• ই-পেপার

ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন হুম্মাম কাদের

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুজন রিমান্ডে
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর গাবতলীতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে করা মামলায় ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মকবুল আহমেদ খান (৭৫) ও তার ব্যক্তিগত সহকারী নিছার উদ্দীন আকাশের (৩৬) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের গাবতলী ক্যাম্পাসের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় অনধিকার প্রবেশ করেন। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে আসামিরা সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের কক্ষে প্রবেশে বাধা দেন এবং তাণ্ডব চালান।

অভিযোগে আরো বলা হয়, আসামিরা অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেন। এ সময় আলমারিতে রক্ষিত ১৫ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র, হিসাব শাখার কাগজপত্র ও রেজিস্ট্রারের ট্র্যাজারার দপ্তরের স্পর্শকাতর নথিপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় মো. রাফিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় মামলাটি করেন। মামলা করার পর বুধবার ভোররাতে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে প্রধান আসামি ড. মকবুল আহমেদ খানকে এবং গাবতলী এলাকা থেকে নিছার উদ্দীন আকাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, চুরি হওয়া টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার এবং মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার ড. মকবুল আহমেদ খানের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় আরো দুটি মামলা চলমান।

১২৮ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ

অনলাইন ডেস্ক
১২৮ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ
সংগৃহীত ছবি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ বুধবারও আদালতে জমা পড়েনি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ আগামী ২৮ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৮ বার পেছানো হলো।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আজ বুধবার (২২ জুলাই) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তাই আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।

ওই দিন তিনি আদালতকে জানান, তিনি তদন্তভার নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। তদন্ত চলছে। আশা করা যায়, খুব শিগগির তদন্ত শেষ হবে। এই মামলার তদন্ত বিলম্বিত হওয়ায় আদালত সেদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তদন্তের দায়িত্ব থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে পিবিআইকে দায়িত্ব দেন। এরপর নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয় এই মামলায়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারওয়ার ওরফে সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন।

এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে তদন্ত শুরু করে থানা-পুলিশ। পরে তদন্তভার পায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরবর্তী সময়ে তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

উল্লেখ্য, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির ও তানভীর রহমান খান। বর্তমানে তানভীর ও পলাশ জামিনে এবং বাকিরা কারাগারে আছেন।

অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি পেছাল
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর বনানী থানার অস্ত্র আইনে করা এক মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের (অভিযোগ গঠন) শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২৩ আগস্ট শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ আদেশ দেন।

জানা যায়, এদিন মামলার চার্জগঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সুমন হোসাইন শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার মূল বা সিনিয়র আইনজীবী হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ অবস্থায় আসামিপক্ষের সুবিচারের স্বার্থে কিছুটা সময় প্রয়োজন, অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

শুনানিকালে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নামে বনানী থানার অধীনে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনিসুল হক তার ব্যবহৃত পিস্তলটি জমা দেননি বা এ বিষয়ে থানাকে কিছু জানাননি। অনুসন্ধানে পুলিশ আসামির ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পায়নি এবং অস্ত্র জমা বা গুলি কেনার বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীকালে এ ঘটনায় বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. জানে আলম দুলাল বাদী হয়ে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট বনানী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মো. ইয়াদুল হক আদালতে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট নৌপথে পালানোর সময় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাবশালী উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

১ মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন

অনলাইন ডেস্ক
১ মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের হবিগঞ্জে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি শেখ জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে এ জামিন দেন। এদিন ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার পূর্ণিমা জাহান।

জানা গেছে, সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের আরো ৪টি মামলা জামিন শুনানির অপেক্ষায় আছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের নতুন ব্রিজ গোলচত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ জড়ো বিক্ষোভ করছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনরত তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং গুলিবর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মো. মোস্তাফিজুর রহমান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনসহ ৯৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওই বছর ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টায় রাজধানীর মিরপুর-৬ থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর খিলগাঁও ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিনের রুল বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এই জামিন পাওয়ার পরও এখনই তার কারাগার থেকে মুক্তি মিলছে না।

ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন হুম্মাম কাদের | কালের কণ্ঠ