• ই-পেপার

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ

সম্পত্তির জন্য মাকে বাড়ি থেকে বের করা সেই ইঞ্জিনিয়ার ছেলে কারাগারে

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
সম্পত্তির জন্য মাকে বাড়ি থেকে বের করা সেই ইঞ্জিনিয়ার ছেলে কারাগারে

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সম্পত্তির জন্যে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া ও ভরণপোষণ না করার অভিযোগের মামলায় প্রকৌশলী ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সরিষাবাড়ী থানার ওসি ইকবাল হোসেন।

এর আগে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া এলাকায় রাশেদা বেগম নামের এক নারীকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাশেদা বেগম কুরআন শরীফ হাতে কান্নাজড়িত অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদারের স্ত্রী রাশেদা বেগম। গত ১০ বছর আগে স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর আগেই সম্পত্তি ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে প্রাপ্ত হারে বণ্টন করা হয়। এরপর বৃদ্ধা রাশেদা বেগম স্বামীর বসতবাড়িতে বসবাস করে আসলেও তার কোনো ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব পালন করে না ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির। উল্টো তার নামে ৩ বিঘা জমি ছেলের নামে লিখে দিতে চাপপ্রয়োগ করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও মায়ের ভরণপোষণ দিতে নারাজ ছেলে। ফের মায়ের কেনা জমি ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির তার নামে লিখে দিতে মাকে চাপপ্রয়োগ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ছেলে রাশেদুল বাড়িতে তালা দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। রাশেদা বেগম প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাড়ি উঠলে খবর পেয়ে ছেলে ফের মা রাশেদা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনায় রাশেদা বেগম বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির ও ছেলের স্ত্রী ফাতেমাতুজ্জ্বহুরা ওরফে স্মৃতি বেগমকে আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা করেন। রাতেই পুলিশ তাদের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া ও ভরণপোষণ না করায় রাশেদা বেগম নামের এক নারী ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর উত্তরা থেকে রাশেদুল ইসলাম জাকিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

চন্দনাইশে বন্যার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোর, মিলল মরদেহ

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চন্দনাইশে বন্যার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোর, মিলল মরদেহ
মো. সাঈদ। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার চরতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দুরদুরী এলাকায় বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়া মো. সাঈদ (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় তীব্র স্রোতে ভেসে যায় সে।

সাঈদ চরতি ইউনিয়নের পশ্চিম দুরদুরী এলাকার বাসিন্দা এবং ফৌজলুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তীব্র স্রোতে ভেসে যায় সাঈদ। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও তার হাতে জাল বাঁধা থাকায় তাকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে পানির প্রচণ্ড স্রোতে সে তলিয়ে যায়। নিখোঁজের কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের ব্যাপক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

চরতি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রকাশ দত্ত জানান, সাঈদ মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম বিরাজ করছে। এলাকাবাসীও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে নদী, খাল ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ঝুঁকি বেড়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যার পানিতে নামার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ১০ গ্রাম প্লাবিত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ১০ গ্রাম প্লাবিত
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা ২ দিনের ভারি বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রা‌তে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যার পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবারের ঘরে কোমর পর্যন্ত পানি ওঠে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রয়োজনীয় আসবাব, কাপড়-চোপড় ও মূল্যবান জিনিস ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে দেখা যায়। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছেন।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে গেছে। অনেক অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা কন্ট্রোল রুম চালু করেছি ও ঘটনাস্থলে রয়েছি। দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, দিনাজপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, দিনাজপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে তিনটি হোটেল ও একটি বেকারিকে মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এ আদেশ দেন দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৫-এর বিচারক মো. সোহাগ হোসেন। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—শাহ হোটেল, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল, মামা-ভাগিনা হোটেল এবং তাজ বেকারি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাবার, মিষ্টি, দই ও খোরমা প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশে নানা অনিয়ম এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় সংশ্লিষ্ট মালিকরা আদালতের কাছে অভিযোগের বিষয়ে দোষ স্বীকার করেন।

পরে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা-সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাহ হোটেল, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল এবং মামা-ভাগিনা হোটেলকে এক লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা এবং তাজ বেকারিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে।

অভিযান শেষে বিচারক মো. সোহাগ হোসেন বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না।’