• ই-পেপার

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, দিনাজপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারে টানা ৬ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার রামু, চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৪ লাখেরও বেশি মানুষ। বর্ষণজনিত পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কয়েকটি অংশ ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানিও বাড়ছে। সর্বশেষ চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধসে ২০ জন এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ও ডুবে ৪ জনসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ ওয়াকিম (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে তৌসিফ (১৪) ও রুমি আক্তার (১৭) নামের চাচাতো ভাই-বোন নিহত হন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে বিভিন্ন এলাকায় উপচে পড়েছে। রামু উপজেলার গর্জনীয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, চাকমারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং পৌরসভার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, ঢেমুশিয়া ও সাহারবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মাতামুহুরির কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বানের পানি ঢুকে পড়ে। এতে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, রাজাখালী, মগনামা, শিলখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকাও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যানচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সরকারি সহায়তা অনেক এলাকায় পৌঁছেনি।

এদিকে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ত্রাণ বিতরণের জন্য মজুদ রয়েছে খাদ্যসামগ্রী, মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা। প্রয়োজন হলে আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ৬ দিনে কক্সবাজারে ৬৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চন্দনাইশে বন্যার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোর, মিলল মরদেহ

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চন্দনাইশে বন্যার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোর, মিলল মরদেহ
মো. সাঈদ। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার চরতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দুরদুরী এলাকায় বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়া মো. সাঈদ (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় তীব্র স্রোতে ভেসে যায় সে।

সাঈদ চরতি ইউনিয়নের পশ্চিম দুরদুরী এলাকার বাসিন্দা এবং ফৌজলুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তীব্র স্রোতে ভেসে যায় সাঈদ। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও তার হাতে জাল বাঁধা থাকায় তাকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে পানির প্রচণ্ড স্রোতে সে তলিয়ে যায়। নিখোঁজের কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের ব্যাপক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

চরতি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রকাশ দত্ত জানান, সাঈদ মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম বিরাজ করছে। এলাকাবাসীও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে নদী, খাল ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ঝুঁকি বেড়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যার পানিতে নামার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ১০ গ্রাম প্লাবিত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ১০ গ্রাম প্লাবিত
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা ২ দিনের ভারি বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রা‌তে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যার পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবারের ঘরে কোমর পর্যন্ত পানি ওঠে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রয়োজনীয় আসবাব, কাপড়-চোপড় ও মূল্যবান জিনিস ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে দেখা যায়। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছেন।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে গেছে। অনেক অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা কন্ট্রোল রুম চালু করেছি ও ঘটনাস্থলে রয়েছি। দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রে নৌ ডাকাতি, ব্র্যাক কর্মকর্তাদের ৮ লাখ টাকা লুট

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রে নৌ ডাকাতি, ব্র্যাক কর্মকর্তাদের ৮ লাখ টাকা লুট

গাইবান্ধার ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদে প্রকাশ্য দিবালোকে নৌ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল নৌকার চালক ও যাত্রীদের পিস্তল ও ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও নারী যাত্রীর ব্যাগ। এসময় ব্র্যাক এনজিওর দুই কর্মকর্তার কাছ থেকে লুট করে নেওয়া হয় প্রায় ৮ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ডাকাতির সংবাদটি স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পারেন।

দুপুরে উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কাঁটাতারা থেকে ফজলুপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর ঘাটের খেয়া নৌকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ডাকাতের কবলে পড়া ব্র্যাক এনজিওর দুই কর্মকর্তা হলেন সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক নিরঞ্জন চন্দ্র রায় এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার (সিডিও) রাকিবুল হাসান। ওই নৌকায় ১০/১২ জন যাত্রী ছিলেন।

সূত্র জানায়, দুপুরে ফজলুপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর চরের খেয়া ঘাট থেকে সাইদুর রহমান নামের এক নৌকা চালক নৌকা ছাড়েন। নৌকাটি ছাড়ার আধা ঘণ্টা পরই ডাকাতদের কবলে পড়ে। ডাকাতরা যাত্রীদের পিস্তল ও ধারালো নানা অস্ত্র ধরে ব্র্যাকের দুই এনজিওকর্মীর থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা, তিন নারী যাত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ, দুটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।

চালক সাইদুর বলেন, একটি ছোট নৌকায় ৮-১০ জনের ডাকাত দল এ হানা দেয়। তারা তার কাছ থেকেও নৌকা ভাড়া কালেকশনের টাকা এবং এক মহিলার হাতে থাকা ১০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। তিনি বলেন, ডাকাতদের মুখ ঢাকা ছিল, তাদেরকে চেনা যায়নি।

নৌকার যাত্রী ও কাবিলপুর বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী বলেন, দুজন ডাকাত তাদের নৌকায় বসে পিস্তল তাক করে ছিল। তারা নৌকাযাত্রী তার মামাতো বোন জান্নাতির ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এইচএসসি পরীক্ষার্থী তার বোনের অ্যাডমিট কার্ড ওই ব্যাগে ছিল।

এ ব্যাপারে ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর (ক্ষুদ্র ঋণ) মোশাররফ হোসেন বলেন, ফজলুপুর ইউনিয়নে বৃহস্পতিবারের মাসিক কালেকশনে করে ব্র্যাকের ৬ জন স্টাফ। তাদের মধ্যে ব্র্যাকের সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক নিরঞ্জন চন্দ্র রায় এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার (সিডিও) রাকিব হাসান ওই সময় পর্যন্ত সকালের কালেকশনের ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা করার জন্য রওনা হন। বাকি সদস্যরা কালেকশন শেষ করে পরে আসতেন। কিন্তু নৌকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতরা তাদের পুরো টাকা লুট করে নেয়। তিনি বলেন, ব্র্যাকের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তারা ফুলছড়ি থানায় উপস্থিত হয়েছেন।

ফজলুপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম খাঁ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা রাত ১০টার দিকে বলেন, ভুক্তভোগীরা থানায় এসেছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে শুনেছি, তাদের কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ ঢাকা লুটে নিয়েছে ডাকাতরা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।