বিরল এক রোগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর দিল্লির এক হাসপাতালে মারা যান আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ এবং সাবেক পেস বোলার শাপুর জাদরান। একদিন পরেই ৩৯ বছরে পর্দাপন করতেন আফগানদের এ তারকা পেসার। মৃত্যুর পর তার দেহ উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কাবুলে।
প্রাক্তন সতীর্থের শেষ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রশিদ খান-মোহাম্মদ নবিরা। এমনকি তারা কাঁধে করে বইলেন শাপুরের কফিনও।
প্রাণঘাতী ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) রোগে আক্রান্ত হন শাপুর। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এত চেষ্টা সত্ত্বেও লাভ হয়নি। ২০১৭ সালে এক হামলার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। অজ্ঞাত আততায়ী তাকে উদ্দেশ করে গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু অসুস্থতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে গেলেন জাদরান।
বুধবার জাদরানের দেহ পৌঁছায় কাবুলে। বিমানবন্দর থেকেই কফিন কাঁধে তুলে নেন রশিদ-নবিরা। উপস্থিত ছিলেন আফগান ক্রিকেট সংস্থার সদস্য, জাদরানের পরিবার সবাই। বিমানবন্দর থেকে তার দেহ নিয়ে যাওয়া হয় ইদগাহ মসজিদে। সেখানে অন্তত ১ হাজার মানুষ অংশ নেন শেষ বিদায়ে। মসজিদ থেকে কাঁধে করে কফিন নিয়ে সমাধিস্থল পর্যন্ত যান আফগানিস্তানের প্রথম সারির ক্রিকেটার এবং জাদরানের পরিবারের সদস্যরা। মারানজান হিলে দাফন করা হয় আফগান ক্রিকেটের অন্যতম স্থপতিকে। চোখের পানিতে চিরবিদায় জানান রশিদ-নবিরা।
২০০৯ সালে অভিষেক হয় শাপুর জাদরানের। রিফিউজি হয়ে দীর্ঘদিন পাকিস্তানে কাটিয়েছেন। সেই সময় মোহাম্মদ নবি, দৌলত জাদরানদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু। ২০০৯ সালে আফগানিস্তান যখন প্রথম ওয়ানডে খেলে, সেই দলে ছিলেন শাপুর।
আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডেতে ৪৩টি উইকেট এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট পেয়েছিলেন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই থেমে গেল তার জীবন।




