• ই-পেপার

সংসদ অধিবেশন রবিবার বিকেল পর্যন্ত মুলতবি

দুর্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সেনাবাহিনী

অনলাইন ডেস্ক
দুর্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সেনাবাহিনী

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ফলে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারি যন্ত্রপাতির সহায়তায় মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়াও, দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদের পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কন্ট্রোলরুম চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কন্ট্রোলরুম চালু

মৌসুমি অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট ও সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কন্ট্রোলরুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ বৃহস্পতিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হানের স্বাক্ষর করা এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

দপ্তরাদেশে বলা হয়, গতকাল ৮ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর গ্রীন রোডে পানি ভবনের দ্বিতীয় তলায় কেন্দ্রটির কার্যালয়ে দিনরাত কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে।

এ জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া [email protected] এবং [email protected] ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।

স্থানীয় নির্বাচন

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

অনলাইন ডেস্ক
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট
সংগৃহীত ছবি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সব উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিবন্ধন কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩ (জ) অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০০৮ কমিশন নির্ধারণ করেছে। সে প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা ডেটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডেটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্তে বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের নিকট লিংক প্রেরণের শেষ তারিখ আগামী ৪ আগস্ট, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট।

এতে আরো বলা হয়, এ কার্যক্রম চলাকালীন মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকা জনসাধারণের পরিদর্শন ও ভুলত্রুটি সংশোধনের আবেদন দাখিলের আহ্বান জানিয়ে মসজিদ/মন্দিরসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে ইমাম/পুরোহিতগণের মাধ্যমে নামাজ/প্রার্থনার আগে বা পরে ঘোষণা প্রদান, স্থানীয় সাংবাদিক ও ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে জনস্বার্থে তা প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নগদ সহায়তা বাড়ানোসহ ৬ দাবি বস্ত্রশিল্প মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নগদ সহায়তা বাড়ানোসহ ৬ দাবি বস্ত্রশিল্প মালিকদের

দেশীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই রাখতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি, আয়কর সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং কাঁচামালের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। এ সময় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী ও সহসভাপতি আবুল কালামও বৈঠকে অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক চিঠিতে বিটিএমএ জানায়, দেশের স্পিনিং, উইভিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং খাতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এ শিল্পে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে এ খাত থেকে। তবে আমদানি করা সুতা ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে শিল্পটি বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছে।

সংগঠনটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রপ্তানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল, দেশীয় সুতা ব্যবহারে উৎসাহ দিতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা বর্তমান ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা এবং প্রাথমিক টেক্সটাইল খাতের জন্য ১২ শতাংশ আয়কর হার ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল রাখা।

এ ছাড়া পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ), পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, নগদ সহায়তার ওপর উৎসে করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করা এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের কিছু বিধান থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান হয়েছে, আর বাকি বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে। তিনি শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।