন, শখ এবং ক্যারিয়ারে আগের মতো সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই তারা আগে নিজের জীবন গুছিয়ে নিতে চান।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় কারণ

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ তরুণ-তরুণী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আবাসন সংকট এবং উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে জড়ানোর বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। বিয়ের খরচ, সংসার চালানোর দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ অনেককে বিয়ে পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে।

সফল জীবনের সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে

সিএনবিসি ও সার্ভেমাংকির যৌথ জরিপে দেখা গেছে, জেন-জি প্রজন্মের মাত্র ৩৭ শতাংশ মনে করেন, সফল জীবনের জন্য বিয়ে অপরিহার্য। তাদের কাছে আর্থিক স্থিতিশীলতা, নিজের বাড়ি, ক্যারিয়ারে সাফল্য এবং মানসিক শান্তি এখন বিয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কে আস্থা কমে যাচ্ছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপের বিস্তারের কারণে সম্পর্কের ধরন বদলেছে। সম্পর্ক গড়া যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রতারণা ও বিচ্ছেদের ঘটনাও। চারপাশে অসুখী দাম্পত্যের উদাহরণ দেখে অনেক তরুণীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে জড়ানোর ভয় তৈরি হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানীরা একে 'কমিটমেন্ট ফোবিয়া' বলে উল্লেখ করেছেন।

যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন

অনেক তরুণীর মতে, নিজের মানসিকতা, মূল্যবোধ ও জীবনধারার সঙ্গে মিল রয়েছে—এমন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু বিয়ে করার জন্য আপস করতে তারা রাজি নন। তাই উপযুক্ত মানুষ না পাওয়া পর্যন্ত অনেকেই একা থাকাকেই স্বাচ্ছন্দ্য মনে করছেন।

মায়েদের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক তরুণী তাদের মায়েদের বৈবাহিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন। বিয়ের পর একতরফা সংসারের দায়িত্ব, মতপ্রকাশে বাধা, ক্যারিয়ার ছেড়ে দেওয়ার চাপ এবং পারিবারিক প্রত্যাশার পুনরাবৃত্তি তারা নিজেদের জীবনে চান না। তাই তারা আগে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চান।

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা

বিশ্বের অন্যতম কম জন্মহার দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটির অনেক তরুণী মনে করেন, বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার কারণে তাদের কষ্ট করে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বজনিত বৈষম্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং সন্তান লালন-পালনের বড় দায়িত্ব নারীদের ওপরই পড়ে। এসব কারণে দেশটিতে অনেক তরুণী বিয়ে ও সন্তান—দুটিই এড়িয়ে চলছেন। সেখানে এই প্রবণতাকে 'সাম্পো প্রজন্ম' নামে ডাকা হয়। এর অর্থ—সম্পর্ক, বিয়ে এবং সন্তান—এই তিনটি বিষয় থেকে দূরে থাকা।

সবাই কি বিয়ে করতে চান না?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্ম বিয়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং তারা আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক পরে বিয়ে করতে চান। শিক্ষা শেষ করা, ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পরই তারা সংসার শুরু করতে আগ্রহী। অর্থাৎ, বিয়েকে তারা জীবনের শুরু নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরিণত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণীদের বিয়ে নিয়ে এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। এটি বদলে যাওয়া অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক মূল্যবোধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।