• ই-পেপার

আবু সাঈদকে ছাড়াই বেরোবির ক্লাস শুরু, কাঁদছেন শিক্ষার্থীরা

রাবিতে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়রের হাতাহাতি

রাবি প্রতিনিধি
রাবিতে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়রের হাতাহাতি
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগে অন্তঃবিভাগ ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠে বিভাগের প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভাগের অভ্যন্তরীণ ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘অ্যাগ্রোনমি প্রিমিয়ার লীগ’-এর একটি ম্যাচে প্রথম বর্ষের দল ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। খেলার শেষ দিকে দ্বিতীয় বর্ষের এক খেলোয়াড়ের ফাউলের পর রেফারির একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে মাঠে উপস্থিত শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম সায়েদ বলেন, ‘ম্যাচের শেষ দিকে রেফারির একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে কিছু শিক্ষার্থীর উত্তেজিত আচরণের কারণে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরপর বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। এ জন্য তারা কিছুটা সময় চেয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিভাগীয় উদ্যোগে সমাধান না হলে প্রক্টরিয়াল বডি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

নির্দেশনা না মেনে বৃত্তির ফল প্রকাশ, জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্দেশনা না মেনে বৃত্তির ফল প্রকাশ, জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল নিরাপত্তা প্রটোকল না মেনে আংশিক প্রকাশ করায় এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সচিব ফেরদৌসী। 

অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেইন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার (৯ম গ্রেড) মো. মেহতাব কায়েস।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল গত ৪ জুলাই ২০২৬ প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুতকৃত ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির জন্য মো. মেহতাব কায়েস, সহকারী মেইনটেইন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশের পূর্বে তা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য তাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু ৯ জুলাই ২০২৬ সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকসমূহে আপলোড করা হয়।

নিরাপত্তা প্রটোকল না মেনে আংশিক ফলাফল প্রকাশের অভিযোগ তুলে চিঠিতে আরো বলা হয়, লিংকসমূহ থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীগণ ফলাফল ডাউনলোড করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে। এ বিষয়ে পরিচালক (আইএমডি) কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি এবং আপলোড করার ক্ষেত্রে যে ধরণের নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলা উচিত ছিল তা অনুসরণ করা হয়নি।

অভিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহতাব কায়েস প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা হওয়ায় তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি প্রমা, সম্পাদক সেমন্তী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি প্রমা, সম্পাদক সেমন্তী
প্রমা রাহা ও সেমন্তী রোদসী। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের ২০২৬-২৭ কার্যকরী পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে ‘জলসিঁড়ি’র প্রমা রাহা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ‘সুস্বর’-এর সেমন্তী রোদসী নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার রাতে জোটের কার্যালয়ে জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে ১০ সদস্যের নতুন কার্যকরী পর্ষদ গঠন করা হয়।

নবনির্বাচিত কমিটির সহসভাপতি হয়েছেন জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদের সানজিদা আফরিন ও জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের কনক কুমার পোদ্দার। সহ-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনের দুর্বার আদি।

এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন চারণের তানজিল আহাম্মেদ, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীরনগর ডিবেটিং সোসাইটির সানজিদা নূর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ধ্বনির মো. আঙ্গুর মিয়া। কার্যকরী সদস্য হয়েছেন আরফির চ চ মং রাখাইন এবং জাহাঙ্গীরনগর সিনে সোসাইটির সাকিবা ইফরানা।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সেমন্তী রোদসী বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন থেকে প্রাঙ্গণের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিপীড়নবিরোধী চেতনাকে ধারণ করে যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে, তার সমন্বিত রূপ জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও জোট শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। নতুন নেতৃত্ব হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা আরো গতিশীল করার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে নানা সংকট মোকাবেলায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিল্পী, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক জোট। ১৯৯৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই জোটে বর্তমানে নয়টি সদস্য সংগঠন ও দুটি পর্যবেক্ষণাধীন সংগঠন রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য

চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে হবে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

দেশব্যাপী শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে মডেল টিচিং পদ্ধতি তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে পাঠদান যুগোপযোগী ও আনন্দময় করতে হলে বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক, চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমরা পিছিয়ে যাব। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা খাতে অন্যতম প্রধান স্টেকহোল্ডার হওয়ায় আমাদেরকেই এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’ 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সিনেট হলে ‘ডেভেলপমেন্ট অব আউটকাম-বেইসড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলাম’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক ও কর্মনির্ভর কারিকুলামের কথা উল্লেখ করে প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা অপরিহার্য। আউটকাম বেজড এডুকেশন বা ওবিই কারিকুলাম প্রবর্তনের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা ও সৃজনশীলতা অর্জনে সহায়তা করতে সক্ষম হবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষাক্রম তৈরি করা যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষকদের ভূমিকা হবে মুখ্য। তাঁদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি (আইকিউএসি)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)-এর প্রফেসর ড. এস এম হাফিজুর রহমান। কর্মশালায় বক্তা ও অতিথিবৃন্দ আধুনিক ও যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আউটকাম-বেসড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলাম প্রণয়ন ও এর কার্যকারিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

আবু সাঈদকে ছাড়াই বেরোবির ক্লাস শুরু, কাঁদছেন শিক্ষার্থীরা | কালের কণ্ঠ