• ই-পেপার

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ১০ গ্রাম প্লাবিত

সম্পত্তির জন্য মাকে বাড়ি থেকে বের করা সেই ইঞ্জিনিয়ার ছেলে কারাগারে

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
সম্পত্তির জন্য মাকে বাড়ি থেকে বের করা সেই ইঞ্জিনিয়ার ছেলে কারাগারে

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সম্পত্তির জন্যে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া ও ভরণপোষণ না করার অভিযোগের মামলায় প্রকৌশলী ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সরিষাবাড়ী থানার ওসি ইকবাল হোসেন।

এর আগে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া এলাকায় রাশেদা বেগম নামের এক নারীকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাশেদা বেগম কুরআন শরীফ হাতে কান্নাজড়িত অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদারের স্ত্রী রাশেদা বেগম। গত ১০ বছর আগে স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর আগেই সম্পত্তি ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে প্রাপ্ত হারে বণ্টন করা হয়। এরপর বৃদ্ধা রাশেদা বেগম স্বামীর বসতবাড়িতে বসবাস করে আসলেও তার কোনো ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব পালন করে না ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির। উল্টো তার নামে ৩ বিঘা জমি ছেলের নামে লিখে দিতে চাপপ্রয়োগ করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও মায়ের ভরণপোষণ দিতে নারাজ ছেলে। ফের মায়ের কেনা জমি ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির তার নামে লিখে দিতে মাকে চাপপ্রয়োগ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ছেলে রাশেদুল বাড়িতে তালা দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। রাশেদা বেগম প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাড়ি উঠলে খবর পেয়ে ছেলে ফের মা রাশেদা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনায় রাশেদা বেগম বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির ও ছেলের স্ত্রী ফাতেমাতুজ্জ্বহুরা ওরফে স্মৃতি বেগমকে আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা করেন। রাতেই পুলিশ তাদের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া ও ভরণপোষণ না করায় রাশেদা বেগম নামের এক নারী ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর উত্তরা থেকে রাশেদুল ইসলাম জাকিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারে টানা ৬ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার রামু, চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৪ লাখেরও বেশি মানুষ। বর্ষণজনিত পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কয়েকটি অংশ ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানিও বাড়ছে। সর্বশেষ চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধসে ২০ জন এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ও ডুবে ৪ জনসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ ওয়াকিম (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে তৌসিফ (১৪) ও রুমি আক্তার (১৭) নামের চাচাতো ভাই-বোন নিহত হন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে বিভিন্ন এলাকায় উপচে পড়েছে। রামু উপজেলার গর্জনীয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, চাকমারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং পৌরসভার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, ঢেমুশিয়া ও সাহারবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মাতামুহুরির কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বানের পানি ঢুকে পড়ে। এতে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, রাজাখালী, মগনামা, শিলখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকাও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যানচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সরকারি সহায়তা অনেক এলাকায় পৌঁছেনি।

এদিকে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ত্রাণ বিতরণের জন্য মজুদ রয়েছে খাদ্যসামগ্রী, মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা। প্রয়োজন হলে আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ৬ দিনে কক্সবাজারে ৬৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চন্দনাইশে বন্যার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোর, মিলল মরদেহ

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চন্দনাইশে বন্যার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোর, মিলল মরদেহ
মো. সাঈদ। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার চরতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দুরদুরী এলাকায় বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়া মো. সাঈদ (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় তীব্র স্রোতে ভেসে যায় সে।

সাঈদ চরতি ইউনিয়নের পশ্চিম দুরদুরী এলাকার বাসিন্দা এবং ফৌজলুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তীব্র স্রোতে ভেসে যায় সাঈদ। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও তার হাতে জাল বাঁধা থাকায় তাকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে পানির প্রচণ্ড স্রোতে সে তলিয়ে যায়। নিখোঁজের কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের ব্যাপক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

চরতি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রকাশ দত্ত জানান, সাঈদ মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম বিরাজ করছে। এলাকাবাসীও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে নদী, খাল ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ঝুঁকি বেড়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যার পানিতে নামার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, দিনাজপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, দিনাজপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে তিনটি হোটেল ও একটি বেকারিকে মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এ আদেশ দেন দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৫-এর বিচারক মো. সোহাগ হোসেন। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—শাহ হোটেল, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল, মামা-ভাগিনা হোটেল এবং তাজ বেকারি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাবার, মিষ্টি, দই ও খোরমা প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশে নানা অনিয়ম এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় সংশ্লিষ্ট মালিকরা আদালতের কাছে অভিযোগের বিষয়ে দোষ স্বীকার করেন।

পরে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা-সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাহ হোটেল, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল এবং মামা-ভাগিনা হোটেলকে এক লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা এবং তাজ বেকারিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে।

অভিযান শেষে বিচারক মো. সোহাগ হোসেন বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না।’